হায়েজ শুরু হয় কখন থেকে — কালচে স্রাব থেকে না রক্তস্রাব থেকে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 5710
Questioner: Esrat Jahan
Question Asked: 19 Sep 2026, 11:30 PM
Reviewed & Published: 20 Sep 2026, 02:35 AM
Views: 33
Tokens: 3,995
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার গতমাসে হায়েজ হয়েছিল ১৮ তারিখ।এই মাসে আজকে ১৯ তারিখ এশার ওয়াক্তে মাটি কালারের স্রাব দেখেছি টিস্যুতে।তরল রক্ত আসে নাই।তবে আমার বেশিরভাগ মাসেই এভাবে প্রথমে (কাল/ লালচে/বাদামী/মাটি কালারের)স্রাব আসে। তার কিছুপর বা কয়েক ওয়াক্ত পার হয়ে তরল রক্ত আসা শুরু হয়।
আমি কি এই স্রাবকে হায়েজ ধরে নামায বন্ধ রাখব নাকি তরল রক্ত যখন থেকে আসবে তখন থেকে হায়েজ ধরব?

Answer

হায়েজের শুরু: মাটি কালার/বাদামী স্রাব কি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, মাটি কালার, বাদামী বা কালচে স্রাবও হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে — যদি তা আপনার স্বাভাবিক হায়েজের সময়কালের (অর্থাৎ পূর্ববর্তী মাসের হায়েজের তারিখ থেকে হিসাব করে) মধ্যে পড়ে এবং তা হায়েজের সর্বনিম্ন সময়সীমা (৩ দিন = ৭২ ঘণ্টা) পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রথম স্রাব দেখার সময় থেকেই নামায বন্ধ রাখবেন, তরল রক্ত আসার জন্য অপেক্ষা করবেন না।


বিস্তারিত ফিকহি আলোচনা

১. হায়েজের রঙ সম্পর্কিত হুকুম

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, হায়েজের রক্ত সাধারণত ছয় প্রকার রঙের হতে পারে:

| রঙ | আরবি নাম | হায়েজ হিসেবে গণ্য? | |---|---|---| | কালো | أسود | হ্যাঁ | | লাল | أحمر | হ্যাঁ | | লালচে-হলুদ | أحمر مصفر | হ্যাঁ | | হলুদ | أصفر | হ্যাঁ (হায়েজের সময়কালে হলে) | | বাদামী/মাটি কালার | أكدر | হ্যাঁ (হায়েজের সময়কালে হলে) | | সবুজ/ধূসর | أخضر | হায়েজের সময়কালে হলে হ্যাঁ |

দলিল: উম্মে আতিয়া (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

«كُنَّا لَا نَعُدُّ الصُّفْرَةَ وَالْكُدْرَةَ شَيْئًا»

"আমরা (সাহাবিয়ারা) হলুদ ও বাদামী স্রাবকে কিছু (অর্থাৎ হায়েজ) হিসেবে গণ্য করতাম না।"

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৬ (ইমাম বুখারির ভাষ্য: এটি হায়েজ থেকে পবিত্র থাকার সময়ের কথা)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ব্যাখ্যা: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন — "হলুদ ও বাদামী স্রাব তখনই হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না, যখন তা হায়েজের সময়কালের বাইরে হয়। আর যদি হায়েজের সময়কালের ভেতরে হয়, তাহলে তা হায়েজই।"

রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া (ইমাম বুরহানুদ্দীন আল-মারগীনানী), কিতাবুত তাহারাত, অধ্যায়: হায়েজ
  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী), খণ্ড ১, পৃ. ২৯৮-২৯৯
  • ফাতাওয়া আলমগীরি, খণ্ড ১, পৃ. ৪১

২. হায়েজের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়

  • সর্বনিম্ন হায়েজ: ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা)
  • সর্বোচ্চ হায়েজ: ১০ দিন ১০ রাত (২৪০ ঘণ্টা)
  • দুই হায়েজের মধ্যে সর্বনিম্ন পবিত্রতা: ১৫ দিন
  • দুই হায়েজের মধ্যে সর্বোচ্চ পবিত্রতা: কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই

রেফারেন্স: আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত; রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৩

৩. আপনার প্রশ্নের প্রয়োগ

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  • গত মাসে হায়েজ শুরু: ১৮ তারিখ
  • এই মাসে প্রথম স্রাব দেখা: ১৯ তারিখ, এশার ওয়াক্তে (মাটি কালার)
  • আপনার অভ্যাস: প্রায় প্রতি মাসেই প্রথমে কাল/লালচে/বাদামী/মাটি কালার স্রাব আসে, তারপর কয়েক ওয়াক্ত পর তরল রক্ত আসে

ফিকহি বিশ্লেষণ:

১. যেহেতু আপনার পূর্ববর্তী মাসের হায়েজ ১৮ তারিখে শুরু হয়েছিল, তাই এই মাসে ১৯ তারিখে স্রাব দেখা মানে তা আপনার স্বাভাবিক হায়েজের সময়কালের মধ্যেই পড়েছে (কারণ দুই হায়েজের মধ্যে ১৫ দিন পূর্ণ হয়েছে — ১৮ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৩০ দিন)।

২. হানাফি মাযহাবের মূলনীতি হলো — "হায়েজের সময়কালে যে কোনো স্রাব (বাদামী, মাটি কালার, হলুদ) হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে।"

৩. তাই ১৯ তারিখ এশার ওয়াক্তে মাটি কালার স্রাব দেখার সময় থেকেই আপনার হায়েজ শুরু হয়েছে বলে ধরা হবে।

৪. নামায বন্ধ রাখবেন — তরল রক্ত আসার জন্য অপেক্ষা করবেন না।

৫. যদি ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) পূর্ণ হওয়ার আগেই স্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তা হায়েজ নয় — বরং ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত)। সেক্ষেত্রে ঐ দিনগুলোর নামায পরে কাজা আদায় করতে হবে।

৬. আর যদি ৩ দিন পূর্ণ হয় এবং ১০ দিনের মধ্যে বন্ধ হয়, তাহলে পুরোটাই হায়েজ।


গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা: হায়েজের সময়কাল নির্ধারণ

আপনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — আপনার স্বাভাবিক হায়েজের সময়কাল (আদত) কী?

  • যদি আপনার অভ্যাস হয় যে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে (যেমন ১৮/১৯ তারিখ) হায়েজ শুরু হয় এবং নির্দিষ্ট দিন (যেমন ৫-৭ দিন) স্থায়ী হয়, তাহলে সেই সময়কালের মধ্যে যে কোনো স্রাবই হায়েজ।
  • যদি আপনার কোনো নির্দিষ্ট অভ্যাস না থাকে (মুযতারিবা), তাহলে ৩ দিন পূর্ণ হলে হায়েজ ধরবেন।

রেফারেন্স: ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ১৪৫-১৪৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃ. ১০২


সারসংক্ষেপ ও আমল

| বিষয় | হুকুম | |---|---| | মাটি কালার/বাদামী স্রাব হায়েজের সময়ে | হায়েজ হিসেবে গণ্য | | নামায বন্ধ রাখা | ১৯ তারিখ এশার ওয়াক্ত থেকে | | তরল রক্ত আসার অপেক্ষা | করবেন না | | ৩ দিনের কম হলে | ইস্তিহাযা, নামায কাজা | | ১০ দিনের বেশি হলে | ১০ দিন হায়েজ, বাকি ইস্তিহাযা |

পরামর্শ: আপনার হায়েজের অভ্যাস (কত দিন স্থায়ী হয়) স্মরণ করে সেই অনুযায়ী আমল করুন। যদি সন্দেহ থাকে, তাহলে ৩ দিন পূর্ণ হওয়ার পর অবস্থা স্পষ্ট হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় মুফতির সাথে পরামর্শ করুন।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.