বিয়ে সংক্রান্ত এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
"ফজরের নামাজের পর ; সালাতের মতো দাঁড়িয়ে আল্লাহর গুণবাচক নাম "ইয়া ফাত্তাহু " পড়লে বিয়ে সহজ হয়। এটা কি কোন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত? এটা আমল করা যাবে কি? ঐ ইমাম মিলাদ পড়ান মসজিদে।আবার বিভিন্ন তাবীজ ও লিখে দেন মানুষকে।
২) শশুর বাড়িতে জয়েন ফ্যামিলিতে থেকে নিজেকে পরিপূর্ণ পর্দায় রাখা প্রায় অসম্ভব, ঘরের ভিতর দেবর ভাসু্র ও আছেন। রান্নাঘরের ভিতর দিয়ে টিউবওয়েলে যেতে হয়, তাই দেবর ভাসুরের যাতায়াত করতে হয় রান্নাঘরে ও । এমন অবস্থায় ঘরে যদি আমি সম্পূর্ণ পা ঢেকে রাখবে এমন স্কার্ট পড়ি আর উপরে হিজাব পড়ি (নিকাব সহ) তাহলে কি শরয়ী পর্দা হবে? হিজাবের কালার কালো রঙের হওয়া কি জরুরি ?
৩) বিয়ে সহিহ হওয়ার ক্ষেত্রে কনের উকিল, নিজ মাহরাম পুরুষ ছাড়া অন্য কোন পুরুষ, উকিল হতে পারবে?
৪) মোবাইলে বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের পক্ষ থেকে আপন ভাই বা বাবা ছাড়া অন্য কেউ যদি উকিল হয় , আর ঐ উকিল ছেলে যেখানে আছে (বিদেশে ) সেখানে যায় , এবং ছেলে তার জন্যে তার কোন একজন বন্ধু বা সহকর্মী কাউকে সাক্ষী হিসেবে রাখলো ,
তাহলে এভাবে কি বিয়ে হবে ?
৫) বিয়ের জন্য কনের কবুল বলা বা আলহামদুলিল্লাহ বলা কি আবশ্যক?
কনের অনুমতি আছে এতটুকু জানালেই তো হয়?
৬) ছেলের জন্য সাক্ষী বা উকিল রাখার কোনো প্রয়োজন আছে কি শরিয়তে?
৭) বিদআতি আলেম দ্বারা বিয়ে পড়ানো কি জায়েজ হবে?
৮) এক বোনের প্রশ্ন:
আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। শেষ রাতের কিছুক্ষণ আগে স্বপ্নটি দেখেছি। ঘুম থেকে ওঠার পর কোনো ধরনের অস্থিরতা বা ভয় কাজ করেনি, তবে বিষয়টি ভেবে কিছুটা খারাপ লেগেছে।
আমি আলহামদুলিল্লাহ বিবাহিত। আল্লাহ তাআলার হুকুমে আমাদের দাম্পত্য সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে বারাকাহ রয়েছে,আমি এবং আমার যাওজ উভয় একে অপরকে আল্লাহর জন্য অনেক ভালবাসি আলহামদুলিল্লাহ,লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাহ বিল্লাহ। দ্বিতীয় বিবাহ বা এ ধরনের কোনো বিষয় নিয়ে আমি কখনো চিন্তাও করিনি।
কিন্তু স্বপ্নে দেখলাম, আমার আবার বিবাহ হচ্ছে,এবং আমি প্রচুর কান্না করছি। বিষয়টি আমার কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর লেগেছে। তাই জানতে চাচ্ছিলাম, এ ধরনের স্বপ্নের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আছে কি? এর মাধ্যমে কি কোনো সতর্কতা, ইঙ্গিত বা বার্তা বোঝানো হতে পারে?
৯) সালাতের মধ্যে আওয়াজ ছাড়া হাসিতে নামাজ কি ভেঙে যায়? শুধু হালকা নাক দিয়ে কিছুটা আওয়াজ হয়। যেমন সাধারণত আমি হাসার সময় হালকা নাক দিয়ে কিছুটা আওয়াজ হয় ঠিক একই ভাবেও নামাজে বাচ্চার কোন কাজে , হেসে ফেললে নাক দিয়ে আওয়াজ হয়, এতে কি নামাজ ভেঙ্গে যাবে?
Answer
বিয়ে সংক্রান্ত ও স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিষয়ক ফতোয়া
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، أما بعد
প্রশ্ন ১: "ইয়া ফাত্তাহু" পড়ে বিয়ে সহজ হওয়ার দাবি
উত্তর:
"ইয়া ফাত্তাহু" আল্লাহ তাআলার একটি গুণবাচক নাম। এটি অর্থপূর্ণ নাম, যার অর্থ "মহা বিজয়দানকারী, মুক্তিদানকারী"। তবে ফজরের নামাজের পর সালাতের মতো দাঁড়িয়ে নির্দিষ্টভাবে "ইয়া ফাত্তাহু" পড়লে বিয়ে সহজ হয় — এমন কোনো সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নেই।
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে এ ধরনের কোনো আমল পাওয়া যায় না। এটি কোনো নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত নেই। সুতরাং এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
আমল করা যাবে কি?
- যদি কেউ সাধারণভাবে আল্লাহর নাম স্মরণ করে (যিকির হিসেবে) এবং বিয়ের জন্য দুআ করে, তাহলে তা জায়েজ।
- কিন্তু নির্দিষ্ট পদ্ধতি, নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট সংখ্যা — যা হাদিসে প্রমাণিত নয় — তা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হবে।
- হাদিসে বিয়ে সহজ হওয়ার জন্য দুআ হিসেবে "اللهم إني أسألك من فضلك" বা সাধারণভাবে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া যেতে পারে।
ইমাম সম্পর্কে:
-
মিলাদ পড়ানো শরিয়তে বিদআত ও নিষিদ্ধ। মিলাদ শরিয়তে প্রমাণিত ইবাদত নয়। আর তাবিজ-লিখন — যদি কুরআনের আয়াত বা দুআ হয়, তবে জায়েজ,অন্যথায় নয়।
-
ফতোয়া: এমন ইমামের পেছনে নামাজ পড়া যাবে যদি তিনি ফরজ নামাজ সঠিকভাবে পড়ান, তবে মিলাদে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
রেফারেন্স:
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৬০ (যিকির ও দুআ প্রসঙ্গে)
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪৫ (বিদআত প্রসঙ্গে)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৮৭
প্রশ্ন ২: শশুর বাড়িতে পর্দা ও হিজাবের রঙ
উত্তর:
পর্দার বিধান:
- ইসলামে পর্দা হলো নারী-পুরুষের মধ্যে দৃষ্টি ও যোগাযোগের সীমা রক্ষা করা। ঘরের ভেতরে দেবর-ভাসুর (যারা মাহরাম নয়) তাদের থেকে পর্দা করা ফরজ।
- তবে সম্পূর্ণ পা ঢেকে রাখা — যদি স্কার্ট বা পায়জামা পা ঢেকে রাখে এবং ঢিলেঢালা হয়, তাহলে তা পর্দার অন্তর্ভুক্ত।
- হিজাব + নিকাব — গায়রে মাহরামদের সামনে মুখ ঢেকে রাখা ফরজ।
হিজাবের রঙ:
- কালো রঙ জরুরি নয়। হিজাবের রঙ যেকোনো রঙ হতে পারে, তবে শর্ত হলো:
- ঢিলেঢালা হওয়া (শরীরের গঠন প্রকাশ না করা)
- অস্বচ্ছ হওয়া (নিচে যা আছে তা দেখা না যাওয়া)
- পুরুষের পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হওয়া
- ফিতনা সৃষ্টি না করা
রেফারেন্স:
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৬৭ (সতর প্রসঙ্গে)
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫৬
- বাহিশতী জেওর, পৃষ্ঠা ৪৫ (পর্দা অধ্যায়)
প্রশ্ন ৩: কনের উকিল — মাহরাম ছাড়া অন্য পুরুষ
উত্তর:
হানাফি মাজহাবে বিয়ের উকিল (ওয়ালি) হওয়ার শর্ত:
- কনের পক্ষ থেকে উকিল হতে হবে মাহরাম পুরুষ — অর্থাৎ বাবা, দাদা, ভাই, চাচা, মামা ইত্যাদি।
- নিজ মাহরাম পুরুষ ছাড়া অন্য কোনো পুরুষ উকিল হতে পারবে না — যদি না কনের কোনো মাহরাম পুরুষ না থাকে।
- যদি কোনো মাহরাম পুরুষ না থাকে, তাহলে কাজি বা ইসলামি আদালতের বিচারক উকিল হবে।
তবে:
- কনেকে যদি কেউ উকিল বানায় (যেমন: বাবা বা ভাই), তাহলে সেই উকিল মাহরাম হতে হবে।
- গায়রে মাহরাম পুরুষকে উকিল বানানো জায়েজ নয় — যদি মাহরাম পুরুষ উপস্থিত থাকে।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৫ (নিকাহ অধ্যায়)
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৩৭
- ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৩
প্রশ্ন ৪: মোবাইলে বিয়ে — উকিল বিদেশে গিয়ে সাক্ষী রাখা
উত্তর: প্রশ্নে উল্লেখিত বিবাহ শুদ্ধ নয়।
প্রশ্ন ৫: কনের কবুল বলা বা আলহামদুলিল্লাহ বলা আবশ্যক?
উত্তর:
হানাফি মাজহাবে:
- বিয়ে সহিহ হওয়ার জন্য কনের সম্মতি আবশ্যক। কনের সম্মতি ছাড়া বিয়ে সহিহ নয়।
- কবুল বলা: কনে যদি নিজে উপস্থিত থাকে, তাহলে তার "কবুল করলাম" বলা আবশ্যক। তবে যদি উকিল থাকে, তাহলে উকিল কনের পক্ষ থেকে কবুল বলবে।
- "আলহামদুলিল্লাহ" বলা: এটি কবুলের বিকল্প নয়। কবুল বলতে হবে স্পষ্টভাবে — "আমি এই বিয়ে কবুল করলাম" বা "রাজি আছি"।
- শুধু অনুমতি জানালেই হয় না — যদি কনে উপস্থিত না থাকে এবং উকিল থাকে, তাহলে উকিল কনের সম্মতিতে কবুল বলবে। কনের সম্মতি আগে থেকেই নেওয়া থাকলে উকিল কবুল বলবে।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৬
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৪০
- ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৫
প্রশ্ন ৬: ছেলের জন্য সাক্ষী বা উকিল রাখার প্রয়োজন আছে কি?
উত্তর:
হানাফি মাজহাবে:
- ছেলের জন্য উকিল রাখার প্রয়োজন নেই। ছেলে নিজে উপস্থিত থেকে কবুল বলবে।
- তবে সাক্ষী: বিয়ের মজলিসে দুইজন পুরুষ সাক্ষী থাকা আবশ্যক। এই সাক্ষী ছেলের পক্ষ থেকে বা কনের পক্ষ থেকে — উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।
- সাক্ষী ছাড়া বিয়ে: হানাফি মাজহাবে সাক্ষী ছাড়া বিয়ে সহিহ নয় (যদিও কিছু ফকিহ বলেছেন সহিহ, তবে হানাফি মাজহাবে সাক্ষী শর্ত)।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৭
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৪৩
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০১
প্রশ্ন ৭: বিদআতি আলেম দ্বারা বিয়ে পড়ানো জায়েজ হবে?
উত্তর:
বিদআতি আলেম কে?
- যে আলেম সুন্নতের বিপরীত আমল করে, যেমন: মিলাদ, তাবিজ, কবরপূজা, শিরকি আমল ইত্যাদি।
- বিদআতি আলেমের পেছনে নামাজ পড়া: যদি তিনি ফরজ নামাজ সঠিকভাবে পড়ান এবং তার বিদআত আকিদা সম্পর্কিত না হয়, তবে নামাজ জায়েজ। তবে উত্তম হলো সুন্নতি আলেমের পেছনে নামাজ পড়া।
- বিদআতি আলেম দ্বারা বিয়ে পড়ানো: বিয়ে পড়ানো একটি ইবাদত নয়, বরং একটি সামাজিক চুক্তি। যদি বিদআতি আলেম বিয়ের আকদ সঠিকভাবে পড়ান (ইজাব-কবুল, সাক্ষী, মাহরাম উকিল), তাহলে বিয়ে সহিহ হবে। তবে উত্তম হলো সুন্নতি আলেম দ্বারা বিয়ে পড়ানো।
- তবে: যদি বিদআতি আলেম বিয়ের সময় বিদআতি আমল (যেমন: মিলাদ, বিশেষ দুআ, তাবিজ) যোগ করেন, তাহলে তা থেকে বিরত থাকা উচিত।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪৫
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯০
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৬০
প্রশ্ন ৮: স্বপ্নে আবার বিয়ে হওয়া ও কান্না — ব্যাখ্যা
উত্তর:
স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি:
- স্বপ্ন তিন প্রকার: (১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, (২) শয়তানের পক্ষ থেকে ভয়, (৩) নফসের খেয়াল।
- সৎ স্বপ্ন — সুসংবাদ, অসৎ স্বপ্ন — শয়তানের প্ররোচনা, যা ভয় দেখানোর জন্য।
- রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমাদের কেউ যদি অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে, তাহলে সে যেন বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তা তার ক্ষতি করবে না।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২২৬২)
আপনার স্বপ্নের ব্যাখ্যা:
- স্বপ্নে আবার বিয়ে হওয়া এবং কান্না — এটি শয়তানের প্ররোচনা হতে পারে, যা আপনার সুখী দাম্পত্য জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য।
- কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই — কারণ এটি কুরআন-হাদিসে বর্ণিত স্বপ্নের ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত নয়।
- সতর্কতা বা ইঙ্গিত: স্বপ্নের মাধ্যমে শরিয়তে কোনো বাধ্যবাধকতা আসে না। আপনি আপনার দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর উপর ভরসা করে চালিয়ে যান।
- আমল: অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলুন, শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চান, এবং সেই স্বপ্নের কথা কারো সাথে আলোচনা করবেন না।
- দুআ: "اللهم إني أعوذ بك من شر ما رأيت" (হে আল্লাহ! আমি এই স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই)।
রেফারেন্স:
- সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২২৬১-২২৬৩
- মা'আরিফুল কুরআন, সূরা ইউসুফের তাফসির
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫৬ (স্বপ্ন প্রসঙ্গে)
প্রশ্ন ৯: নামাজে আওয়াজ ছাড়া হাসি — নামাজ ভঙ্গ হবে কি?
উত্তর:
হানাফি মাজহাবে নামাজে হাসির বিধান:
- আওয়াজ ছাড়া হাসি (শুধু মুচকি হাসি): নামাজ ভঙ্গ হয় না, তবে নামাজ মাকরুহ হয় না যদি না আওয়াজ হয়।
- আওয়াজ সহ হাসি (কাহকাহা): যদি হাসির আওয়াজ এতটা হয় যে, পাশের লোক শুনতে পায়, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে এবং ওযুও ভঙ্গ হয় (হানাফি মাজহাবে)।
- হালকা নাক দিয়ে আওয়াজ: যদি হাসির কারণে নাক দিয়ে হালকা আওয়াজ হয়, কিন্তু তা কাহকাহা (উচ্চ হাসি) না হয়, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হবে না। তবে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
- বাচ্চার কাজে হেসে ফেলা: যদি হাসি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় এবং নাক দিয়ে আওয়াজ হয়, কিন্তু তা উচ্চ হাসি না হয়, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হবে না। তবে যদি উচ্চ হাসি হয়, তাহলে ভঙ্গ হবে।
মূলনীতি:
- কাহকাহা (উচ্চ হাসি): নামাজ ভঙ্গ + ওযু ভঙ্গ।
- দাহকাহ (আওয়াজ ছাড়া হাসি): নামাজ ভঙ্গ নয়, ওযু ভঙ্গ নয়।
- **তাবাসসুম (মুচকি হাস