বিদেশি ক্লায়েন্টের জন্য ওয়েবসাইট বানানো বা তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা ইসলামের দৃষ্টিতে কেমন?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5721
Questioner: Rafi Chowdhury
Question Asked: 20 Sep 2026, 12:34 PM
Reviewed & Published: 20 Sep 2026, 12:40 PM
Views: 14
Tokens: 13,000
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিদেশি ক্লায়েন্টের জন্য ওয়েবসাইট বানানো বা তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা ইসলামের দৃষ্টিতে কেমন?

আমি ওয়েবসাইট বানাতে পারি। এখন কোনো কাফের, বিদেশি অথবা কোনো মুসলিম ভাই যদি আমাকে এমন একটি ওয়েবসাইট বানাতে বলেন, যেখানে মিউজিক থাকবে বা বেপর্দা মেয়েদের ছবি/ভিডিও থাকবে, তাহলে কি আমি সেই ওয়েবসাইট বানিয়ে দিতে পারব? নাকি এটা নিজে পাপ না করেও অন্যকে পাপে সহযোগিতা করার মধ্যে পড়ে?

আমি কোথাও শুনেছিলাম, " যার যার পাপের ভার সে নিজেই বহন করবে”, এরকম আয়াত বা হাদীস আছে।
তাহলে এখানে আমার কি কোনো পাপ হবে? কারণ আমি তো শুধু ক্লায়েন্টের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছি এবং তিনি ওয়েবসাইটে যা যা রাখতে বলছেন, আমি সেগুলোই তৈরি করে দিচ্ছি।

এভাবে কাজ করে যে আয় হবে, সেটা কি হালাল হবে? আমার করণীয় কী?

আরেকটি বিষয় হলো—বর্তমানে অনেকেই পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে ভিডিও করে এবং সেগুলো অনলাইনে প্রকাশ করে। সেখানে অনেক মেয়ে/মহিলাও ক্যামেরার সামনে কথা বলেন। তারা জানেন যে তাদের ভিডিও রেকর্ড হচ্ছে এবং অনলাইনে প্রকাশিত হবে।

যদি কোনো মেয়ে বা মহিলা স্বেচ্ছায় ক্যামেরার সামনে কথা বলেন এবং আমি সেই ভিডিও আমার ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করি, তাহলে কি এতে আমার পাপ হবে? কারণ আমার প্রকাশ করা ভিডিওর মাধ্যমে আরও অনেক মানুষ ওই মেয়ে/মহিলাকে দেখতে পারবে। সেই কারণে অন্যরা কোনো পাপ করলে তার দায় কি আমার ওপরও আসবে?

বিশেষ করে, ওই মেয়ে/মহিলা যদি এমনিতেই পর্দা না করে চলাফেরা করেন এবং তিনি জানেন যে তার রেকর্ড করা ভিডিও অনেক মানুষ দেখবে, তাহলে ইসলামী দৃষ্টিতে আমার দায়িত্ব কী?

আরেকটি উদাহরণ: আমি যদি কোনো হোটেল বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট বানাই এবং তারা আমাকে তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ছবি ওয়েবসাইটে দিতে বলে—যেখানে নারী কর্মীদের ছবিও থাকতে পারে—তাহলে সেই ছবিগুলো ওয়েবসাইটে দেওয়ার কারণে কি আমার পাপ হবে? সেই ওয়েবসাইট বানিয়ে যে আয় করব, সেটা কি হালাল হবে?

অথবা আমি যদি এমন সিস্টেম রাখি, ওয়েবসাইটে আমি ছবি যুক্ত করব না,কিন্তু একটা সিস্টেম রাখব, যার জন্য ওয়েবসাইট বানাচ্ছি, তিনি চাইলে এই ওয়েবসাইটে তার মন মত ছবি রাখতে পারবেন, সেক্ষেত্রে কি এটা কি আমার পাপ হবে?

সামগ্রিকভাবে, আমি একজন ওয়েবসাইট ডেভেলপার হিসেবে কী ধরনের কাজ বা কনটেন্ট তৈরি/প্রকাশ করলে আমার আয় হালাল থাকবে? কোন ক্ষেত্রে অন্যকে পাপে সহযোগিতা করা হবে, আর কোন ক্ষেত্রে শুধু একটি বৈধ সেবা প্রদান করা হিসেবে গণ্য হবে?

আমি কিভাবে হালাল ভাবে কাজ করতে পারি??


আর একটা ব্যাপার, একটা কোম্পানির প্রডাক্ট হালাল, কিন্তু প্রডাক্ট প্রচারে মেয়ে, মিউজিক ব্যবহার করা হয়, এখন সেই কোম্পানির প্রডাক্ট এনালাইসিস করা,কোন প্রডাক্ট কিভাবে আরো উন্নতি করা যায়, বা আমি যদি ঐ কোম্পানি প্রডাক্ট অন্যদের কাছে প্রমোট করি,সাজেস্ট করি,
এসব কাজ করা ইনকাম করা কি হালাল হবে?

আমি আসলেই অনেক চিন্তিত, আমি কিভাবে হালাল ভাবে কিছু করব?

Answer

বিদেশি ক্লায়েন্টের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি ও হারাম কনটেন্ট: ইসলামী দৃষ্টিকোণ

উত্তর (সংক্ষেপে):
হারাম কনটেন্ট (মিউজিক, বেপর্দা নারীর ছবি/ভিডিও, অশ্লীলতা) সম্বলিত ওয়েবসাইট তৈরি করা, ডিজাইন করা বা তাতে কারিগরি সহযোগিতা করা নাজায়েজ ও গুনাহ। এ ধরনের কাজের পারিশ্রমিক/আয় হালাল নয়। কারণ এটি সরাসরি হারাম কাজে সহযোগিতা, যা কুরআন-হাদীসে নিষিদ্ধ।


১. মূল নীতি: হারাম কাজে সহযোগিতা নিষিদ্ধ

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

“নেক কাজ ও তাকওয়ায় একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না।” — (সূরা আল-মায়িদা: ২)

وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেন: “কোনো ব্যক্তি যদি অন্যকে গুনাহের কাজে সাহায্য করে, তবে সে গুনাহগার হবে, যদিও সে নিজে সেই গুনাহ করে না।”
— (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৯১, দারুল ফিকর)

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে আছে:

“কেউ যদি কোনো হারাম কাজের জন্য সরঞ্জাম বা মাধ্যম তৈরি করে দেয়, তবে সে গুনাহে শরিক হবে।”
— (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৪৮)

ফাতাওয়া উসমানি-তে মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:

“বর্তমানে ইন্টারনেট, মিডিয়া ও সফটওয়্যার ক্ষেত্রে হারাম কনটেন্ট তৈরি, প্রচার বা সহযোগিতা করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। এ ধরনের কাজ থেকে আয় হারাম।”
— (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৪২৫)

ওয়েবসাইট ডেভেলপারের জন্য হালাল-হারামের সীমারেখা

(ক) যা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ:

  1. মিউজিক, গান-বাজনা সম্বলিত ওয়েবসাইট তৈরি করা।
  2. বেপর্দা নারীর ছবি/ভিডিও প্রদর্শনকারী ওয়েবসাইট তৈরি করা।
  3. পর্নোগ্রাফি, অশ্লীলতা, জুয়া, সুদ, মদ, ক্লাব, নাইট ক্লাব ইত্যাদির ওয়েবসাইট তৈরি করা।
  4. হারাম প্রোডাক্ট (মদ, জুয়া, সুদভিত্তিক ব্যাংক, বীমা) প্রচারের ওয়েবসাইট তৈরি করা।
  5. এমন সিস্টেম তৈরি করা যা সরাসরি হারাম কনটেন্ট আপলোড/প্রচারে সহায়ক।

এসব কাজের আয় হারাম।
— (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৪২৫-৪৩০; ফাতাওয়া রহিমিয়া, খণ্ড ৯, পৃ. ২৪৫)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.