স্বামী মুকিম হলে স্ত্রী মুকিম হবে কিনা?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
5399
Questioner:
RihanD
Question Asked:
13 Sep 2026, 12:52 PM
Reviewed & Published:
13 Sep 2026, 02:48 PM
Views:
31
Tokens:
6,969
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আমি ঢাকায় বাসা নিয়ে থাকি, চাকরির সুবাধে। চট্টগ্রাম এ আমার নিজস্ব বাড়ি আছে। তবে আমি সবসময় ঢাকাতেই থাকি। মাসে সর্বোচ্চ ২-৩ দিন চট্টগ্রাম এ যাওয়া হই। তবে ঢাকায় আমার স্থায়ীভাবে বসবাস এর নিয়ত নাই। তবে ঢাকায় আমার কতদিন বা মাস বা বছর থাকতে হবে সেটা আমার জানা নেই। এখন ঢাকা কি আমার ওয়াতনে আসলী হবে?
আর আমার স্ত্রী উভয় জায়গায় আমার সাথে নিয়মিত থাকে। এখন বিধান অনুযায়ী চট্টগ্রাম এ তো সে মুকিম ই হবে, যেহেতু ওটা তার স্বামীর স্থায়ী আবাস/ওয়াতনে আসলী।
এখন আমার স্ত্রী নিয়মিত প্রতি মাসে অথবা প্রতি ২মাসে একবার ঢাকায় আসে, ও ঢাকায় আসলে মাঝে মাঝে ১৫দিনের কম নিয়তে আসে। এখন এই ক্ষেত্রে সে কি ঢাকায় মুকিম হবে নাকি মুসাফির? নাকি ঢাকা যদি আমার ওয়াতনে আসলী হই, ওই ক্ষেত্রে ঢাকায় ও আমার স্ত্রী মুকিম হবে?
আমি কোথাও শুনেছিলাম, স্বামী যেখানে মুকিম, স্ত্রী ও সেখানে মুকিম হবে। কথাটা কি সত্য?
আর আমার স্ত্রী উভয় জায়গায় আমার সাথে নিয়মিত থাকে। এখন বিধান অনুযায়ী চট্টগ্রাম এ তো সে মুকিম ই হবে, যেহেতু ওটা তার স্বামীর স্থায়ী আবাস/ওয়াতনে আসলী।
এখন আমার স্ত্রী নিয়মিত প্রতি মাসে অথবা প্রতি ২মাসে একবার ঢাকায় আসে, ও ঢাকায় আসলে মাঝে মাঝে ১৫দিনের কম নিয়তে আসে। এখন এই ক্ষেত্রে সে কি ঢাকায় মুকিম হবে নাকি মুসাফির? নাকি ঢাকা যদি আমার ওয়াতনে আসলী হই, ওই ক্ষেত্রে ঢাকায় ও আমার স্ত্রী মুকিম হবে?
আমি কোথাও শুনেছিলাম, স্বামী যেখানে মুকিম, স্ত্রী ও সেখানে মুকিম হবে। কথাটা কি সত্য?
Answer
আপনার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর শরীয়তসম্মত সমাধান ফিকহে হানাফীর নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের আলোকে নিচে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ বিস্তারিত পেশ করা হলো:
###উত্তর
১. ঢাকা কি আপনার 'ওয়াতনে আসলী' (স্থায়ী নিবাস) হবে?
উত্তর: না, ঢাকা আপনার 'ওয়াতনে আসলী' (স্থায়ী নিবাস) হবে না।
- শরয়ী ব্যাখ্যা: ফিকহের পরিভাষায় 'ওয়াতনে আসলী' হলো সেই স্থান, যেখানে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করার সংকল্প করে এবং সেখান থেকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হওয়ার কোনো ইচ্ছা থাকে না। যেহেতু ঢাকায় আপনার স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত নেই এবং চট্টগ্রামে আপনার নিজস্ব বাড়ি ও মূল ঠিকানা রয়েছে, সেহেতু চট্টগ্রামই আপনার ‘ওয়াতনে আসলী’।
- ঢাকায় আপনার শরয়ী মর্যাদা: চাকরির সুবাদে স্থায়ীভাবে বা নিয়মিত ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ঢাকায় থাকার কারণে ঢাকা আপনার জন্য 'ওয়াতনে ইকামত' (অস্থায়ী আবাস)। ফলে ঢাকায় অবস্থানকালে আপনি শরীয়তের দৃষ্টিতে 'মুকীম' (স্থায়ী অবস্থানকারী)। তাই ঢাকায় আপনাকে চার রাকাআত বিশিষ্ট ফরয নামায পুরো চার রাকাআত করেই পড়তে হবে।
২. আপনার স্ত্রী ঢাকায় ১৫ দিনের কম নিয়তে আসলে মুকীম হবে নাকি মুসাফির?
উত্তর: আপনার স্ত্রী ১৫ দিনের কম অবস্থানের নিয়তে ঢাকায় আসলেও সে ঢাকায় মুকীম হিসেবেই গণ্য হবে।
- শরয়ী ব্যাখ্যা: স্ত্রী যখন তার স্বামীর কাছে এসে অবস্থান করে এবং স্বামী সেখানে মুকীম থাকে, তখন স্ত্রী নিজের নিয়তে নয়; বরং স্বামীর তাবে (অনুগত) হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুকীম হয়ে যায় । সুতরাং ঢাকা আপনার 'ওয়াতনে আসলী' না হয়ে 'ওয়াতনে ইকামত' হওয়া সত্ত্বেও আপনি সেখানে মুকীম থাকায় আপনার স্ত্রী ঢাকায় এলে সেও মুকীম হয়ে যাবে ।
- নামাযের হুকুম: ঢাকায় আপনার স্ত্রীকে কসর করা যাবে না; বরং পুরো চার রাকাআত ফরয নামাযই আদায় করতে হবে। (তবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসা-যাওয়ার সফরকালীন রাস্তায় সে মুসাফির থাকবে, কিন্তু আপনার ঢাকার বাসায় পৌঁছামাত্রই মুকীম হয়ে যাবে।)
৩. "স্বামী যেখানে মুকীম, স্ত্রীও সেখানে মুকীম হবে"—কথাটি কি সত্য?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনার শোনা কথাটি সম্পূর্ণ সত্য ও শরীয়তসম্মত।
- শরয়ী মূলনীতি: ফিকহে হানাফীর অকাট্য কায়দা বা ফিকহী নীতি হলো: "المرأة تابعة للزوج في المقام" (অর্থাৎ, অবস্থান ও সফরের ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর অনুগত)। স্ত্রী নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় মুকীম বা মুসাফির হয় না; বরং সে যদি স্বামীর সাথে থাকে বা স্বামীর কাছে এসে অবস্থান করে, তবে স্বামীর শরয়ী অবস্থাই স্ত্রীর ওপর প্রযোজ্য হয়।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৩১ (কসর ও পুরা নামাযের হুকুম) [১০৭]।
- পৃষ্ঠা: ১৩৯–১৪০ (মুসাফির মুকীম হওয়ার উপায়সমূহ — অনুগত ব্যক্তির ইকামত)।
- পৃষ্ঠা: ১৪২–১৪৩ (মহিলাদের সফর ও ইকামতে স্বামীর আনুগত্য)।
- পৃষ্ঠা: ১৪৩–১৪৪ (ওয়াতনে আসলী ও ওয়াতনে ইকামতের শরয়ী পরিচয়)। ২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৪১ (স্ত্রী স্বামীর সফর ও ইকামতের তাবে হওয়ার মাসআলা)। ৩. কাওয়াইদুল ফিক্বহ:
- পৃষ্ঠা: ৯৪ (ক্বায়দা নং ৩১৩: "আল-মারআতু তাবিআতু লিজ-যাওজি ফিল মাক্বাম")।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।