দুইশতবার সূরা ইখলাস পাঠ বিশেষ কোনো ফযীলত আছে কি না
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
সূরা ইখলাসের ফজিলত সম্পর্কে সহিহ হাদিসে ব্যাপক বর্ণনা রয়েছে। তবে ২০০ বার বিসমিল্লাহসহ পড়ার নির্দিষ্ট ফজিলত সম্পর্কে কুরআন, সহিহ হাদিস বা হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাবাদি (যেমন: ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার, বেহিশতি জেওয়ার, মাআরিফুল কুরআন, ফাতাওয়া আলমগীরী, আল-হিদায়া) থেকে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল পাওয়া যায় না।
বরং নির্দিষ্ট সংখ্যা (যেমন: ১০০, ২০০, ১০০০ বার) পড়ার ফজিলত সম্পর্কে কিছু দুর্বল বা জাল হাদিস প্রচলিত আছে। হানাফি মাজহাবের উসুল অনুযায়ী, দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করা জায়েজ হলেও তা ফজিলতের ক্ষেত্রে সহিহ হাদিসের তুলনায় গ্রহণযোগ্য নয়।
সহিহ হাদিসে সূরা ইখলাসের ফজিলত:
- কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান
- রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।" (সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫০১৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১১)
- জান্নাত ওয়াজিব হওয়া
- রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূরা ইখলাস ১০ বার পড়ে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন।" (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২২৪৯০; সিলসিলা সহিহা, হাদিস: ৫৮৯)
- রাতে ঘুমানোর সময় পড়া
- আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার সময় সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে বুকে ফুঁক দিতেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫০১৭)
২০০ বার বিসমিল্লাহসহ পড়ার ফজিলত:
হাদিস বিশেষজ্ঞগণ (যেমন: ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিজি, ইমাম ইবনে হাজার) এই ধরনের বর্ণনাকে দুর্বল (জঈফ) বা জাল (মাউযু) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হানাফি ফকিহগণ (যেমন: ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম তাহাবি, ইবনে আবেদিন, আশরাফ আলী থানবী, আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী) ফজিলতের ক্ষেত্রে সহিহ হাদিসের ওপর আমল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সতর্কতা:
- নির্দিষ্ট সংখ্যা ও পদ্ধতি (যেমন: ২০০ বার বিসমিল্লাহসহ পড়া) কোনো সহিহ দলিল ছাড়া আমল করলে তা বিদআত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- বরং সূরা ইখলাস বেশি বেশি পড়া উচিত, তবে সংখ্যার নির্দিষ্ট বাঁধন ছাড়া।
উপসংহার:
- সহিহ হাদিস অনুযায়ী সূরা ইখলাস যেকোনো সময়, যেকোনো সংখ্যায় পড়া যেতে পারে এবং এর জন্য বিশেষ ফজিলতের আশা করা যায়।
- ২০০ বার বিসমিল্লাহসহ পড়ার নির্দিষ্ট ফজিলত প্রমাণিত নয়। তাই এটি আমল করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহ ইলম ও আমলের তাওফিক দান করুন। (আমিন)
রেফারেন্স:
- সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫০১৩
- সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১১
- সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯৯
- মাআরিফুল কুরআন, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৮২৫
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৮৩
- ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫৪৬