হায়েযের সময় লাল ও হলুদ spotting দেখলে কি সালাত পড়া যাবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 5293
Questioner: Taj
Question Asked: 11 Sep 2026, 01:44 PM
Reviewed & Published: 11 Sep 2026, 02:41 PM
Views: 11
Tokens: 4,656
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি লাল এবং হলুদ spotting দেখছি । মানে সত্যিকার রক্তপ্রবাহ হচ্ছে না কিন্তু লাল ডিসচার্জ আসে । আর এখন আমার হায়েয এর সময় মানে ঠিক এই সময় e হায়েয হওয়ার কথা। আর বেশ কিছু দিন থেকে বিশেষত কাল থেকে ব্যথা ও করছে ।আর কি মানে symptoms দেখা যায় যে হায়েয হবে।
আমি কি সালাত পড়তে পারব ? একটু তাড়াতাড়ি বলুন মিন ফাদলিক । জাযাকাল্লাহু খাইরান ফি দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ

Answer

হায়েয, ইস্তিহাযা ও সালাত: বিস্তারিত ফিকহি নির্দেশনা

**উত্তর (সংক্ষেপে): ** আপনার বর্ণনা অনুযায়ী — যেহেতু এটি আপনার হায়েযের স্বাভাবিক সময়, এবং লাল/হলুদ ডিসচার্জ আসছে — এটি হায়েয হিসেবে গণ্য হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সালাত পড়া থেকে বিরত থাকুন, এবং হায়েয শেষ হওয়ার পর কাজা ছাড়াই সালাত পুনরায় শুরু করুন। তবে সতর্কতার সাথে নিচের বিস্তারিত পড়ুন।


১. মূল নীতি: হায়েয, ইস্তিহাযা ও কুরূন-সাদা স্রাবের পার্থক্য

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী:

| প্রকার | হুকুম | |---|---| | হায়েয (মাসিক) | সালাত, সাওম, তিলাওয়াত, সহবাস হারাম | | ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) | সালাত ফরজ, ওযু করে পড়তে হবে | | কুরূন-সাদা (সাদা স্রাব) | পবিত্র, সালাত জায়েয |

হায়েযের সর্বনিম্ন সময়: ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা) — ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে। সর্বোচ্চ সময়: ১০ দিন ১০ রাত (২৪০ ঘণ্টা)। দুই হায়েযের মাঝে সর্বনিম্ন পবিত্রতা: ১৫ দিন।

রেফারেন্স: আল-হিদায়া (কিতাবুত-তাহারাত), রাদ্দুল মুহতার (১/২৮৩), ফাতাওয়া আলমগিরি (১/৩৭), বাদায়েউস সানায়ে


২. আপনার প্রশ্নের সরাসরি বিশ্লেষণ

(ক) লাল ও হলুদ spotting — এটা কি হায়েয?

হ্যাঁ, সম্ভবত হায়েয। কারণ:

  1. সময়মতো হচ্ছে — আপনি নিজেই বলেছেন "এখন আমার হায়েযের সময়, ঠিক এই সময়েই হায়েয হওয়ার কথা।"
  2. হায়েযের পূর্বলক্ষণ (ব্যথা, টান) — কাল থেকে ব্যথা হচ্ছে, যা হায়েযের সাধারণ লক্ষণ।
  3. রঙ — হানাফি মাঝে হলুদ (اصفر) ও মেটে/বাদামি (كدرة) স্রাবও হায়েযের দিনগুলোতে হায়েয হিসেবে গণ্য হয়।

হাদিস: উম্মে আতিয়া (রাযি.) বলেন — «كُنَّا لَا نَعُدُّ الصُّفْرَةَ وَالْكُدْرَةَ شَيْئًا» অর্থাৎ "আমরা হলুদ ও মেটে স্রাবকে (হায়েযের পর) কিছুই গণ্য করতাম না।" — সহিহ বুখারি: ৩২৬; আবু দাউদ: ৩০৭

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাসলাক: হায়েযের দিনগুলোতে হলে হলুদ/মেটে স্রাবও হায়েয; আর পবিত্রতার দিনগুলোতে হলে তা ইস্তিহাযা বা ওযু ভঙ্গকারী নাপাকি।

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার (১/২৮৪), ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৮), মাবসুত (৩/১৫)।

(খ) "সত্যিকার রক্তপ্রবাহ হচ্ছে না" — এতে কি পরিবর্তন হয়?

না। হায়েযের হুকুম রক্তের পরিমাণ বা প্রবাহের বেগের উপর নির্ভর করে না; বরং রঙ ও সময়ের উপর নির্ভর করে। অল্প অল্প করে ডিসচার্জ হলেও তা হায়েয।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন: "القليل والكثير في الحيض سواء" — হায়েযে অল্প-বেশি সমান।

(গ) হায়েযের পূর্বলক্ষণ (symptoms)

হায়েযের আগে সাধারণত যে লক্ষণগুলো দেখা যায়:

  • তলপেটে ব্যথা, টান, খিঁচুনি
  • কোমর ব্যথা
  • মাথাব্যথা, মুড পরিবর্তন
  • স্তনে ব্যথা/ভারী অনুভব
  • পেট ফুলে যাওয়া
  • সাদা স্রাব বেড়ে যাওয়া

এগুলো হায়েযের আলামত, তবে এগুলো নিজে হায়েয নয় — বরং এগুলো হায়েয শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।


৩. আপনার মূল প্রশ্ন: সালাত পড়া যাবে কি?

সিদ্ধান্ত:

যেহেতু আপনার হায়েযের নির্ধারিত সময় এবং লাল/হলুদ স্রাব আসছে — আপনি হায়েযের হুকুমে আছেন। তাই এখন সালাত পড়বেন না।

কারণ:

  • হায়েযের সময়ে স্রাব দেখা গেলে তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে, যদিও তা অল্প হয়।
  • হায়েয অবস্থায় সালাত ফরজ নয়, এবং পরে কাজাও করতে হবে না

হাদিস: ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ (রাযি.)-এর ঘটনায় নবী ﷺ বলেন — «فَإِذَا كَانَ دَمُ الْحَيْضِ فَإِنَّهُ دَمٌ أَسْوَدُ يُعْرَفُ، فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَأَمْسِكِي عَنِ الصَّلَاةِ، فَإِذَا كَانَ الْآخَرُ فَتَوَضَّئِي وَصَلِّي» "যখন হায়েযের রক্ত হয় — তা কালো ও চেনা যায় — তখন সালাত থেকে বিরত থাকো; আর যখন অন্য রক্ত হয়, তখন ওযু করে সালাত পড়ো।" — আবু দাউদ: ২৮৬; নাসাঈ: ২১৫

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার (১/২৮৪-২৮৫), ফাতাওয়া উসমানি (১/১৩৫), ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৩০)।


৪. সতর্কতা ও করণীয়

(ক) যদি স্রাব ৩ দিনের কম হয়?

  • হানাফি মাঝে ৩ দিনের কম স্রাব হায়েয নয় — সেটা ইস্তিহাযা।
  • কিন্তু যদি আপনার পূর্বের অভ্যাস (আদত) অনুযায়ী এই সময়েই হায়েয হয়, এবং স্রাব ৩ দিন পর্যন্ত চলতে থাকে — তাহলে তা হায়েয।
  • যদি ৩ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যায় — তাহলে সেটা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে, এবং ঐ দিনগুলোর সালাত কাজা করতে হবে

(খ) যদি ১০ দিনের বেশি চলতে থাকে?

  • ১০ দিন পর্যন্ত হায়েয; এরপর ইস্তিহাযা
  • ইস্তিহাযার অবস্থায় প্রতি ওয়াক্তে ওযু করে সালাত পড়তে হবে

(গ) এখন করণীয় (তাৎক্ষণিক):

  1. সালাত বন্ধ রাখুন — যেহেতু হায়েযের সময় ও লক্ষণ বিদ্যমান।
  2. স্রাবের রঙ, পরিমাণ ও দিনের হিসাব লিখে রাখুন — এতে হায়েয/ইস্তিহাযা নির্ণয় সহজ হবে।
  3. ৩ দিন পূর্ণ হওয়ার পর যদি স্রাব বন্ধ হয় — গোসল করে সালাত শুরু করুন।
  4. ১০ দিন অতিক্রম করলে — ইস্তিহাযার হুকুমে সালাত শুরু করুন (ওযু করে)।
  5. সন্দেহ থাকলে — স্থানীয় মুফতি/আলেমের সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।

৫. বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ

  • হায়েযের সময়ে সালাত মাফ — কাজা নেই। কিন্তু সাওম (রোজা) কাজা করতে হবে
  • কুরআন তিলাওয়াত, মসজিদে প্রবেশ, সহবাস — হায়েযে নিষিদ্ধ।
  • হায়েয শেষে গোসল — ফরজ; গোসলের পর সালাত শুরু।

রেফারেন্স: বাহিশতী জেওর (তাহারাত অধ্যায়), মা'আরিফুল কুরআন (সূরা বাকারা: ২২২-এর তাফসির), ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫/২৩০)।


৬. উপসংহার

| প্রশ্ন | উত্তর | |---|---| | এটা কি হায়েয? | সম্ভবত হ্যাঁ — সময় ও লক্ষণ অনুযায়ী | | সালাত পড়া যাবে? | না — হায়েযের হুকুমে বিরত থাকুন | | কাজা করতে হবে? | না — হায়েযের সালাত মাফ | | কখন শুরু করব? | স্রাব বন্ধ হলে গোসল করে | | ১০ দিনের বেশি হলে? | ইস্তিহাযা — ওযু করে সালাত পড়ুন |

আল্লাহ তা'আলা আপনার ইবাদত কবুল করুন এবং শিফা দান করুন। আমিন।

واللہ أعلم بالصواب আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে সঠিক ফিকহি জ্ঞান দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.