আসসালামুয়ালাইকুম আমার ফ্যামিলিতে অত দ্বীনের বুঝ ওয়ালা মানুষ নেই।আমার বাবার ভিতরে দ্বীনের

Family Life · Hanafi

Question No: 5355
Questioner: MS Muniya Rahoman
Question Asked: 12 Sep 2026, 04:39 PM
Reviewed & Published: 12 Sep 2026, 05:31 PM
Views: 31
Tokens: 5,064
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম
আমার ফ্যামিলিতে অত দ্বীনের বুঝ ওয়ালা মানুষ নেই।
আমার বাবার ভিতরে দ্বীনের জ্ঞান না থাকায় সে হারাম হালাল বুঝে না ।
তার ইনকাম হারাম ।
আমার ছোট ভাই বয়স ১৫ ওর কুরআন হিফজ শেষ শুনানি চলছে ছিলো ১২ পারা শেষ করেছিলো এখন সে পরতে চাচ্ছেনা।
বলে আমার দ্বারা হবে না,ইনকাম হালাল লাগবে, আমার বয়স হয়ে গেছে আমি আর শুনানি দিবো না।
এমতাবস্থায় কি করনীয়?
আমার মা প্লাস আমি অনেক দুশ্চিন্তায় আছি ।
কোনোভাবেই মাদ্রাসায় যেতে চাচ্ছে না।
আমরা‌ ভোলায় বসবাস করি আর ওরে ঢাকায় পড়াতাম।

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। কয়েকটি দিক আলাদা করে বুঝিয়ে দিচ্ছি:


১. বাবার হারাম ইনকাম প্রসঙ্গে

প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা দরকার — হারাম ইনকাম কেবল তখনই হয় যখন তা সুদ, ঘুষ, জুয়া, প্রতারণা, চুরি, নিষিদ্ধ ব্যবসা ইত্যাদি স্পষ্ট হারাম উৎস থেকে আসে। কেবল দ্বীনি জ্ঞান কম থাকা বা হারাম-হালাল ভালো না বোঝা নিজেই ইনকামকে হারাম করে না। অনেক সময় মানুষ অজ্ঞতাবশত সুদী লেনদেন বা সন্দেহজনক পন্থায় অর্থ উপার্জন করে — সেটি হারাম, কিন্তু সেটি নির্দিষ্টভাবে জানা দরকার।

যদি প্রকৃতপক্ষে বাবার ইনকাম হারাম হয় (যেমন সুদ, ঘুষ, হারাম ব্যবসা), তাহলে:

  • আপনার নিজের জন্য: বাবার হারাম সম্পদ থেকে খাওয়া-পরা, ব্যবহার করা জায়েয নয় — যতটুকু সম্ভব তা এড়িয়ে চলুন। তবে বাবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা তাকে ঘৃণা করা ইসলামে নেই; বরং সদাচরণ ও দাওয়াত দিয়ে যাওয়া কর্তব্য।
  • বাবার প্রতি দায়িত্ব: তাকে কোমলভাবে, হিকমতের সাথে বোঝান। কুরআনে আল্লাহ বলেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ (সূরা নিসা: ১৯)

আর পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ কুরআনে বহুবার এসেছে। তাদের প্রতি রূঢ় হওয়া যাবে না।

  • দোয়া করুন: হিদায়াত আল্লাহর হাতে। আপনি ও আপনার মা বেশি বেশি দোয়া করুন, বিশেষ করে তাহাজ্জুদের সময়।

২. ছোট ভাইয়ের হিফজ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি

এখানে কয়েকটি স্তরে বিষয়টি দেখতে হবে:

(ক) হিফজ করা কি ফরজ?

না। কুরআন হিফজ করা ফরজে কিফায়া (সমাজের কিছু লোক আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে সরে যায়)। প্রতিটি ব্যক্তির উপর হিফজ ফরজ নয়। তাই আপনার ভাই হিফজ ছেড়ে দিলে সে গুনাহগার হবে না — যদি না সে নিজে কোনো মানত (নযর) করে থাকে।

(খ) কিন্তু যে ১২ পারা হিফজ করেছে, তা ভুলে যাওয়া?

যে অংশ হিফজ করেছে, তা রক্ষা করা তার জন্য কর্তব্য — কারণ কুরআন ভুলে যাওয়া সম্পর্কে হাদীসে কঠিন সতর্কতা এসেছে:

عُرِضَتْ عَلَيَّ أُجُورُ أُمَّتِي حَتَّى الْقَذَاةُ يُخْرِجُهَا الرَّجُلُ مِنَ الْمَسْجِدِ، وَعُرِضَتْ عَلَيَّ ذُنُوبُ أُمَّتِي، فَلَمْ أَرَ ذَنْبًا هُوَ أَعْظَمُ مِنْ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللهِ أَوْ سُورَةٍ أُنْسِيَهَا رَجُلٌ
(তিরমিযী, হাদীস নং ২৯১৬ — হাসান)

তবে জোরপূর্বক তাকে মাদ্রাসায় পাঠানো বা শাসন করা সমাধান নয়। এতে সে আরও বিমুখ হয়ে যাবে।

(গ) তার যুক্তি — "ইনকাম হালাল লাগবে"

তার এই যুক্তিটি ভিত্তিহীন নয়। হাদীসে এসেছে:

إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا
(মুসলিম, হাদীস নং ১০১৫)

আর হাফেজদের জন্য হালাল রুজির ব্যবস্থা করা জরুরি। কিন্তু এখনই ইনকামের চিন্তায় হিফজ ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয় — কারণ হিফজ শেষ করে আলেম হওয়ার পর হালাল উপায়ে রুজি-রোজগারের অনেক পথ আছে (ইমামতি, শিক্ষকতা, ফতোয়া, অনলাইন দাওয়াহ ইত্যাদি)।


৩. এখন করণীয়

(১) তাকে জোর করবেন না, কিন্তু বুঝান

রাসূল ﷺ বলেছেন:

إِنَّ الرِّفْقَ لَا يَكُونُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ، وَلَا يُنْزَعُ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ
(মুসলিম, হাদীস নং ২৫৯৪)

নরমভাবে, ভালোবাসা দিয়ে বোঝান। তার ভয় দূর করুন — বলুন ইনকামের ব্যবস্থা আল্লাহ করবেন, আগে দ্বীন শিখুক।

(২) একজন নির্ভরযোগ্য আলেম/মুফতির সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন

স্থানীয় মাদ্রাসার মুহতামিম বা কোনো বিশ্বস্ত আলেমের সাথে বসে কথা বলান। অনেক সময় বাইরের কারো কথা ছেলেরা বেশি মানে।

(৩) তার পছন্দের বিষয়কে গুরুত্ব দিন

হয়তো সে মাদ্রাসার পরিবেশ, পড়ার চাপ, বা hostel-এর কষ্টে বিরক্ত। তাকে জিজ্ঞেস করুন — আসল সমস্যা কী? কখনো কখনো পড়ার ধরন বদলালে, বা বাড়ির কাছে কোনো মাদ্রাসায় ভর্তি করালে সে ফিরে আসে।

(৪) কমপক্ষে ১২ পারা রক্ষার ব্যবস্থা করুন

যদি সে মাদ্রাসায় না-ও যায়, তবু প্রতিদিন কিছু সময় নিজে পড়ে বা আপনাকে শুনিয়ে হলেও ১২ পারা রক্ষা করুক। এটা তার দ্বীনি দায়িত্ব।

(৫) আপনার মাকে সান্ত্বনা দিন

আপনার মা দুশ্চিন্তায় আছেন — তাকে বলুন, সন্তানের হিদায়াতের জন্য দোয়াই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। মায়ের দোয়া কবুল হয়। বেশি বেশি পড়ুন:

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي (সূরা ইবরাহীম: ৪০)

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا (সূরা ফুরকান: ৭৪)

(৬) নিজে দ্বীনি ইলম অর্জন করুন

পরিবারে দ্বীনি বুঝ কম — এর সমাধান হলো আপনি নিজেই দ্বীন শিখুন। অনলাইনে বা স্থানীয় মসজিদে আলেমের কাছে সহীহ আকীদা, ফিকহ, কুরআন শিখুন। আপনি শিখলে পরিবারে পরিবর্তন আসবে ইনশাআল্লাহ।


৪. সংক্ষেপে করণীয়

| বিষয় | করণীয় | |---|---| | বাবার হারাম ইনকাম | সদাচরণ বজায় রাখুন, দোয়া করুন, নিজে সন্দেহজনক সম্পদ এড়িয়ে চলুন | | ভাইয়ের হিফজ | জোর নয়, ভালোবাসা ও হিকমত দিয়ে বোঝান; আলেমের সাহায্য নিন | | ১২ পারা রক্ষা | প্রতিদিন কিছু সময় পড়া/শোনানোর ব্যবস্থা করুন | | মায়ের দুশ্চিন্তা | দোয়া ও ধৈর্যের পরামর্শ দিন | | নিজের করণীয় | নিজে দ্বীন শিখুন, পরিবারের জন্য দোয়া করুন |


মূল কথা: জোর-জবরদস্তি নয়, দোয়া + হিকমত + ভালোবাসা — এই তিনটিই সন্তানকে দ্বীনের পথে ফেরানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। আল্লাহ আপনার ভাইকে হিদায়াত দিন, আপনার পরিবারকে দ্বীনের বুঝ দান করুন। আমীন।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.