কাউকে কালো জাদু করলে তার লক্ষণ কি কি

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5389
Questioner: Mariam
Question Asked: 13 Sep 2026, 09:35 AM
Reviewed & Published: 13 Sep 2026, 11:10 AM
Views: 30
Tokens: 3,952
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

اسلام عليكم و رحمة الله و بركاتة

১.কাউকে কালো জাদু করা হলে তার মধ্যে কি কি লক্ষণ প্রকাশ পায়?
২. কাউকে কালো জাদু করা হলে তার যেসব ইবাদত করতে সমস্যা হয় বা ইবাদত করা থেকে মন উঠে গেলে জাদু গ্রস্থ ব্যক্তির কি গুনাহ হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

হামদ ও সালাতের পর:

প্রথম প্রশ্ন: কালো জাদু (সিহর) করার লক্ষণসমূহ

ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে কালো জাদু বা সিহর একটি বাস্তব সত্য, যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ "আর গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে।" (সূরা আল-ফালাক: ৪)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ "অতঃপর তারা (শয়তানরা) তাদের কাছে এমন জাদু শিখত, যা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত।" (সূরা আল-বাকারা: ১০২)

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপরও জাদু করা হয়েছিল, যা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে। (বুখারী: ৩১৭৫, মুসলিম: ২১৮৯)

জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির সম্ভাব্য লক্ষণসমূহ:

উলামায়ে কেরাম ও রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নিম্নলিখিত লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি যে, এসব লক্ষণ শুধু জাদুর কারণেই হয় না — শারীরিক রোগ, মানসিক চাপ, স্নায়বিক দুর্বলতাও এসবের কারণ হতে পারে। তাই নিছক লক্ষণ দেখে জাদু বলে ফতোয়া দেওয়া যায় না; অভিজ্ঞ রাকীর মাধ্যমে রুকইয়াহ করিয়ে নিশ্চিত হতে হবে।

১. ইবাদত-বন্দেগিতে বাধা ও অলসতা:

  • নামাজে দাঁড়াতে মন চায় না, নামাজে খুশু-খুযু থাকে না
  • কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকারে অস্থিরতা অনুভব হয়
  • কুরআন শুনলে অস্বস্তি, মাথাব্যথা বা বিরক্তি সৃষ্টি হয়

২. শারীরিক লক্ষণ:

  • কারণ ছাড়াই দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা
  • বিনা কারণে ক্লান্তি, দুর্বলতা, ঘুমের সমস্যা বা অতিরিক্ত ঘুম
  • বুক চেপে ধরা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়
  • খাবারে অরুচি বা অতিরিক্ত খাওয়া

৩. মানসিক ও আবেগিক লক্ষণ:

  • হঠাৎ রাগ, বিরক্তি, অস্থিরতা, উদ্বেগ
  • দুঃস্বপ্ন, ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা, ঘুমের মধ্যে চিৎকার
  • একাকীত্ব ভালো লাগা, মানুষের থেকে দূরে সরে যাওয়া
  • সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা, মনোযোগের অভাব

৪. পারিবারিক ও সামাজিক লক্ষণ:

  • স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কারণ ছাড়াই ঝগড়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন
  • পরিবারে অশান্তি, বরকতের অভাব
  • ব্যবসা-বাণিজ্যে অকারণ ক্ষতি, রিযিকের সংকীর্ণতা

৫. রুকইয়াহর সময় প্রকাশ:

  • কুরআন পড়া বা রুকইয়াহ করার সময় কাঁপুনি, চিৎকার, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক আচরণ — এগুলো জাদুর প্রবল সম্ভাবনার আলামত

সতর্কতা: শুধু লক্ষণ দেখে নিজে থেকে জাদু সাব্যস্ত করা বা কারো উপর সন্দেহ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমরা ধারণা ও অনুমান থেকে বেঁচে থাকো, কারণ অনুমান হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।" (বুখারী: ৫১৪৩)


দ্বিতীয় প্রশ্ন: জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির ইবাদতে সমস্যা হলে গুনাহ হবে কি?

মূলনীতি:

জাদুগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে জাদু করেনি, বরং তার উপর জুলুম করা হয়েছে। তাই শরীয়তের একটি মৌলিক নীতি হলো:

لَا تَكْلِيفَ إِلَّا بِالْوُسْعِ "সাধ্যের বাইরে কোনো তাকলিফ (দায়িত্ব) নেই।"

আল্লাহ তাআলা বলেন:

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا "আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ "তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো।" (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬)

ফিকহী বিধান:

১. যদি জাদুর কারণে ইবাদতে বাধা সৃষ্টি হয় এবং ব্যক্তি তার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে তবুও আদায় করতে না পারে — তবে তার গুনাহ হবে না। কারণ সে মাজবুর (বাধ্য), এবং শরীয়তে মাজবুর ব্যক্তির উপর দায়িত্ব আরোপিত হয় না।

২. কিন্তু যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে অলসতা করে, শুধু "জাদু হয়েছে" অজুহাতে ইবাদত তরক করে — তবে গুনাহ হবে। কারণ জাদু কখনো ইবাদত তরকের বৈধ কারণ নয়।

৩. শরীয়তসম্মত ওজর (অপারগতা) হলে কাজা:

৪. ইবাদত থেকে মন উঠে যাওয়া:

  • যদি এটি জাদুর প্রভাব বা শয়তানের ওয়াসওয়াসা হয় এবং সে চেষ্টা করে — গুনাহ নেই।
  • কিন্তু যদি সে চেষ্টা ত্যাগ করে, রুকইয়াহ-চিকিৎসা না করায় এবং ইবাদত ছেড়ে দেয় — তবে সে নিজের ত্রুটির জন্য দায়ী হবে।

করণীয়:

১. রুকইয়াহ শরীয়াহ করান — অভিজ্ঞ ও আমানতদার রাকীর মাধ্যমে। ২. নিয়মিত আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ুন। ৩. সকাল-সন্ধ্যার আযকার নিয়মিত পড়ুন। ৪. সদকা করুন — রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "সদকা বিপদ দূর করে।" (তিরমিযী: ৬৬৪) ৫. নামাজ-ইবাদত চালিয়ে যান — জাদু যতই বাধা দিক, চেষ্টা করতে থাকুন; এটাই শিফার অন্যতম উপায়। ৬. কুরআন-সুন্নাহর চিকিৎসা ছাড়া জ্যোতিষী, গণকের কাছে যাওয়া সম্পূর্ণ হারাম।

ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) বলেন: "জাদু বাস্তব, তবে তার চিকিৎসা কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা বৈধ; হারাম উপায়ে নয়।" (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৩)

والله تعالى أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.