রক্তস্রাব ১২/১৩ দিন চলতে থাকলে এক্ষেত্রে ১০ দিন কিভাবে হিসাব করা হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 5203
Questioner: Champa0395
Question Asked: 09 Sep 2026, 10:10 PM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 10:43 PM
Views: 9
Tokens: 2,710
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস-সালামু আলাইকুম
আমার পিরিয়ড ১২/১৩ দিন থাকে এই ক্ষেত্রে আমি ১০ দিন কি ভাবে হিসাব করব

ধরেন আমার ১ তারিখ রাত ১০ টাই হইছে তো আমি ১০ তারিখ রাত ১০ টাই ফরজ গোসল করে নামাজ পড়ব নাকি এশার সময় ধরে তার আগে গোসল করে নামাজ পড়লে হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর:

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার পিরিয়ড (হায়েজ) ১২/১৩ দিন স্থায়ী হয়, যা স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, হায়েজের সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত (মাসিক চক্রের হিসাবে)। এর বেশি রক্তস্রাবকে ইস্তিহাজা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব/রোগ) হিসেবে গণ্য করা হয়।

আপনার ক্ষেত্রে হিসাবের নিয়ম:

১. হায়েজের সর্বোচ্চ সীমা: হানাফি মাযহাব মতে, হায়েজের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন ১০ রাত। ২. আদত (অভ্যাস) হিসাব: যেহেতু আপনার পিরিয়ড সাধারণত ১২/১৩ দিন থাকে, তাই আপনার জন্য ১০ দিনই হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে এবং বাকি ২/৩ দিন ইস্তিহাজা হিসেবে গণ্য হবে। ৩. গোসল ও নামাজ শুরুর সময়: আপনার পিরিয়ড শুরু হওয়ার ১০ দিন ১০ রাত পূর্ণ হওয়ার পরই আপনি পবিত্র হবেন। অর্থাৎ, আপনি যে তারিখে রাত ১০টায় পিরিয়ড শুরু করেছেন, তার ১০ দিন পর অর্থাৎ ১০ তারিখ রাত ১০টার পর আপনি পবিত্র হবেন।

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:

আপনার ১ তারিখ রাত ১০টায় পিরিয়ড শুরু হয়েছে। আপনার হায়েজের মেয়াদ ১০ দিন ১০ রাত হলে, তা শেষ হবে ১০ তারিখ রাত ১০টায়

  • ১০ তারিখ রাত ১০টার আগে গোসল করে নামাজ পড়া যাবে না, কারণ তখনো আপনার হায়েজের মেয়াদ পূর্ণ হয়নি।
  • ১০ তারিখ রাত ১০টার পর (অর্থাৎ ১০ তারিখ রাত ১০টা বাজার সাথে সাথে) আপনি পবিত্র হয়ে যাবেন। এরপর ফরজ গোসল করে নামাজ পড়তে হবে।

এশার সময় সম্পর্কে: আপনি যদি ১০ তারিখ রাত ১০টার আগেই এশার সময় শুরু হয়ে যায়, তাহলে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে যতক্ষণ না ১০টা বাজে। ১০টা বাজার পর গোসল করে এশার নামাজ পড়বেন।

মনে রাখবেন:

  • হায়েজের ১০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে গেলেই আপনি পবিত্র।
  • যদি ১০ দিনের মধ্যে রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেদিনই গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।
  • ১০ দিনের বেশি রক্তস্রাব চলতে থাকলে, ১০ দিনের পরের অংশ ইস্তিহাজা হিসেবে গণ্য হবে। তখন আপনাকে গোসল করে নামাজ পড়তে হবে, যদিও রক্তস্রাব চলতে থাকে। (ইস্তিহাজার ক্ষেত্রে অজু করে নামাজ পড়তে হয়)

দলিল (হানাফি ফিকহ):

  • সূরা আল-বাকারা (২:২২২): "তারা আপনাকে ঋতুবর্তী হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা কষ্টদায়ক। অতএব, তোমরা ঋতুকালে স্ত্রী-সংগম থেকে বিরত থাকবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না।"
  • হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "হায়েজের সময়কাল দশ দিনের বেশি নয়।" (দারাকুতনী, বাইহাকী)
  • ইবনে আবিদীন (রহ.) তার 'রাদ্দুল মুহতার' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, হায়েজের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন ১০ রাত। (রাদ্দুল মুহতার, ১/২৮৭)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: "যদি কোনো মহিলার রক্তস্রাব ১০ দিনের বেশি চলতে থাকে, তাহলে তার আদত (অভ্যাস) অনুযায়ী হিসাব করা হবে। যদি তার কোনো নির্দিষ্ট আদত না থাকে, তাহলে ১০ দিন হায়েজ এবং বাকি দিনগুলো ইস্তিহাজা হিসেবে গণ্য হবে।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৮)

সারসংক্ষেপ: আপনার ক্ষেত্রে ১ তারিখ রাত ১০টা থেকে ১০ তারিখ রাত ১০টা পর্যন্ত হায়েজ। ১০ তারিখ রাত ১০টার পর গোসল করে নামাজ পড়বেন। এর আগে গোসল করে নামাজ পড়া শুদ্ধ হবে না।

আল্লাহই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.