ইসলামিক পর্দার বিধান: চাচি/মামি ও ভাসুরের সাথে পর্দা করার হুকুম।
Halal and Haram · Hanafi
Question
১) আমার চাচি/মামির সাথে কীভাবে পর্দা করবো? একেবারে এড়িয়ে যাব নাকি সামনে পরলে দৃষ্টি সংযত রেখে কৌশল বিনিময় করবো?
২) আমি যৌত পরিবারে থাকি।অনিচ্ছায় আমার ভাসুরের সামনে পরে যাই। এতে কী আমার গুনাহ্ হবে? পর্দার লঙ্ঘন হচ্ছে? আবার আমি অনেক সময় বড় করে কথা বলে ফেলি,এবং কথা বলতে গিয়ে বড় করে হেসে ফেলি যেটা বাসায় গাইরে মাহরামের কানে চলে যায়। এতে কী আমার গুনাহ্ হচ্ছে?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে পর্দা ও লাজুকতার বিষয়াদির সাথে সম্পর্কিত। নিচে কুরআন-হাদীস ও হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো:
১) চাচি/মামির সাথে পর্দা:
শরীয়তে চাচি ও মামি (যারা রক্তসম্পর্কীয় মাহরাম নন) গায়রে মাহরাম হিসেবেই গণ্য। অর্থাৎ, আপনার চাচি/মামি যদি আপনার বাবার বোন অথবা মায়ের বোন না হন (যেমন: চাচার স্ত্রী বা মামার স্ত্রী), তবে তাদের সাথে পর্দা করা ওয়াজিব। অন্যদিকে, যদি তারা রক্তসম্পর্কে মাহরাম হন (যেমন: আপন চাচি বা মামি), তবে তাদের সাথে পর্দা করা ফরজ নয়, তবে শরীয়তের শিষ্টাচার মেনে চলা জরুরি।
- প্রয়োজনীয় কথোপকথন দৃষ্টি সংযত রেখে (চোখ নিচু করে) এবং অপ্রয়োজনীয় কথা পরিহার করে করা যেতে পারে। একেবারে এড়িয়ে যাওয়া জরুরি নয়, বরং প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত আকারে কথা বলবেন।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী) এবং ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ শফি) তে এসেছে, গায়রে মাহরামের সাথে কথোপকথন শুধুমাত্র প্রয়োজন সীমিত রাখতে হবে এবং কোনো প্রকার হাসি-ঠাট্টা বা দীর্ঘ আলাপ পরিহার করতে হবে।
২) যৌথ পরিবারে বসবাস ও ভাসুরের সামনে পর্দা:
ভাসুর (স্বামীর ভাই) গায়রে মাহরাম। তাই তার সামনে পর্দা করা ফরজ। যদি অনিচ্ছায় বা জোরপূর্বক তার সামনে পড়ে যান, তবে তাতে গুনাহ হবে না, যদি আপনি সাধ্যমতো পর্দা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অলসতার কারণে পর্দা লঙ্ঘন করেন, তাহলে গুনাহ হবে।
উচ্চস্বরে কথা বলা ও হাসির ব্যাপারে:
- কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, "তোমরা নারীদের সাথে নরম ও আকর্ষণীয় সুরে কথা বলো না, যাতে যার অন্তরে রোগ আছে সে লোভী হয়।" (সূরা আহযাব: ৩২)
- হাদীসে এসেছে, "নারীর আওয়াজও পর্দার অন্তর্ভুক্ত, তবে প্রয়োজনে কথা বলার অনুমতি আছে।" (সুনানে বায়হাকী)
- তাই গায়রে মাহরামের কানে যাতে আপনার কথা বা হাসি না পৌঁছায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। অজান্তে বা ভুলবশত বড় করে কথা বললে বা হাসতে থাকলে গুনাহ হবে না, তবে সচেতন থাকা ও তওবা করা আবশ্যক। ইচ্ছাকৃতভাবে বা অভ্যাসগতভাবে করলে গুনাহ হবে।
সারসংক্ষেপ নির্দেশনা:
১. চাচি/মামি মাহরাম না হলে তাদের সাথে দৃষ্টি সংযত রেখে, প্রয়োজনীয় কথোপকথন সীমিত করুন।
পূর্ণ পর্দা বজায় রাখতে হবে।
২. ভাসুর গায়রে মাহরাম, তাই সর্বদা পর্দা বজায় রাখুন। যদি কখনো অনিচ্ছায় সামনে পড়ে যান, দ্রুত নিজেকে আবৃত করুন।
৩. উচ্চস্বরে কথা বা হাসি গায়রে মাহরামের কানে না পৌঁছাতে সতর্ক থাকুন। অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং বেশি আওয়াজ না করার চেষ্টা করুন।
৪. অনিচ্ছায় বা ভুলবশত হলে গুনাহ হবে না, তবে তওবা ও সংশোধনের সংকল্প রাখুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পর্দার বিধান মেনে চলার তাওফীক দান করুন। (আমিন)