বাবার সুদি ঋণের দায়, ঘুষ দিয়ে টাকার পরিমাণ কমানোর বিধান।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5405
Questioner: JJ
Question Asked: 13 Sep 2026, 03:18 PM
Reviewed & Published: 13 Sep 2026, 05:12 PM
Views: 10
Tokens: 8,285
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার বাবা একটি ব্যাংক এ ৬০ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে মারা যান। সে ঋণ এর বন্ধকি ছিল আমার বাবার করা একটি বাড়ি যেখানে আমরা থাকি। কয়েক বছরে আমরা প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ৩০ লাখ পরিশোধ করি। কিন্তূ ব্যাংক সেই টাকা কে সুদ হিসেবে adjust করে ফেলে, এবং মুল টাকা আবারো ৬০ লাখ ই হয়ে যায় দাবি করে, এবং সেই টাকার উপর সুদ ধরে বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার মতো চাচ্ছে সুদ সহ। যা আমাদের সাধ্যের বাইরে। তাই আমরা আমাদের এই বাড়ি যা মূলত বাবার ই সম্পদ তা বিক্রি করে পরিশোধ করতে চাচ্ছি।
আলহামদুলিল্লাহ এর ই মাঝে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি সুযোগ আসে যেখানে বলা হয় সমস্ত আরোপিত এবং অনারোপিত সুদ মৌকুফ করে ব্যাংক এর টাকা এককালীন পরিশোধ এর সুযোগ আছে। আমরা সেই প্রস্তাব নিতে গেলে ব্যাংক বলে ৬০ লাখ টাকা দেওয়া ই লাগবে, তবে এর উপর হওয়া বাকি সুদ মৌকুফ করবে। অন্যদিকে আমরা চাচ্ছি যে ৩০ লাখ দিয়েছি প্রায় তা বাদ দিয়ে বাকি ৩০ লাখ দিতে।
এখন, এখানে সুযোগ আছে ম্যানেজার বা ব্যাংক এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কে "কিছু দিয়ে" , "চা নাস্তা বাবদ" ইত্যাদি দিয়ে টাকার পরিমাণ কমিয়ে আনার, যেটা স্বাভাবিক ভাবে তারা করতে চাচ্ছে না। বলা বাহুল্য টাকার পরিমাণ কমলে অবশ্যই আমাদের উপকার হয়।
এখানে সর্বোত্তম পদক্ষেপ কি হবে যেভাবে আল্লাহ্ তা'আলা রাজি খুশি থাকেন, এবং কোন গুনাহ না হয়।

Answer

ঘুষ হওয়ার সন্দেহ: ব্যাংক কর্মকর্তাকে "কিছু দিয়ে" টাকার পরিমাণ কমানোর বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার বাবা ব্যাংক থেকে ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মারা গেছেন। বন্ধকি সম্পত্তি হলো সেই বাড়ি যেখানে আপনি থাকেন। কয়েক বছরে প্রায় ৩০ লাখ পরিশোধ করেছেন, কিন্তু ব্যাংক তা সুদ হিসেবে সমন্বয় করে মূল ঋণ আবার ৬০ লাখ দাবি করছে এবং সুদসহ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা চাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুযোগে সুদ মওকুফ করে এককালীন পরিশোধের প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু ব্যাংক ৬০ লাখই দাবি করছে। এখন ব্যাংক ম্যানেজার বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে "কিছু দিয়ে" বা "চা-নাস্তা বাবদ" দিয়ে টাকার পরিমাণ কমানোর সুযোগ আছে কি না—এটাই মূল প্রশ্ন।


প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: সুদি লেনদেনের মূল বিধান

আল্লাহ তা'আলা কুরআনে সুদকে সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করেছেন:

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنتُمْ مُؤْمِنِينَ "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৮)

রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক এবং সুদের সাক্ষী—সবাইকে অভিসম্পাত করেছেন:

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ "রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ খাওয়ালে, সুদ খাওয়াতে সাহায্যকারী, সুদের লেখক এবং সুদের দুই সাক্ষীকে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান (গুনাহগার)।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮; সুনানে আবু দাউদ: ৩৩৩৩)

সুতরাং ব্যাংকের সুদি লেনদেন নিজেই একটি কঠিন গুনাহের বিষয়। তবে যেহেতু আপনার বাবা মারা গেছেন এবং ঋণটি তার যিম্মায় ছিল, তাই শরীয়তের দৃষ্টিতে করণীয় হলো—শুধুমাত্র মূল ঋণ (আসল) পরিশোধ করা, সুদ পরিশোধ করা নয়। কারণ সুদ হলো যুলুম ও হারাম, এবং মৃত ব্যক্তির যিম্মায় সুদের দায় শরীয়তগতভাবে বর্তায় না।


ঘুষের বিধান: কঠোর নিষেধাজ্ঞা

আপনি যে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করছেন—ব্যাংক কর্মকর্তাকে "কিছু দিয়ে" বা "চা-নাস্তা বাবদ" দিয়ে টাকার পরিমাণ কমানো—এটি ঘুষ (রিশওয়াত) এর অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম।

কুরআনের দলিল:

وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ "তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং জেনে-শুনে মানুষের সম্পদের কিছু অংশ অন্যায়ভাবে খাওয়ার জন্য বিচারকদের কাছে (ঘুষ হিসেবে) পেশ করো না।" (সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)

হাদিসের দলিল:

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي "রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতাকে অভিসম্পাত করেছেন।" (সুনানে আবু দাউদ: ৩৫৮০; সুনানে তিরমিজি: ১৩৩৭; সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩১৩)

ইমাম তিরমিজি (রহ.) এই হাদিসকে হাসান সহীহ বলেছেন।

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي وَالرَّائِشَ "রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুষদাতা, ঘুষগ্রহীতা এবং ঘুষের মধ্যস্থতাকারী—সবাইকে অভিসম্পাত করেছেন।" (মুসনাদে আহমাদ: ২৭৯০)

হানাফি ফিকহের দলিল:

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে উল্লেখ আছে:

الرِّشْوَةُ حَرَامٌ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ "ঘুষ সর্বাবস্থায় হারাম।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৪৮)

রাদ্দুল মুহতার-এ ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:

وَالرِّشْوَةُ هِيَ مَا يُعْطَى لِإِبْطَالِ حَقٍّ أَوْ لِإِحْقَاقِ بَاطِلٍ "ঘুষ হলো তা, যা কোনো হক বাতিল করার জন্য বা কোনো বাতিলকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দেওয়া হয়।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৬২)

ফাতাওয়া উসমানি-তে মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:

"ঘুষ দেওয়া-নেওয়া উভয়ই হারাম। তবে যদি কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়ে যে, তার হক আদায়ের জন্য ঘুষ ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং সে ঘুষ দিতে বাধ্য, তাহলে তার জন্য ঘুষ দেওয়ার অনুমতি আছে—তবে ঘুষ গ্রহীতা কঠোরভাবে গুনাহগার হবে।" (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৪৫৬)


আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর

১. ব্যাংক কর্মকর্তাকে "কিছু দিয়ে" টাকার পরিমাণ কমানো কি জায়েজ?

উত্তর: না, এটি জায়েজ নয়। কারণ:

  • এটি স্পষ্ট ঘুষ, যা কুরআন-হাদিসে সম্পূর্ণ হারাম।
  • ব্যাংক কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো ন্যায্যভাবে কাজ করা। তাকে ঘুষ দিয়ে টাকার পরিমাণ কমানো মানে তাকে অন্যায়ভাবে প্ররোচিত করা এবং তার আমানতদারিতা নষ্ট করা।
  • ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়েই রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অভিসম্পাতের অন্তর্ভুক্ত।
  • এই কাজে আল্লাহ তা'আলা কখনোই রাজি হবেন না

২. তবে কি কোনো ব্যতিক্রম আছে?

হানাফি ফিকহে একটি সূক্ষ্ম বিষয় আছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, যদি কেউ নিজের হক আদায়ের জন্য ঘুষ দিতে বাধ্য হয় এবং ঘুষ না দিলে তার হক নষ্ট হয়ে যাবে, তাহলে তার জন্য ঘুষ দেওয়ার অনুমতি আছে—তবে ঘুষ গ্রহীতা গুনাহগার হবে।

কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়, কারণ:

  • আপনার হক হলো শুধুমাত্র মূল ঋণের পরিমাণ (যা শরীয়তগতভাবে পরিশোধযোগ্য)
  • সুদ মওকুফ করানো আপনার হক—এটি ঘুষ ছাড়াই দাবি করা উচিত।
  • ব্যাংক যদি সুদ মওকুফ না করে, তাহলে আপনি শরীয়তের দৃষ্টিতে সুদ পরিশোধ করতে বাধ্য নন
  • ঘুষ দিয়ে টাকার পরিমাণ কমানো মানে অন্যায়ভাবে ব্যাংকের সম্পদ আত্মসাৎ করা, যা জায়েজ নয়।

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) তার মা'আরিফুল কুরআন-এ সূরা আল-বাকারার ১৮৮ নম্বর আয়াতের তাফসিরে বলেন:

"ঘুষ দেওয়া-নেওয়া উভয়ই কবিরা গুনাহ। তবে যদি কেউ নিজের প্রাপ্য হক আদায়ের জন্য ঘুষ দিতে বাধ্য হয় এবং ঘুষ না দিলে তার হক সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে, তাহলে তার জন্য ঘুষ দেওয়ার অনুমতি আছে। কিন্তু যদি ঘুষ দিয়ে অন্যের হক আত্মসাৎ করা হয় বা বাতিল কাজে সহায়তা করা হয়, তাহলে তা কখনোই জায়েজ নয়।" (মা'আরিফুল কুরআন, খণ্ড ১, পৃ. ৪৭০)


আপনার করণীয়: সর্বোত্তম পদক্ষেপ

১. সুদ পরিশোধ করবেন না

শরীয়তের দৃষ্টিতে সুদ পরিশোধ করা আপনার দায়িত্ব নয়। আপনার বাবার যিম্মায় শুধুমাত্র মূল ঋণ (আসল) পরিশোধ করা দায়িত্ব। সুদ হলো হারাম, এবং মৃত ব্যক্তির যিম্মায় সুদের দায় শরীয়তগতভাবে বর্তায় না।

ফাতাওয়া উসমানি-তে উল্লেখ আছে:

"ব্যাংকের সুদি ঋণ গ্রহণ করা জায়েজ নয়। তবে যদি কেউ সুদি ঋণ নিয়ে ফেলে এবং মারা যায়, তাহলে তার ওয়ারিশদের উপর শুধুমাত্র মূল ঋণ পরিশোধ করা ওয়াজিব। সুদ পরিশোধ করা ওয়ারিশদের দায়িত্ব নয়।" (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৩৮৯)

২. ব্যাংকের সাথে লিখিতভাবে যোগাযোগ করুন

ব্যাংককে লিখিতভাবে জানান যে:

  • আপনি মূল ঋণ পরিশোধ করতে প্রস্তুত
  • সুদ শরীয়তগতভাবে পরিশোধযোগ্য নয়
  • আপনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ মওকুফের সুযোগ গ্রহণ করতে চান।
  • আপনি ৩০ লাখ টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছেন, যা মূল ঋণের সাথে সমন্বয় করতে হবে।

৩. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুযোগ গ্রহণ করুন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুযোগ অনুযায়ী সমস্ত সুদ মওকুফ করে শুধুমাত্র মূল ঋণ পরিশোধের সুযোগ আছে। আপনি সেই সুযোগ গ্রহণ করুন। ব্যাংক যদি ৬০ লাখ দাবি করে, তাহলে আপনি ৩০ লাখ পরিশোধ করেছেন—সেই হিসাব সমন্বয়ের দাবি করুন।

৪. ঘুষ দেবেন না

কোনো অবস্থাতেই ঘুষ দেবেন না। ঘুষ দিয়ে টাকার পরিমাণ কমানো আল্লাহর কাছে কঠিন গুনাহ। বরং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং হালাল উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন।

وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا "যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।" (সূরা আত-তালাক: ২)

৫. আইনি পরামর্শ নিন

একজন আইনজীবী বা শরীয়ত বিষয়ে অভিজ্ঞ মুফতি এর পরামর্শ নিন। ব্যাংক যদি অন্যায়ভাবে সুদ দাবি করে, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার আপনার আছে।

৬. বাড়ি বিক্রির বিষয়ে

বাড়ি বিক্রি করে শুধুমাত্র মূল ঋণ পরিশোধ করুন। সুদ পরিশোধের জন্য বাড়ি বিক্রি করা শরীয়তগতভাবে জরুরি নয়। তবে যদি ব্যাংক আইনি ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।


বিশেষ সতর্কতা: "চা-নাস্তা বাবদ" দেওয়ার নামে ঘুষ

অনেকে মনে করেন, "চা-নাস্তা বাবদ" বা "কিছু দিয়ে" দেওয়া ঘুষ নয়। কিন্তু ফিকহের দৃষ্টিতে এটি স্পষ্ট ঘুষ, যদি এর উদ্দেশ্য হয় কর্মকর্তাকে প্ররোচিত করা যাতে সে টাকার পরিমাণ কমিয়ে দেয়

ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন:

"যদি কেউ বিচারক বা কর্মকর্তাকে কোনো উপহার দেয়, যার উদ্দেশ্য হয় তার সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা, তাহলে তা ঘুষ—তা যত ছোটই হোক।" (কিতাবুল খারাজ, পৃ. ১৪২)

আশরাফ আলী থানভী (রহ.) তার বাহিশতী জেওর-এ বলেন:

"ঘুষ দেওয়া-নেওয়া উভয়ই হারাম। ঘুষের নাম যাই হোক—উপহার, চা-নাস্তা, বা সেলামি—যদি উদ্দেশ্য হয় অন্যায়ভাবে কারো কাজ হাসিল করা বা হক বাতিল করা, তাহলে তা ঘুষ।" (বাহিশতী জেওর, পৃ. ২৪৭)


উপসংহার

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | সুদ পরিশোধ করা | শরীয়তগতভাবে দায়িত্ব নয় | | মূল ঋণ পরিশোধ করা | ওয়াজিব | | ঘুষ দেওয়া | হারাম (কবিরা গুনাহ) | | ঘুষ নেওয়া | হারাম (কবিরা গুনাহ) | | "চা-নাস্তা বাবদ" দেওয়া | ঘুষের অন্তর্ভুক্ত, হারাম | | কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ মওকুফের সুযোগ | গ্রহণ করা উচিত | | বাড়ি বিক্রি করে শুধু মূল ঋণ পরিশোধ | জায়েজ |

সর্বোত্তম পদক্ষেপ: ঘুষ দেবেন না। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। ব্যাংকের সাথে লিখিতভাবে যোগাযোগ করুন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ মওকুফের সুযোগ গ্রহণ করুন। শুধুমাত্র মূল ঋণ পরিশোধ করুন। প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ "আল্লাহ বিশৃঙ্খলাকারী ও সংশোধনকারীকে জানেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২২০)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.