EMI তে পণ্য কিনলে বেশি টাকা দিতে হয়। এটা কি সুদ?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5202
Questioner: Sabrina Akter Nadi
Question Asked: 09 Sep 2026, 09:58 PM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 10:16 PM
Views: 8
Tokens: 3,361
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

EMI তে পণ্য কিনলে বেশি টাকা দিতে হয়। এটা কি সুদ?

Answer

EMI তে পণ্য কিনলে বেশি টাকা দিতে হয়—এটা কি সুদ?

১. বর্ধিত মূল্য কি সুদ?

  • শরয়ী মূলনীতি: ইসলামি শরীয়তে নগদে কম মূল্যে এবং বাকিতে বা কিস্তিতে বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা বৈধ। একে ফিকহের পরিভাষায় 'জিয়াদাতি ফিছ ছামান লি-আজলিত তাজীল' (সময় দেওয়ার কারণে মূল্যবৃদ্ধি) বলা হয়।
  • কেন এটি সুদ নয়: সুদের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে—ঋণের ওপর সময়ের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা সুদ। কিন্তু কিস্তিতে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ওই অতিরিক্ত অংশটি ঋণের বিনিময় নয় বরং পণ্যের বর্ধিত মূল্যের অংশ হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ বিক্রেতা তার পণ্যের দাম নগদে ১০,০০০ টাকা আর কিস্তিতে ১২,০০০ টাকা নির্ধারণ করার অধিকার রাখে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই বর্ধিত অর্থ সরাসরি পণ্যের মূল্য হিসেবে চুক্তিতে উল্লেখ থাকবে, ততক্ষণ তা সুদ হবে না।

২. ইএমআই বা কিস্তিতে কেনার বৈধতার শর্তাবলি:

কিস্তিতে লেনদেন শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিচের শর্তগুলো পাওয়া অপরিহার্য: ১. একই মজলিসে মূল্য চূড়ান্ত করা: ক্রেতা ও বিক্রেতাকে কেনাকাটার মজলিস ত্যাগ করার আগেই নিশ্চিত হতে হবে যে, তারা নগদ নাকি কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয় করছে। ২. সময় ও মূল্য সুনির্দিষ্ট হওয়া: কিস্তির মেয়াদ কত মাস হবে এবং সর্বমোট মূল্য কত হবে তা শুরুতেই অস্পষ্টতা ছাড়া নির্ধারণ করতে হবে। ৩. বিলম্বে অতিরিক্ত জরিমানা না থাকা: কিস্তি পরিশোধে দেরি হলে কোনো প্রকার লেট ফি বা সময়ের অনুপাতে অতিরিক্ত অর্থ (যরিমানা) আদায়ের শর্ত করা যাবে না। যদি এমন শর্ত থাকে, তবে ওই অতিরিক্ত অর্থটি সরাসরি সুদ হিসেবে গণ্য হবে। ৪. আগে পরিশোধে মূল্য না কমানো: একইভাবে কিস্তি মেয়াদের আগে পরিশোধ করলে মূল্য কমানোর শর্ত করাও নাজায়েয।

৩. কখন এটি সুদ হিসেবে গণ্য হবে?

যদি বিক্রেতা বা প্রতিষ্ঠান এভাবে চুক্তি করে যে, "পণ্যের দাম ১০,০০০ টাকা, তবে কিস্তিতে নিলে প্রতি মাসে ৫% হারে সুদ বা ইন্টারেস্ট দিতে হবে," তবে এই লেনদেনটি সুদ ও হারাম। কারণ এখানে অতিরিক্ত টাকাটি পণ্যের মূল্য হিসেবে নয়, বরং সময়ের বিনিময় বা ইন্টারেস্ট হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।

উপসংহার:

যদি আপনার ইএমআই চুক্তিতে পণ্যের একটি সর্বমোট মূল্য (Total Price) নির্দিষ্ট থাকে এবং সময়মতো কিস্তি দিতে না পারলে অতিরিক্ত জরিমানার শর্ত না থাকে, তবে সেটি বৈধ ব্যবসা হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত অনেক ক্রেডিট কার্ডের ইএমআই সিস্টেমে 'লেট পেমেন্ট ইন্টারেস্ট' বা সুদের শর্ত থাকে, যা লেনদেনকে নাজায়েয করে দেয়।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ২৯৫-৩০০: (কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয়ের শরয়ী বিধান ও মূলনীতি)।
  • পৃষ্ঠা: ৩০১-৩০৪: (অশুদ্ধ কিস্তি পদ্ধতির উদাহরণ ও সুদের ব্যাখ্যা)।

২. বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআাসারা (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১২-১৫: (কিস্তিতে মূল্যবৃদ্ধির বৈধতা ও সুদের সাথে পার্থক্যের বিশ্লেষণ)।

৩. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৪র্থ খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১২৫: (নগদ ও বাকিতে মূল্যের ভিন্নতা এবং কিস্তি নির্ধারণের নিয়ম)।

আল্লাহই ভালো জানেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.