নানুর বোনের সাথে দেখা দেয়া কি জায়েজ

Family Life · Hanafi

Question No: 5815
Questioner: Irfan Ahmad
Question Asked: 22 Sep 2026, 03:00 PM
Reviewed & Published: 22 Sep 2026, 03:20 PM
Views: 11
Tokens: 2,684
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
আমি একজন ছেলে
আমার নানুর বোনের সাথে এবং নানুর বোনের মেয়ের সাথে দেখা দেয়া কি জায়েজ আছে?

Answer

উত্তর (ফতোয়া)

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
আপনার নানুর বোন আপনার জন্য মাহরাম (যার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও পর্দা ছাড়া কথা বলা জায়েজ), কারণ তিনি আপনার নানীর বোন বা নানুর বোন—যিনি আপনার মায়ের খালা বা ফুফু পর্যায়ের। আর নানুর বোনের মেয়ে আপনার জন্য নন-মাহরাম (যার সাথে পর্দা করা ফরজ), কারণ তিনি আপনার খালাতো/ফুফাতো বোন পর্যায়ের নন; বরং তিনি আপনার মায়ের খালাতো বোন বা মামাতো বোনের সন্তান—যিনি আপনার জন্য বিবাহযোগ্য আত্মীয়দের অন্তর্ভুক্ত।


বিস্তারিত:

১. মাহরাম কারা?
কুরআনে সূরা আন-নূর (২৪:৩১) এবং সূরা আন-নিসা (৪:২৩)-এ যাদের সাথে পর্দা নেই তাদের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: মা, দাদি-নানি, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে ইত্যাদি।

২. নানুর বোন:
আপনার নানুর বোন আপনার নানীর বোন। তিনি আপনার মায়ের খালা। হাদিসে খালাকে মায়ের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«الْخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الأُمِّ»
“খালা মায়ের মর্যাদায়।”
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯০৪; মুসনাদে আহমাদ)

আর আপনার নানুর বোন আপনার মায়ের খালা বা ফুফু—যিনি আপনার মাহরাম। সুতরাং তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, সালাম-কালাম করা জায়েজ। তবে শর্ত হলো:

  • ফিতনার আশঙ্কা না থাকা।
  • শরীয়তের পর্দার বিধান মেনে চলা (যদি তিনি নন-মাহরাম পুরুষের সামনে না থাকেন)।
  • অশ্লীল বা কামোত্তেজক দৃষ্টি না হওয়া।

৩. নানুর বোনের মেয়ে:
তিনি আপনার নানুর বোনের কন্যা। তিনি আপনার মায়ের খালাতো বোন। আপনার জন্য তিনি নন-মাহরাম। কারণ তিনি আপনার মাহরামদের তালিকায় পড়েন না। তিনি আপনার বিবাহযোগ্য আত্মীয়। সুতরাং তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, একান্তে মিলিত হওয়া, বিনা পর্দায় কথা বলা জায়েজ নয়। তাকে পর্দা করতে হবে।

৪. দলিল:
আল্লাহ তা'আলা বলেন:

«وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا...»
“মুমিন নারীদের বলুন, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখবে, তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করবে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না, তবে যা প্রকাশ্য...”
(সূরা আন-নূর: ৩১)

আর নন-মাহরাম পুরুষ-নারীর একান্তে মিলিত হওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ»
“কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে একান্তে মিলিত হবে না,除非 তার মাহরাম همراه থাকে।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৩৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪১)

৫. হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহ:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): “নন-মাহরাম নারীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও কথা বলা ফিতনার আশঙ্কা থাকলে হারাম; আশঙ্কা না থাকলেও পর্দার বিধান মানা আবশ্যক।”
  • ফতোয়ায়ে আলমগিরি: “নন-মাহরাম নারীর সাথে একান্তে মিলিত হওয়া নিষিদ্ধ।”
  • বাহিশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী): “নন-মাহরাম আত্মীয়দের সাথে পর্দা করা ফরজ।”
  • ইমদাদুল ফতোয়া (মুফতি মুহাম্মদ শফি): “খালা, ফুফু, নানি, দাদি মাহরাম; কিন্তু তাদের সন্তানরা নন-মাহরাম।”

উপসংহার:

  • নানুর বোন: মাহরাম → দেখা-সাক্ষাৎ জায়েজ।
  • নানুর বোনের মেয়ে: নন-মাহরাম → পর্দা ফরজ, দেখা-সাক্ষাৎ জায়েজ নয়।
  • উভয় ক্ষেত্রেই ফিতনা থেকে বেঁচে থাকা ও শরীয়তের সীমা রক্ষা করা অপরিহার্য।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.