চাকরির ক্ষেত্রে মেয়েদের বিধান।

Family Life · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 5720
Questioner: md. aktaruzzaman
Question Asked: 20 Sep 2026, 11:48 AM
Reviewed & Published: 20 Sep 2026, 12:21 PM
Views: 14
Tokens: 6,067
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ্। মেয়েদের চাকরির ক্ষেত্রে বিধান কি?
আমার হাজবেন্ডের ইনকাম দিয়ে আমাদের মৌলিক চাহিদা যথাযথ ভাবে পূরণ হয় না।৩ বছরের বাচ্চার সাধারণ প্রয়োজনীয় জিনিসও কেনা কষ্ট হয়ে যায়।যেখানে ননদ শাশুড়ীর ভরণ পোষণও দিতে পারেনা।

এমতাবস্থায় আমি যদি পর্দা মেনে চাকরি করি তাহলে কি জায়েজ হবে।উল্লেখ্য বিলাসিতা করতে নয় বরং মোলিক চাহিদা পূরণ করতেই চাচ্ছি চাকরি করতে।হাজবেন্ডের যথেষ্ট ইনকাম থাকলে কখনোই বাইরের ফিতনা যুক্ত জায়গায় যেতাম না।নিরুপায় হয়ে পরেছি।অভাবের কারণে সংসারে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বেসিক চিকিৎসাও করতে পারছি না কারোর।

অনলাইন অফলাইন ব্যবসা করবো পুজি নেই।রিলেটিভি থেকেও হেল্প পাচ্ছি না।তাি চাচ্ছি।প্রয়োজন পূরণ করে সেভিংস করে ৩/৪ বছর চাকরি করে ঘরে বসে ব্যবসা করবো।বড় ইচ্ছে বাচ্চার হিফজ জার্নির সাথে নিজেরও হিফজ জার্নি শুরু করবো এবল তখন যেন আর্থিক পেরেশানি না থাকে ইন শা আল্লাহ। তাই জানতে চাচ্ছি প্রয়োজনে আমার ক্ষেত্রে চাকরি জায়েজ হবে কিনা।

Answer

মেয়েদের চাকরির বিধান — প্রেক্ষাপট ও শরীয়াহর দৃষ্টিভঙ্গি

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার, যিনি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য রিযিকের দায়ভার নির্ধারণ করেছেন এবং পুরুষকে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব দিয়েছেন।


১. মূলনীতি: ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর উপর

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"পুরুষরা নারীদের উপর দায়িত্বশীল, কারণ আল্লাহ তাদের এককে অন্যদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং因为他们 নিজেদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে।" — (সূরা আন-নিসা: ৩৪)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"তোমাদের উপর তোমাদের স্ত্রীদের ভরণপোষণ ও পোশাকের দায়িত্ব রয়েছে ন্যায়সংগতভাবে।" — (সহীহ মুসলিম: ১২১৮)

সুতরাং পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্ব প্রথমত স্বামীর। স্ত্রীর চাকরি করা তার দায়িত্ব নয়, বরং এটি তার অধিকার যে স্বামী তাকে ভরণপোষণ দেবে।


২. নারীর চাকরির মূল বিধান

ইসলামে নারীর চাকরি করা মূলত জায়েজ, তবে কতগুলো শর্তসাপেক্ষে:

শর্তসমূহ:

ক) পূর্ণ পর্দা রক্ষা করা

  • চেহারা ও শরীর ঢেকে রাখা (নিকাবসহ)
  • পরপুরুষের সাথে নির্জনতা (খালওয়া) পরিহার করা
  • কোমল/আকর্ষণীয় কণ্ঠে কথা না বলা

আল্লাহ বলেন:

"তোমরা ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।" — (সূরা আল-আহযাব: ৩৩)

খ) মাহরাম পুরুষের সাথে কাজ বা নিরাপদ পরিবেশ

  • যেখানে পুরুষ-নারীর অবাধ মেলামেশা (ফ্রি-মিক্সিং) নেই
  • যেখানে খালওয়া (নির্জনে একা একা সাক্ষাৎ) নেই

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে একা থাকে না, তবে তৃতীয়জন হয় শয়তান।" — (সহীহ বুখারী: ৫২৩৩)

গ) কাজটি নিজেই হারাম না হওয়া

  • সুদ, মদ, বিনোদন, বেপর্দা পরিবেশ ইত্যাদি হারাম কাজ নয়

ঘ) স্বামীর অনুমতি

  • ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন: "নারীর জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়া বা চাকরি করা বৈধ নয়, যদি তা স্বামীর অধিকারের পরিপন্থী হয়।"
  • (মাজমুউল ফাতাওয়া: ৩২/২৮১)

৩. আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বিশ্লেষণ

আপনার অবস্থা নিম্নরূপ:

| বিষয় | অবস্থা | |------|--------| | স্বামীর আয় | মৌলিক চাহিদা পূরণে অপর্যাপ্ত | | সন্তানের প্রয়োজন | ৩ বছরের বাচ্চার সাধারণ জিনিসও কিনতে কষ্ট | | চিকিৎসা | বেসিক চিকিৎসাও করতে পারছেন না | | বিকল্প উপায় | ব্যবসার পুঁজি নেই, আত্মীয়দের সহায়তা নেই | | উদ্দেশ্য | বিলাসিতা নয়, মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সঞ্চয় করে পরে ব্যবসা | | পরিকল্পনা | ৩/৪ বছর চাকরি → ঘরে বসে ব্যবসা → হিফজ জার্নি |

ফকীহদের মত:

ইবনে কুদামা রহ. বলেন: "নারীর জন্য বাইরে কাজ করা বৈধ, যদি তা শরীয়তসম্মত হয় এবং স্বামীর অনুমতি থাকে।" — (আল-মুগনী: ৭/৩৩৫)

শাইখ ইবনে উসাইমীন রহ. বলেন: "নারীর চাকরি করা মূলত জায়েজ, তবে শর্ত হলো—পর্দা রক্ষা, ফিতনা থেকে বাঁচা, এবং স্বামীর অনুমতি। যদি স্বামীর আয় পরিবারের জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে নারীর চাকরি করা জায়েজ।" — (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব, লিক্বা ৪২)

শাইখ ইবনে বায রহ. বলেন: "নারীর জন্য বাইরে কাজ করা জায়েজ, যদি প্রয়োজন হয় এবং পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করা হয়। তবে ঘরে থাকাই তার জন্য উত্তম।" — (মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বায: ২১/২৯)


৪. আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর

আপনার ক্ষেত্রে চাকরি করা জায়েজ হবে, যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হয়:

  1. স্বামীর অনুমতি — অবশ্যই স্বামীর সম্মতি নিতে হবে
  2. পূর্ণ পর্দা — নিকাব, ঢিলেঢালা পোশাক, পরপুরুষের সাথে সীমিত কথা
  3. ফিতনামুক্ত পরিবেশ — যেখানে পুরুষ-নারীর অবাধ মেলামেশা নেই
  4. হারাম কাজ নয় — সুদ, বেপর্দা, বিনোদন ইত্যাদি নয়
  5. প্রয়োজনের ভিত্তিতে — বিলাসিতা নয়, মৌলিক চাহিদা পূরণ
  6. নিরাপদ যাতায়াত — মাহরামের সাথে যাওয়া-আসা বা নিরাপদ পরিবহন

বিশেষ দৃষ্টিকোণ: আপনার উদ্দেশ্য প্রশংসনীয় — বিলাসিতা নয়, বরং সন্তানের প্রয়োজন পূরণ, চিকিৎসা, এবং ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার পরিকল্পনা। ইসলাম প্রয়োজনের সময় নারীর চাকরিকে অনুমতি দেয়।


৫. গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

ক) স্বামীর সাথে আলোচনা করুন

প্রথমে স্বামীর সাথে বসে পরিকল্পনা করুন। তিনি অনুমতি দিলে তবেই এগোবেন।

খ) ঘরে বসে করার মতো কাজ খুঁজুন

  • অনলাইন টিউশন (পর্দার সাথে)
  • হিফজ/কুরআন শিক্ষিকা (মহিলাদের জন্য)
  • হোম-বেসড কুটির শিল্প
  • অনলাইন কোর্স/কনটেন্ট ক্রিয়েশন (পর্দা রক্ষা করে)

গ) ফিতনা থেকে সতর্ক থাকুন

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"আমি পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে বেশি ফিতনাকর কিছু রেখে যাইনি।" — (সহীহ বুখারী: ৫০৯০)

ঘ) দুআ করুন

"আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।" (হে আল্লাহ! তোমার হালাল দ্বারা আমাকে হারাম থেকে বাঁচাও এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্য সবার থেকে স্বাবলম্বী করো।) — (তিরমিযী: ৩৫৬৩, হাসান)


সারসংক্ষেপ

| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|--------| | মেয়েদের চাকরি কি জায়েজ? | হ্যাঁ, শর্তসাপেক্ষে | | আপনার ক্ষেত্রে? | জায়েজ, যদি পর্দা+স্বামীর অনুমতি+ফিতনামুক্ত পরিবেশ থাকে | | উত্তম কী? | ঘরে বসে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা | | অপরিহার্য শর্ত | স্বামীর অনুমতি ও পূর্ণ পর্দা |

উপসংহার: আপনার অবস্থা বিবেচনায়, পূর্ণ পর্দা ও স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে চাকরি করা জায়েজ। তবে চেষ্টা করুন এমন কাজের যা ঘরে বসে বা নারী-শিক্ষিকা হিসেবে করা যায়, যাতে ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকেন। আল্লাহ আপনার রিযিক প্রশস্ত করুন এবং পরিবারকে হেফাজত করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.