স্বর্ণ ও টাকা একসাথে থাকলে কুরবানী ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে
Qurbani-Slaughtering · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে উল্লেখিত মহিলার কাছে ২ ভরি সোনা (প্রায় ২৩.৩২৮ গ্রাম) এবং ১ লক্ষ টাকা নগদ আছে। কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাব হলো সোনা বা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকা। হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, যার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ (সোনা: ৮৭.৪৮ গ্রাম বা রূপা: ৬১২.৩৬ গ্রাম অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা) তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।
এক্ষেত্রে মহিলার ২ ভরি সোনা (২৩.৩২৮ গ্রাম) নেসাবের চেয়ে কম হলেও ১ লক্ষ টাকা বিদ্যমান। বর্তমান বাজারে রূপার নেসাব অনেক কম প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার মতো। সুতরাং ১ লক্ষ টাকা ও স্বর্ণের মূ্ল্য মেলালে রূপার নেসাবের চেয়ে বেশি, তাই তিনি নেসাবের মালিক। অতএব, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।
কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত:
১. মুসলিম, মুকিম (মুসাফির নয়), আকল ও বালেগ হওয়া।
২. নিজের মৌলিক প্রয়োজন (বাসস্থান, খাদ্য, বস্ত্র, আসবাবপত্র, ঋণ পরিশোধ) বাদ দিয়ে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা।
৩. কুরবানীর দিনগুলোতে (১০, ১১, ১২ জিলহজ্জ) নেসাবের মালিক থাকা।
হানাফী কিতাবের দলিল:
- রদ্দুল মুহতার (৪/৩২৪): "কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার নেসাব যাকাতের নেসাবের মতোই।"
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/২৯২): "যার কাছে সোনা বা রূপার নেসাব অথবা তাদের মূল্যের সমান মাল থাকে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২২১): "নেসাবের মালিক মহিলার উপরও কুরবানী ওয়াজিব, যদিও সে সোনা-রূপা না পায়, বরং নগদ টাকা বা ব্যবসায়িক পণ্য নেসাব পরিমাণ থাকে।"
সুতরাং প্রশ্নোক্ত মহিলার উপর কুরবানী ওয়াজিব।
والله أعلم بالصواب