উমরাহ সফরে কি কসর নামাজ পড়তে হবে?
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
১। ১৫ দিনের জন্য উমরাহ সফরে গেলে ৮ দিন মক্কা এবং ৭ দিন মাদীনাহ তে অবস্থান করতে হবে। সেক্ষেত্রে যোহর আসর আর ইশা কি কসর আদায় করতে হবে?
২। পিরিয়ড অবস্থায় যদি মিকাত পার হওয়ার পর ইহরাম না করা হয় তাহলে কি দম ফরজ হয়?
৩। তাওয়াফ করার পর যেই ২ রাকাত নামাজ আদায় করতে হয় সেটা ফরজ সুন্নাত নাকি ওয়াজিব? যদি আদায় করা না হয় তাহলে কি গুনাহ হওয়ার আশঙ্কা আছে?
Answer
উমরাহ সফর সংক্রান্ত তিনটি মাসআলার বিস্তারিত উত্তর
উত্তর নং ১: উমরাহ সফরে কসর নামাজের বিধান
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, মুসাফির ব্যক্তি কসর নামাজ আদায় করবে যদি সে ৪৮ মাইল (প্রায় ৭৭ কিলোমিটার) বা তার বেশি দূরত্বের সফরে থাকে এবং ১৫ দিনের কম সময়ের জন্য অবস্থানের নিয়ত করে।
আপনার প্রশ্নে বলা হয়েছে ১৫ দিনের জন্য উমরাহ সফরে যাবেন, যার মধ্যে ৮ দিন মক্কায় এবং ৭ দিন মাদীনায় অবস্থান করবেন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
হানাফি মাযহাবের মূলনীতি (Radd al-Muhtar, Fatawa Alamgiri):
"মুসাফির যদি কোনো এক স্থানে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করে, তবে সে মুকিম হয়ে যাবে এবং কসর করবে না। আর যদি ১৫ দিনের কম নিয়ত করে, তবে সে মুসাফির থাকবে এবং কসর করবে।"
আপনার ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ:
১. মক্কায় ৮ দিন: যেহেতু ৮ দিন ১৫ দিনের কম, তাই মক্কায় অবস্থানকালে আপনি মুসাফির থাকবেন → যোহর, আসর ও ইশা ৪ রাকাতের পরিবর্তে ২ রাকাত কসর পড়বেন।
২. মাদীনায় ৭ দিন: এখানেও ১৫ দিনের কম, তাই মুসাফির থাকবেন → কসর পড়বেন।
৩. সফরের পথে: সফররত অবস্থায়ও কসর পড়বেন।
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত (Imdad al-Fatawa, Fatawa Usmani):
-
মক্কা ও মাদীনায় আলাদা আলাদা অবস্থান হিসেবে গণনা হবে, একত্রে ১৫ দিন নয়। কারণ, হানাফি মাযহাব মতে, একই স্থানে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করতে হবে। মক্কা ও মাদীনা দুটি ভিন্ন স্থান, তাই এখানে ১৫ দিনের হিসাব একত্রে হবে না।
-
যদি আপনি মক্কায় ৮ দিন এবং মাদীনায় ৭ দিন, মোট ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করেন, তবে হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী একত্রে ১৫ দিন গণনা হবে না, কারণ দুটি ভিন্ন শহর। তবে কিছু ফকিহ এটিকে এক সফর হিসেবে গণ্য করেছেন। ইহতিয়াত (সতর্কতা) হলো: আপনি মুসাফির হিসেবে কসর পড়বেন, কারণ ১৫ দিন পূর্ণ হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত নন এবং ভিন্ন স্থানে অবস্থান।
সিদ্ধান্ত:
- যোহর, আসর ও ইশা: ২ রাকাত কসর পড়বেন।
- ফজর ও মাগরিব: পূর্ণ ২ ও ৩ রাকাত যথাক্রমে পড়বেন (কসর নেই)।
- সুন্নাত ও নফল: কসর অবস্থায় সুন্নাতে মুআক্কাদাহ পড়া যাবে, তবে ফরজের পরের সুন্নাত হালকা করা উত্তম।
রেফারেন্স:
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১২৭-১৩০
- ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৯
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৪৫
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩২৫
উত্তর নং ২: পিরিয়ড অবস্থায় মিকাত পার হওয়ার পর ইহরাম না করার বিধান
প্রশ্নের সারমর্ম: যদি কোনো মহিলা পিরিয়ড অবস্থায় মিকাত অতিক্রম করেন এবং ইহরাম না বাঁধেন, তাহলে কি দম (দমে শোকর বা জরিমানা) ফরজ হবে?
হ্যাঁ দম ওয়াজিব হবে। যদি আপনি ওমরা করার আগে কোন একটি মিকাতে গিয়ে এহরাম এর নিয়ত করেন, সেক্ষেত্রে আপনার থেকে দমের বিধান রহিত হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে আঈশা মসজিদ থেকে ইহরামের নিয়ত করলে হবেনা।
তায়েফে বা মদিনাত যুলহুলাইফা বা অন্য কোনো মিকাতে গিয়ে ইহরামের নিয়ত করতে হবে।
হানাফি মাযহাবের বিধান:
মূলনীতি (Radd al-Muhtar, Al-Hidayah):
"মিকাত অতিক্রম করার সময় ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব। যদি কেউ ইহরাম না বেঁধে মিকাত অতিক্রম করে, তবে তাকে দম দিতে হবে (একটি ছাগল বা ভেড়া কুরবানি করা), যদি সে আবার মিকাতে ফিরে গিয়ে ইহরাম বাঁধে। আর যদি মিকাতে ফিরে না যায়, তবে তার হজ/উমরাহ বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে পুনরায় হজ/উমরাহ করতে হবে।"
উত্তর নং ৩: তাওয়াফের পর ২ রাকাত নামাজের বিধান
প্রশ্নের সারমর্ম: তাওয়াফ করার পর যে ২ রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়, সেটা ফরজ, সুন্নাত নাকি ওয়াজিব? না পড়লে কি গুনাহ হবে?
হানাফি মাযহাবের বিধান:
তাওয়াফের পর ২ রাকাত নামাজের হুকুম:
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, **তাওয়াফের পর ২ রাকাত নামাজ পড়া ওয়াজিব।
কেহ কেহ সুন্নাত** (সুন্নাতে মুআক্কাদাহ) বলেছেন। আদায় না করলে গুনাহ হবে।
দলিল:
কুরআন:
"আর তোমরা মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।" (সূরা আল-বাকারা: ১২৫)
এই আয়াতে "মাকামে ইব্রাহিমে নামাজ পড়া"র নির্দেশ আছে, তবে এটি ফরজ নয়, বরং সুন্নাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
হাদিস:
"তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ পড়ো।" (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৬২৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১২১৮)