যিকিরের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তালাকের শব্দ উচ্চারিত হলে কি তালাক পতিত হবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5416
Questioner: MD.NAZMUL HOSSEN SUMAN
Question Asked: 13 Sep 2026, 08:47 PM
Reviewed & Published: 13 Sep 2026, 08:52 PM
Views: 11
Tokens: 3,268
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোন ব্যক্তি "আল্লাহুম্মা সল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মদ (স:) যিকির করতেছে। এই সময় তার মনে মনে তা* এর চিন্তা আসে।
প্রশ্ন: চিন্তা রত অবস্থায় আল্লাহুম্মা সল্লি আলা এর জায়গায় অনিচ্ছাকৃতভাবে তা* উচ্চারিত হলে বৈবাহিক কোন সমস্যা হবে কি?

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

হামদ ও সালাতের পর:

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—কোনো ব্যক্তি "আল্লাহুম্মা সল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মদ (সা.)" যিকির করছিলেন। এ সময় তার মনে মনে "তা*" (তালাক শব্দ) এর চিন্তা আসে। চিন্তারত অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে "আল্লাহুম্মা সল্লি আলা"-এর জায়গায় "তা*" উচ্চারিত হয়ে গেলে বৈবাহিক কোনো সমস্যা হবে কি?

ফিকহি বিশ্লেষণ

১. তালাক সংঘটিত হওয়ার শর্ত

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য দুটি মূল শর্ত রয়েছে:

(ক) ইচ্ছাকৃত উচ্চারণ (قصد): তালাকের শব্দ ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চারণ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى

"নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।" — সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯০৭

(খ) সচেতনতা (علم): উচ্চারণের সময় ব্যক্তির জানা থাকতে হবে যে সে তালাকের শব্দ বলছে।

২. ভুলবশত বা অনিচ্ছাকৃত উচ্চারণ

হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো—ভুলবশত (খতা) বা বিস্মৃতিতে (নিসইয়ান) উচ্চারিত তালাকের শব্দে তালাক পতিত হয় না।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মত হলো:

ولو قال: أنت طالق، ولم يرد الطلاق، لا يقع

"যদি কেউ বলে 'তুমি তালাকপ্রাপ্ত', কিন্তু তালাকের ইচ্ছা না করে, তবে তালাক পতিত হবে না।" — আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক

ইমাম সারাখসি (রহ.) বলেন:

الطلاق لا يقع إلا بقصد أو بما يقوم مقام القصد

"তালাক কেবল ইচ্ছাকৃতভাবে বা ইচ্ছার সমতুল্য কিছু দ্বারা পতিত হয়।" — আল-মাবসুত, কিতাবুত তালাক

৩. অনিচ্ছাকৃত উচ্চারণের ক্ষেত্রে

আপনার প্রশ্নে বলা হয়েছে—ব্যক্তি যিকির করছিলেন, মনে মনে "তা*" এর চিন্তা আসে, এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে "তা*" উচ্চারিত হয়ে যায়। এমতাবস্থায়:

  • যদি উচ্চারণটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও অসচেতনভাবে হয় (যেমন জিহ্বা হঠাৎ পিছলে যায় বা মনের চিন্তার প্রভাবে মুখ থেকে বেরিয়ে যায়), তবে তালাক পতিত হবে না
  • কারণ এখানে তালাকের ইচ্ছা (قصد) নেই, বরং এটি ভুলবশত উচ্চারণ (سبق اللسان)।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا

"হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।" — সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৮৬

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং জোরপূর্বক কাজ ক্ষমা করে দিয়েছেন।" — সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২০৪৩; মুসনাদে আহমাদ

৪. তবে সতর্কতার বিষয়

যদি ব্যক্তি সচেতনভাবে "তা*" উচ্চারণ করে, যদিও যিকিরের মধ্যে ছিল, তবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হতে পারে—যদি সে তালাকের নিয়ত করে বা তালাকের শব্দ হিসেবে উচ্চারণ করে। কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে অনিচ্ছাকৃতভাবে—সুতরাং এতে তালাক পতিত হবে না।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:

ولا يقع الطلاق بالسبق والغلط

"ভুলবশত ও জিহ্বা পিছলে যাওয়া দ্বারা তালাক পতিত হয় না।" — রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তালাক

চূড়ান্ত উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায়—যেখানে ব্যক্তি যিকির করছিলেন, মনে মনে "তা" এর চিন্তা আসে, এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে "তা" উচ্চারিত হয়ে যায়—এতে বৈবাহিক কোনো সমস্যা হবে না। তালাক পতিত হবে না।**

কারণ:

  1. তালাকের ইচ্ছা (قصد) ছিল না।
  2. এটি ভুলবশত উচ্চারণ (سبق اللسان)।
  3. শরীয়ত ভুল ও বিস্মৃতির কাজ ক্ষমা করেছে।

তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের চিন্তা থেকে বিরত থাকা এবং যিকিরে মনোযোগ রাখা উত্তম। যদি বারবার এমন হয় এবং সন্দেহ থাকে, তবে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য মুফতি সাহেবের সাথে সরাসরি পরামর্শ করা ভালো।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.