ব্যস্ততার জন্য ফোন না ধরা

Halal and Haram · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 5298
Questioner: Rafizur Rahman Rafi
Question Asked: 11 Sep 2026, 03:03 PM
Reviewed & Published: 11 Sep 2026, 03:22 PM
Views: 18
Tokens: 3,205
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার ভাবি আমাকে ফোন দেন তবে আমি কাজের ব্যস্ততার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ফোন ধরি নাই। পরে আমি কাজ শেষ করে ভাবিকে ফোন দিই এবং জানতে পারি তিনি তেমন জরুরী কাজে ফোন দেন নাই।
এখন এই যে আমি কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ফোন ধরি নাই এতে কি আমার গুনাহ হবে? বা ফোন না ধরে যে কাজ করছিলাম তা করা কি হারাম হয়েছে?

Answer

ফোন না ধরার বিধান

সংক্ষিপ্ত উত্তর: কাজের ব্যস্ততার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে ফোন না ধরায় আপনার কোনো গুনাহ হবে না, এবং ফোন না ধরে যে কাজ আপনি করছিলেন তা হারাম হয়নি — বরং তা হালাল ও জায়েয ছিল। তবে ভাবির সাথে সদাচরণ ও ভালো ব্যবহার বজায় রাখা ইসলামে কাঙ্ক্ষিত।


বিস্তারিত দলিলসহ আলোচনা

১. মূলনীতি: ফোন ধরা শরীয়তগত বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) নয়

কোনো মুসলিমকে ফোন করা বা তার ফোন ধরার ব্যাপারে শরীয়তে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই — এটি কেবল একটি সামাজিক মাধ্যম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى الْمُحْسِنِينَ...» — হাদিসটি সনদে দুর্বল, তবে অর্থ: সদাচরণ করা কর্তব্য।

আর আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ "কেউ অন্যের বোঝা বহন করবে না।" — (সূরা আল-আনআম: ১৬৪)

যেহেতু ফোন ধরা ওয়াজিব ছিল না, তাই তা না ধরায় গুনাহ নেই।

২. কাজ করা হারাম হয়নি — বরং তা বৈধ

আপনি যখন কাজ করছিলেন, তখন তা ছিল হালাল কাজ। আল্লাহ তা'আলা হালাল উপার্জনের নির্দেশ দিয়েছেন:

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ "নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিযিক) সন্ধান করো।" — (সূরা আল-জুমুআ: ১০)

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "দুনিয়ার হালাল কাজে লিপ্ত থাকা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, যদি নিয়ত সঠিক হয়।" (মাজমুউল ফাতাওয়া)

৩. আত্মীয়তার সাথে সদাচরণ — ইসলামের নির্দেশ

যদিও ফোন না ধরায় গুনাহ নেই, তবে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন:

وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ "আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে চাও, এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্ক থাকো।" — (সূরা আন-নিসা: ১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ» "যে ব্যক্তি চায় তার রিযিক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।" — (সহীহ বুখারী: ৫৯৮৬, সহীহ মুসলিম: ২৫৫৭)

৪. শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.)-এর ফতোয়া

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ফোনে সালাম দেওয়া বা ফোন ধরা নিয়ে। তিনি বলেন: "ফোন ধরা ওয়াজিব নয়; তবে যদি কেউ জরুরি প্রয়োজনে বারবার ফোন করে এবং তা না ধরায় তার ক্ষতি হয়, তাহলে তা না ধরা উচিত নয়।" (লিকাউল বাবিল মাফতুহ)

আপনার ক্ষেত্রে ভাবি জরুরি কাজে ফোন করেননি — তাই আপনার কোনো দায় নেই।

৫. শাইখ ইবন বায (রহ.)-এর বক্তব্য

শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন: "মুসলিমের উচিত ভাইয়ের ফোন বা চিঠির উত্তর দেওয়া, যদি সম্ভব হয়; তবে ব্যস্ত থাকলে পরে উত্তর দেওয়া জায়েয।" (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব)


উপসংহার

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | ইচ্ছাকৃতভাবে ফোন না ধরা (ব্যস্ততার কারণে) | গুনাহ নেই | | ফোন না ধরে কাজ করা | হারাম হয়নি, হালাল ছিল | | পরে ফোন করে জানা | ভালো কাজ, সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত |

পরামর্শ: ভবিষ্যতে সম্ভব হলে জানিয়ে দিন যে আপনি কাজে ব্যস্ত থাকেন, অথবা কাজ শেষে দ্রুত ফোন দিয়ে খোঁজ নিন — এতে আত্মীয়তার সম্পর্ক মজবুত থাকবে এবং সদাচরণের সওয়াব পাবেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.