গোঁফ বিজিয়ে পানি খাওয়া যাবে কি?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
মুছ (মাছি) ডুবলে পানি খাওয়া এবং খাবারে মাছি পড়ার বিধান
মুখের মোচ বা গোঁফ ডুবিয়ে পানি খাওয়া হারাম নয় এবং এর দ্বারা পানিও নাপাক হয় না। তবে গোঁফ এত বড় রাখা যাতে পানাহারের সময় তা পাত্রের পানিতে বা খাবারে ডুবে যায়, তা সুন্নাতের খেলাফ (সুন্নাত পরিপন্থী), অপছন্দনীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
ফিকহে হানাফীর নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের আলোকে এর বিস্তারিত বিবরণ ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ নিচে পেশ করা হলো:
শরয়ী ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত মাসআলা:
১. পানি পবিত্র থাকা:
মানুষের শরীর ও চুল শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ পবিত্র। তাই পানি পান করার সময় গোঁফ বা মোচ পানিতে ভিজলে বা ডুবে গেলেও উক্ত পানি নাপাক বা হারাম হয়ে যায় না। ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, লম্বা গোঁফবিশিষ্ট ব্যক্তি পানি পান করার সময় তার গোঁফ পানিতে ভিজলেও পানি নাপাক হবে না এবং তা পান করা হারাম হবে না।
২. গোঁফ ছাঁটার সুন্নাতী বিধান:
ইসলামি শরীয়তে গোঁফ বা মোচ কেটে ছোট রাখা (কসরুস শারিফ) সুন্নাত এবং মানুষের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতার (ফিতরাত) অংশ। সুন্নাতী পরিমাপ হলো—গোঁফ এতটুকু ছোট করে ছাঁটা যেন উপরের ঠোঁটের প্রান্তভাগ ও লাল অংশ স্পষ্ট দেখা যায় এবং পানাহারের সময় গোঁফ খাবারে বা পানিতে স্পর্শ না করে।
৩. পরিচ্ছন্নতা ও আদাব:
গোঁফ ঝুলিয়ে এত বড় করে রাখা যে তা পানাহারের সময় পানীয় বা খাবারে ডুবে যায়, তা ইসলামি শিষ্টাচার, সুনানে ফিতরাত ও স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থী। তাই হারাম না হলেও এটি বর্জনীয় ও অপছন্দনীয় কাজ।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৮৪ (অধ্যায়: তাহারাত — মানুষ ও লম্বা গোঁফ বিশিষ্ট ব্যক্তির পানীয় গ্রহণের শরয়ী হুকুম)। ২. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৪৪১–৪৪৫ (অধ্যায়: দাড়ি ও গোঁফের শরয়ী পরিমাপ ও পরিচ্ছন্নতার বিধান)।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।