কারও পরিধানের কাপড় কি আমি পরিধান করতে পারব? বা আমার পুরনো কাপড় কাউকে দান করা যাবে?
Taharah Purity · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
কারও পরিধানের কাপড় পরিধান করা এবং পুরনো কাপড় দান করার বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নটি দুটি অংশে বিভক্ত: ১. অন্যের পরিধান করা কাপড় নিজে পরিধান করা যাবে কি? ২. নিজের পুরনো কাপড় অন্যকে দান করা যাবে কি?
প্রথম অংশ: অন্যের পরিধান করা কাপড় পরিধান করা
মূলনীতি
মূলত অন্যের পরিধান করা কাপড় পরিধান করা জায়েয, যদি তা পবিত্র (তাহির) হয়,সে যদি সন্তুষ্টি চিত্তে আপনাকে পরিধান করতে দেয় এবং তাতে কোনো নিষিদ্ধ বিষয় (যেমন: হারাম উপার্জনের টাকায় কেনা, নাজাসাত লেগে থাকা) না থাকে।
দলিল
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ... وَأَخَذْتُ ثَوْبَهُ الَّذِي كَانَ يَلْبَسُهُ...
অর্থাৎ তিনি নবী ﷺ-এর পরিধানকৃত কাপড় ব্যবহার করতেন। (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৩১৯)
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী ﷺ-কে জিজ্ঞেস করল, আমরা কখনো কখনো আমাদের কাপড়ে (নাপাকি) দেখতে পাই... (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৯)
শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মূলনীতি হলো, বস্তু ও কাপড়ে মূলত পবিত্রতা বিদ্যমান; যতক্ষণ না নাজাসাতের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।" (মাজমুউল ফাতাওয়া, ২১/৪৭৯)
শর্তসমূহ
- পবিত্রতা: কাপড়টি নাজাসাত থেকে পবিত্র হতে হবে।
- হালাল উপার্জন: কাপড়টি হারাম বা চুরি করা সম্পদ থেকে হতে পারবে না।
- অনুমতি: মালিকের অনুমতি থাকতে হবে (যদি ধার বা উপহার হিসেবে নেয়া হয়)।
- নিষিদ্ধ অনুকরণ নয়: যদি কাফিরদের ধর্মীয় পোশাক বা বিশেষ ধর্মীয় প্রতীক হয়, তবে তা পরিধান করা নিষিদ্ধ।
শায়খ ইবন উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "কাপড় মূলত পবিত্র; সন্দেহের কারণে তা নাপাক হয়ে যায় না।" (শারহুল মুমতি, ১/৩৫৬)
দ্বিতীয় অংশ: পুরনো কাপড় দান করা
মূলনীতি
নিজের পুরনো কাপড় দান করা জায়েয এবং সওয়াবের কাজ, যদি তা ব্যবহারযোগ্য হয় বা প্রয়োজন পূরণ করে। ইসলামে দান-সদকা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
দলিল
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَتَصَدَّقُوا وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ
"তোমরা দান করো এবং নিজেদের ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না।" (সূরা আল-বাকারা: ১৯৫)
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেন:
مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ... تَقَبَّلَهَا اللَّهُ بِيَمِينِهِ
"যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ দান করে... আল্লাহ তা ডান হাতে কবুল করেন।" (সহীহ বুখারি, হাদিস: ১৪১০)
শর্তসমূহ
- হালাল সম্পদ: কাপড়টি হালাল উপার্জন থেকে হতে হবে।
- পবিত্র: নাজাসাতমুক্ত হতে হবে।
- উপযুক্ত: ছিঁড়া বা অকেজো কাপড় দিলে তা অপমানজনক না হয়।
- নিয়ত: শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে, লোক দেখানো নয়।
বিশেষ সতর্কতা
- নাপাক কাপড়: যদি কাপড়ে নাজাসাত লেগে থাকে, তবে তা ধুয়ে পবিত্র করে দান করা যাবে।
- অপমান: দান করার সময় প্রাপকের সম্মান রক্ষা করা জরুরি। আল্লাহ বলেন: "তোমরা উত্তম পন্থায় দান করো।" (সূরা আল-বাকারা: ২৬৩)
- মৃত ব্যক্তির কাপড়: মৃত ব্যক্তির কাপড় দান করা জায়েয; তবে তা পবিত্র হতে হবে।
শায়খ ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "পুরনো কাপড় দান করা জায়েয; এটি সদকা হিসেবে গণ্য হবে, যদি তা ব্যবহারযোগ্য হয়।" (ফাতাওয়া ইবন বায, ২০/২৯)
সারসংক্ষেপ ও ফতোয়া
| বিষয় | বিধান | |------|-------| | অন্যের পরিধান করা কাপড় পরিধান | জায়েয (পবিত্র ও হালাল হলে) | | নিজের পুরনো কাপড় দান | জায়েয ও সওয়াবের কাজ | | নাপাক কাপড় পরিধান/দান | নিষিদ্ধ (পবিত্র করার পর জায়েয) | | হারাম উপার্জনের কাপড় | নিষিদ্ধ |
উপসংহার: অন্যের পরিধান করা পবিত্র কাপড় পরিধান করা জায়েয,সে যদি সন্তুষ্টি চিত্তে আপনাকে পরিধান করতে দেয়,এবং নিজের পুরনো কাপড় দান করা উত্তম সদকা। তবে উভয় ক্ষেত্রেই পবিত্রতা ও হালাল হওয়া শর্ত।