স্বামী সুদি ব্যাংকে জব করে, এবং স্ত্রী ইসলামী জব করেন, এখন স্বামীর ইনকাম কি স্ত্রীর জন্য হালাল হবে?
Business and Job · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
উত্তর:
প্রথমত, স্বামী যদি প্রচলিত (সুদভিত্তিক) ব্যাংকে চাকরি করে, তাহলে সেই আয় স্ত্রীর জন্য হালাল হবে কিনা—এ বিষয়ে সালাফি/আহলে হাদীস ফিকহের মতামত হলো: সুদী ব্যাংকে কোনো ধরনের চাকরি করা জায়েজ নয়, কারণ এটি সুদী লেনদেনে সহযোগিতা করার শামিল। কুরআন ও হাদীসে সুদকে স্পষ্টভাবে হারাম বলা হয়েছে এবং সুদী কার্যক্রমে সহযোগিতাকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কুরআন:
﴿وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا﴾ (আল-বাকারা: ২৭৫)
"আল্লাহ বেচাকেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।"
হাদীস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«لَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا وَمُوْكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ» (সহীহ মুসলিম: ১৫৯৮)
"আল্লাহ সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও তার সাক্ষীদের অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন: তারা সবাই সমান।"
সুতরাং, যে ব্যক্তি সুদী ব্যাংকে চাকরি করে—সে সরাসরি সুদী লেনদেনে সহায়তা করে, যা হারাম। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:
"যে ব্যক্তি সুদী ব্যাংকে কাজ করে, সে সুদের কাজে সহযোগিতা করে, যা হারাম।" (মাজমু' ফাতাওয়া: ২৯/২৭০)
শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেছেন:
"সুদী ব্যাংকে কোনো প্রকার চাকরি করা জায়েজ নয়, এমনকি দারোয়ান বা পিয়নের চাকরিও নয়, কারণ তা সুদী কার্যক্রমের সহায়তা।" (ফাতাওয়া ইবন বায: ১৯/২২৮)
তাই স্বামীর এই আয় স্ত্রীর জন্য হালাল নয়। স্ত্রীর কর্তব্য হলো স্বামীকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা এবং তাকে হালাল রিজিকের সন্ধানে উৎসাহিত করা। যদি স্বামী তবুও ঐ আয় থেকে কিছু দেয়, তবে স্ত্রী তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে এবং নিজের প্রয়োজনে হালাল উপার্জন খুঁজবে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন: স্ত্রী যদি ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করে, তাহলে কী করণীয়?
ইসলামী ব্যাংক যদি প্রকৃতই শরী‘আহ সম্মত হয় (অর্থাৎ কোনো প্রকার সুদ, ঘুষ, প্রতারণা ও জালিয়াতি মুক্ত হয়), তাহলে সেখানে চাকরি করা জায়েজ। কিন্তু বর্তমান অনেক 'ইসলামী ব্যাংক' নামধারী প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত ইসলামী লেনদেন না থাকার কারণে সতর্কতা আবশ্যক। শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন:
"ইসলামী ব্যাংকগুলোকে শরী‘আহ সম্মত কিনা তা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। যদি তারা প্রকৃতই ইসলামী পদ্ধতিতে চলে (যেমন: মুদারাবা, মুশারাকা, ইজারা ইত্যাদি), তাহলে সেখানে কাজ করা জায়েজ। অন্যথায় জায়েজ নয়।" (আল-মুনতাকা: ১/২৫৮)
করণীয়:
১. স্ত্রী নিশ্চিত হবেন যে তিনি যে ইসলামী ব্যাংকে কাজ করছেন, তার সকল কার্যক্রম শরী‘আহ মোতাবেক পরিচালিত হচ্ছে।
২. যদি কোনো সন্দেহ থাকে বা প্রকৃত ইসলামী পন্থা থেকে বিচ্যুতি দেখা যায়, তাহলে সে চাকরি ছেড়ে দেওয়া উত্তম।
৩. যদি ব্যাংকটি সম্পূর্ণ শরী‘আহ সম্মত হয়, তাহলে স্ত্রী সেখানে কাজ করতে পারেন এবং তার আয় হালাল হবে।
সারসংক্ষেপ:
- স্বামীর সুদী ব্যাংকের চাকরির আয় স্ত্রীর জন্য হারাম। স্ত্রী সেই টাকা গ্রহণ করবে না এবং স্বামীকে হালাল উপার্জনে উৎসাহ দেবে।
- স্ত্রী যদি প্রকৃত ইসলামী ব্যাংকে কাজ করে, তবে তা জায়েজ। তবে শরী‘আহ সম্মতি যাচাই করা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা সর্বোত্তম জ্ঞানী।