দাম্পত্য জীবন

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5329
Questioner: Sazia Afrin labonna
Question Asked: 11 Sep 2026, 11:32 PM
Reviewed & Published: 12 Sep 2026, 03:04 AM
Views: 23
Tokens: 5,351
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হাজবেন্ড ওয়াইফ দুরে থাকা অবস্থা তে যদি শারীরিক চাহিদা পূরন করতে দুজনে উত্তেজক কথা বলে এবং কথার সেই সাথে হাত বা বালিশ এর সাহায্য নিয়ে বীর্যপাত ঘটায় তবে কি গুনাহ হবে? আর যদি গুনাহ হয় তবে দুরে থাকা অবস্থা তে কিভাবে শারীরিক চাহিদা পূরন করবে?

Answer

দাম্পত্য জীবনে দূরত্বে থাকাকালীন শারীরিক চাহিদা পূরণের বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

স্বামী-স্ত্রী দূরত্বে থাকা অবস্থায় উত্তেজক কথা বলে এবং হাত বা বালিশের সাহায্যে বীর্যপাত ঘটালে তা কি গুনাহ হবে? আর যদি গুনাহ হয়, তবে দূরত্বে থেকে শারীরিক চাহিদা পূরণের সঠিক পদ্ধতি কী?


বিস্তারিত উত্তর

১. প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্ক সম্পূর্ণ হালাল। এমনকি কুরআনে কারীমে এটিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:

هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ

"তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।"

— (সূরা আল-বাকারা: ১৮৭)

আরেক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ

"তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা তোমাদের ক্ষেতে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।"

— (সূরা আল-বাকারা: ২২৩)

তবে প্রশ্নে বর্ণিত বিষয়টি হলো দূরত্বে থাকা অবস্থায় হস্তমৈথুন বা বালিশের সাহায্যে বীর্যপাত — যা ফিকহের পরিভাষায় "ইস্তিমনা বিল ইয়াদ" (হস্তমৈথুন) নামে পরিচিত। এ বিষয়ে হানাফি মাযহাবের বিধান নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


২. হস্তমৈথুনের হুকুম — হানাফি মাযহাবের দলিলভিত্তিক আলোচনা

ক. কুরআনের দলিল

আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:

وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ

"আর যারা নিজেদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে, নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসী ছাড়া। নিশ্চয়ই তারা নিন্দনীয় নয়। অতএব যারা এর বাইরে কিছু কামনা করে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।"

— (সূরা আল-মুমিনুন: ৫-৭; সূরা আল-মা'আরিজ: ২৯-৩১)

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন:

"فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ" أَيْ طَلَبَ مَا وَرَاءَ الزَّوْجَةِ وَمِلْكِ الْيَمِينِ مِنَ الِاسْتِمْنَاءِ وَغَيْرِهِ "فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ" أَيِ الْمُتَجَاوِزُونَ الْحَلَالَ إِلَى الْحَرَامِ

"অর্থাৎ যে ব্যক্তি স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসী ছাড়া অন্য কিছু কামনা করে — যেমন হস্তমৈথুন ইত্যাদি — তারাই সীমালঙ্ঘনকারী, অর্থাৎ হালাল থেকে হারামের দিকে অগ্রসর হয়।"

— (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হাযর ওয়াল ইবাহা)

খ. হাদিসের দলিল

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

"হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে; কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে; কারণ রোজা তার জন্য ঢালস্বরূপ।"

— (সহিহ বুখারি: ৫০৬৫, সহিহ মুসলিম: ১৪০০)

ইমাম আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন:

"রাসূলুল্লাহ ﷺ যৌন চাহিদা নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি পথ বাতলে দিয়েছেন — বিয়ে অথবা রোজা। তিনি হস্তমৈথুনের কথা উল্লেখ করেননি, যা প্রমাণ করে এটি সমাধান নয়।"

— (ফয়যুল বারী, কিতাবুন নিকাহ)

গ. হানাফি ফিকহের স্পষ্ট বক্তব্য

ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আশ-শাইবানি (রহ.) বলেন:

الِاسْتِمْنَاءُ حَرَامٌ فِي قَوْلِ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ

"হস্তমৈথুন সাধারণ আলিমদের মতানুসারে হারাম।"

— (আল-আসার, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ)

ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা উভয়েই হস্তমৈথুনকে মাকরূহ তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি) বলেছেন।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতারে বলেন:

الِاسْتِمْنَاءُ بِالْيَدِ حَرَامٌ إِلَّا لِخَوْفِ الزِّنَا أَوْ مَرَضٍ أَوْ عُزْبَةٍ مُفْرِطَةٍ

"হাত দ্বারা হস্তমৈথুন করা হারাম — তবে যদি যিনার ভয় থাকে, বা রোগের আশঙ্কা থাকে, বা অতিরিক্ত কামপ্রবণতা থাকে (তবে ভিন্ন কথা)।"

— (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, কিতাবুল হাযর)

ফাতাওয়া আলমগিরিতে উল্লেখ আছে:

الِاسْتِمْنَاءُ حَرَامٌ وَهُوَ أَنْ يُخْرِجَ الْمَنِيَّ بِيَدِهِ أَوْ بِغَيْرِهَا

"হস্তমৈথুন হারাম — তা হাত দ্বারা হোক বা অন্য কোনো উপায়ে।"

— (ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ)


৩. প্রশ্নে বর্ণিত নির্দিষ্ট বিষয়ের বিধান

ক. উত্তেজক কথা বলা (দূরত্বে থাকা অবস্থায়)

স্বামী-স্ত্রী দূরত্বে থাকলে ফোনে বা মেসেজে উত্তেজক কথা বলা — এ বিষয়ে দুটি দিক রয়েছে:

১. যদি উভয়ের মধ্যে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের অংশ হিসেবে হয় এবং এর উদ্দেশ্য হয় একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও আকর্ষণ বজায় রাখা — তবে এটি জায়েয। কারণ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ ধরনের কথা বলা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। বরং এটি দাম্পত্য সম্পর্কের একটি স্বাভাবিক অংশ।

২. তবে যদি এর সাথে হস্তমৈথুন বা বীর্যপাত ঘটানো হয় — তবে তা হারাম

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:

وَلَا بَأْسَ بِأَنْ يُكَلِّمَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ بِكَلَامٍ يُهَيِّجُ الشَّهْوَةَ إِذَا كَانَ بَيْنَهُمَا حَلَالٌ، وَلَكِنْ لَا يَجُوزُ إِخْرَاجُ الْمَنِيِّ بِالْيَدِ

"স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তেজক কথা বলা দোষণীয় নয়, কারণ তাদের মধ্যে সম্পর্ক হালাল। তবে হাত দ্বারা বীর্যপাত করা জায়েয নয়।"

— (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হাযর)

খ. হাত বা বালিশের সাহায্যে বীর্যপাত

এটি স্পষ্টভাবে হারাম। কারণ:

  1. এটি হস্তমৈথুনের অন্তর্ভুক্ত — যা উপরে বর্ণিত দলিল অনুযায়ী হারাম।
  2. বালিশ ব্যবহার করলেও তা হস্তমৈথুনের সমান — কারণ উদ্দেশ্য একই এবং পদ্ধতি ভিন্ন হলেও হুকুম একই।
  3. ইমাম তাহতাবি (রহ.) বলেন: "الِاسْتِمْنَاءُ بِأَيِّ آلَةٍ كَانَ حَرَامٌ" — "যে কোনো উপকরণ দ্বারা হস্তমৈথুন করা হারাম।"

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) ফাতাওয়া উসমানিতে বলেন:

"হস্তমৈথুন যে কোনো পদ্ধতিতে — হাত, বালিশ, যন্ত্র বা অন্য কোনো উপায়ে — হারাম। তবে যদি কেউ যিনার ভয় পায় এবং বিয়ের সামর্থ্য না থাকে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে একটি বর্ণনা আছে যে, সেক্ষেত্রে তা জায়েয হতে পারে। কিন্তু সাধারণ অবস্থায় তা হারাম।"

— (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯৩)


৪. দূরত্বে থাকা অবস্থায় শারীরিক চাহিদা পূরণের সঠিক পদ্ধতি

যেহেতু হস্তমৈথুন হারাম, তাই দূরত্বে থাকা অবস্থায় শারীরিক চাহিদা পূরণের জন্য ইসলামি শরিয়ত নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো নির্দেশ করে:

ক. সবর ও সংযম (সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি)

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا

"আর যারা আমার পথে সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথ দেখাব।"

— (সূরা আল-আনকাবুত: ৬৯)

ইমাম গাজালি (রহ.) ইহইয়াউ উলুমিদ্দিনে বলেন:

"নফসের চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা জিহাদের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে সংযত করে, আল্লাহ তাকে এর উত্তম প্রতিদান দেন।"

খ. রোজা রাখা

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

"যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে; কারণ রোজা তার জন্য ঢালস্বরূপ।"

— (সহিহ বুখারি: ৫০৬৫)

মুফতি মুহাম্মাদ শফি (রহ.) মা'আরিফুল কুরআনে বলেন:

"রোজা শুধু খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং সমস্ত ইন্দ্রিয় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গুনাহ থেকে সংযত রাখার নাম। এটি যৌন চাহিদা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।"

— (মা'আরিফুল কুরআন, সূরা আল-বাকারা: ১৮৩-এর তাফসির)

গ. বেশি বেশি ইবাদত ও কুরআন তিলাওয়াত

আল্লাহর যিকির ও কুরআন তিলাওয়াত হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং কামপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। আল্লাহ বলেন:

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

"জেনে রাখো, আল্লাহর যিকির দ্বারাই হৃদয় প্রশান্ত হয়।"

— (সূরা আর-রা'দ: ২৮)

ঘ. দাম্পত্য সম্পর্কের বৈধ উপায় অবলম্বন করা

যদি সম্ভব হয়, তবে দূরত্ব কমিয়ে আনা বা একসাথে থাকার ব্যবস্থা করা। কারণ ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর একসাথে থাকা সুন্নত এবং এটি অনেক ফিতনা থেকে রক্ষা করে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ

"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।"

— (সুনানে তিরমিজি: ৩৮৯৫)

ঙ. যদি যিনার ভয় প্রবল হয়

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে একটি বর্ণনা আছে যে, যদি কেউ যিনার ভয় পায় এবং বিয়ের সামর্থ্য না থাকে, তবে সেক্ষেত্রে হস্তমৈথুনের অনুমতি আছে — তবে এটি শুধুমাত্র চরম প্রয়োজনের ক্ষেত্রে এবং সম্পূর্ণ হারাম থেকে বাঁচার জন্য

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:

وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: لَا بَأْسَ بِهِ إِذَا خَافَ الزِّنَا وَكَانَ عَزَبًا

"ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: যদি কেউ যিনার ভয় পায় এবং অবিবাহিত হয়, তবে তাতে দোষ নেই।"

— (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২)

তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মত হলো এটি সর্বাবস্থায় হারাম। এবং ফাতাওয়া উসমানিইমদাদুল ফাতাওয়া-তে মুফতি তাকি উসমানি ও মুফতি আশরাফ আলী থানভি (রহ.) এই মতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

মুফতি আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বলেন:

"হস্তমৈথুন কখনোই জায়েয নয়, যদিও কেউ যিনার ভয় পায়। বরং তার উচিত রোজা রাখা, ইবাদত বাড়ানো এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।"

— (ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৭৬)


৫. সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত বিধান

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | দূরত্বে থাকা অবস্থায় উত্তেজক কথা বলা | জায়েয (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে) | | হাতের সাহায্যে বীর্যপাত | হারাম | | বালিশ বা অন্য কোনো উপকরণের সাহায্যে বীর্যপাত | হারাম | | যিনার ভয় থাকলে হস্তম


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.