বিতরের নামাজে সূরা মিলানো নিয়ে সন্দেহ হলে কী করতে হবে?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5487
Questioner: sumaiya Jahan
Question Asked: 14 Sep 2026, 11:10 PM
Reviewed & Published: 15 Sep 2026, 05:58 AM
Views: 7
Tokens: 3,622
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিতরের নামাজে সূরা মিলিয়েছি কিনা মনে না থাকলে এবং সেটা নিয়ে দুয়া কুনুত পড়ার সময় কনফিউশান হলে সাহু সিজদা দিলে হবে নাকি আবার সূরা ফাতিহা পড়ে সূরা মিলিয়ে দুআ কুুনুত পড়ে রুকুতে যাব পড়ে সাহু সিজদা দিব?

Answer

বিতরের নামাজে সূরা মিলানো নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয়

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

বিতরের নামাজে কিরাআত (সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলানো) সম্পর্কে সন্দেহ বা কনফিউশন সৃষ্টি হলে — সাহু সিজদা দিলেই যথেষ্ট হবে, নাকি আবার সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলিয়ে দুআ কুনুত পড়ে রুকুতে যেতে হবে, তারপর সাহু সিজদা দিতে হবে?


ফিকহি বিশ্লেষণ

১. মূলনীতি: সন্দেহ (শাক) হলে কী করবেন?

হানাফি ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো —

"আল-ইয়াকীনু লা ইয়াযুলু বিস-শাক্ক" — নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা বাতিল হয় না।

অর্থাৎ, আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে সূরা মিলিয়েছেন কিনা, তাহলে মূল অবস্থা (আসল) হলো — আপনি সূরা মিলাননি। কারণ আপনি সূরা মিলানোর ব্যাপারে নিশ্চিত নন।

ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেছেন:

"যদি মুসল্লি সন্দেহ করে যে সে সূরা ফাতিহার পর সূরা মিলিয়েছে কিনা, তাহলে তার জন্য কর্তব্য হলো — সূরা মিলানো (অর্থাৎ, আবার পড়া), কারণ মূল অবস্থা হলো সে পড়েনি।"

(রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, কিরাআত অধ্যায়)

২. বিতরের নামাজে দুআ কুনুতের হুকুম

বিতরের নামাজে দুআ কুনুত পড়া ওয়াজিব (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মতে)। এটি তৃতীয় রাকআতে সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলানোর পর, রুকুতে যাওয়ার আগে পড়তে হয়।

ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) «আল-আসল»-এ এবং ইমাম তাহাবি (রহ.) «শরহু মাআনিল আসার»-এ উল্লেখ করেছেন যে, দুআ কুনুত কিরাআতের পর এবং রুকুর আগে পড়তে হয়।

৩. সন্দেহের অবস্থায় করণীয় — বিস্তারিত

আপনার প্রশ্নে দুটি দিক রয়েছে:

(ক) সূরা মিলিয়েছেন কিনা সন্দেহ:

যদি দুআ কুনুত পড়ার সময় সন্দেহ হয় যে সূরা মিলিয়েছেন কিনা, তাহলে এখনই সূরা মিলিয়ে নিন (অর্থাৎ, সূরা ফাতিহার পর যে সূরাটি পড়ার কথা ছিল, সেটি পড়ে নিন)। কারণ মূল অবস্থা হলো আপনি সূরা মিলাননি। এরপর দুআ কুনুত পড়ুন এবং রুকুতে যান।

(খ) দুআ কুনুত পড়া হয়েছে কিনা সন্দেহ:

যদি দুআ কুনুত পড়া হয়েছে কিনা সন্দেহ হয়, তাহলে মূল অবস্থা হলো — পড়া হয়নি। তাই আবার পড়ে নিন।

৪. সাহু সিজদার বিধান

উপরোক্ত অবস্থায় (সূরা মিলানো বা দুআ কুনুত সম্পর্কে সন্দেহ হলে এবং তা পূরণ করে নিলে) সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। কারণ আপনি ওয়াজিবটি আদায় করে নিয়েছেন।

তবে, যদি আপনি সূরা মিলানো ছাড়াই দুআ কুনুত পড়ে ফেলেন এবং রুকুতে চলে যান, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে — কারণ কিরাআতের মধ্যে ওয়াজিব (সূরা মিলানো) ছুটে গেছে।

ইমাম সারাখসি (রহ.) «আল-মাবসুত»-এ বলেন:

"কিরাআতে ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়।"

৫. সঠিক পদ্ধতি (আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী)

আপনার প্রশ্নে বলা হয়েছে — "সাহু সিজদা দিলে হবে নাকি আবার সূরা ফাতিহা পড়ে সূরা মিলিয়ে দুআ কুনুত পড়ে রুকুতে যাব পড়ে সাহু সিজদা দিব?"

সঠিক উত্তর:

১. যদি দুআ কুনুত পড়ার সময় সন্দেহ হয় যে সূরা মিলিয়েছেন কিনা — তাহলে এখনই সূরা মিলিয়ে নিন (সূরা ফাতিহা আবার পড়ার প্রয়োজন নেই, শুধু যে সূরাটি মিলানোর কথা ছিল সেটি পড়ুন)। এরপর দুআ কুনুত পড়ুন, রুকুতে যান। সাহু সিজদা লাগবে না।

২. যদি আপনি সূরা মিলানো ছাড়াই দুআ কুনুত পড়ে ফেলেন এবং রুকুতে চলে যান — তাহলে শেষে সাহু সিজদা দিতে হবে। কারণ কিরাআতের ওয়াজিব ছুটে গেছে।

৩. সূরা ফাতিহা আবার পড়ার প্রয়োজন নেই — যদি আপনি সূরা ফাতিহা পড়ে থাকেন এবং শুধু সূরা মিলানো নিয়ে সন্দেহ হয়, তাহলে শুধু সূরাটি মিলিয়ে নিলেই যথেষ্ট।


সারসংক্ষেপ ও সতর্কতা

| অবস্থা | করণীয় | সাহু সিজদা | |--------|--------|------------| | সূরা মিলিয়েছেন কিনা সন্দেহ | এখনই সূরা মিলিয়ে নিন | লাগবে না | | দুআ কুনুত পড়েছেন কিনা সন্দেহ | আবার পড়ে নিন | লাগবে না | | সূরা মিলানো ছাড়াই দুআ কুনুত পড়ে ফেলেছেন | রুকুতে যান, শেষে সাহু সিজদা | ওয়াজিব | | সূরা ফাতিহা পড়েছেন কিনা সন্দেহ | আবার সূরা ফাতিহা পড়ুন | লাগবে না (যদি সময় থাকে) |

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফাতাওয়া উসমানি»-তে উল্লেখ করেছেন:

"সন্দেহের সময় মূল অবস্থার উপর আমল করতে হবে। যদি কিরাআতের কোনো ওয়াজিব ছুটে যায়, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।"

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) «ইমদাদুল ফাতাওয়া»-তে বলেন:

"নামাজে সন্দেহ হলে ইয়াকীন (নিশ্চিত) এর উপর ভিত্তি করে আমল করতে হবে।"


উপসংহার

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো:

যদি দুআ কুনুত পড়ার সময় সন্দেহ হয় যে সূরা মিলিয়েছেন কিনা — তাহলে এখনই সূরা মিলিয়ে নিন, তারপর দুআ কুনুত পড়ুন, রুকুতে যান। সাহু সিজদা লাগবে না।

তবে যদি আপনি সূরা মিলানো ছাড়াই দুআ কুনুত পড়ে ফেলেন এবং রুকুতে চলে যান — তাহলে শেষে সাহু সিজদা দিতে হবে।

সূরা ফাতিহা আবার পড়ার প্রয়োজন নেই, যদি আপনি নিশ্চিত হন যে সূরা ফাতিহা পড়েছেন। শুধু সূরা মিলানো নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু সূরাটি মিলিয়ে নিলেই যথেষ্ট।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.