ননমাহরামের কাছে কাচের তৈরি দেওয়ালে আবদ্ধ রুমে ভাইভা দেওয়া যাবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5198
Questioner: rumi kulsum
Question Asked: 09 Sep 2026, 07:39 PM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 07:56 PM
Views: 9
Tokens: 2,952
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ননমাহরামের কাছে কাচের তৈরি দেওয়ালে আবদ্ধ রুমে ভাইভা দেওয়া যাবে? এটা কি হারাম? উত্তরটি জানা গুরুত্বপূর্ণ আমার জন্য। আগামীকাল ১০.০৯.২৬ আমার ভাইভা ১২.৪০ p.m. এ

Answer

উত্তরটি সংক্ষিপ্তভাবে দেওয়া হলো:

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো, নন-মাহরামের (অপরিচিত/আত্মীয় নয় এমন) পুরুষের কাছে কাচের তৈরি দেওয়ালে আবদ্ধ রুমে ভাইভা দেওয়া জায়েজ আছে কি না, তা নির্ভর করে ফিতনার (প্রলোভন/অশ্লীলতার) আশঙ্কার উপর।

যেহেতু আপনি নারী এবং ভাইভা বোর্ডে সাধারণত পুরুষ সদস্য থাকেন, তাই ইসলামী বিধান অনুযায়ী পরপুরুষের সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে কঠোর পর্দা ও শর্তাবলী প্রযোজ্য। কাচের দেওয়ালে আবদ্ধ রুমে ভাইভা দেওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ কি না, তা নিয়ে ইসলামী আইনবিদদের (ফুকাহায়ে কেরাম) মতামত হলো:

১. মূলনীতি (Hanafi Fiqh):

  • ইসলামে নারী-পুরুষের মধ্যে পর্দা ফরজ। তবে প্রয়োজনে (যেমন: শিক্ষা, চিকিৎসা, আদালত বা চাকরির ইন্টারভিউ) সীমিত পরিসরে কথা বলার অনুমতি আছে, যদি তা ফিতনার (প্রলোভনের) আশঙ্কামুক্ত হয়।
  • কাচের দেওয়ালে আবদ্ধ রুমে ভাইভা দেওয়ার অর্থ হলো, বাইরের লোকজন আপনাকে দেখতে পাবে, কিন্তু আপনি ভিতরে আছেন। এটি দৃষ্টির পর্দা (সতর) রক্ষা করে না, বরং আপনার চেহারা ও চলাফেরা বাইরের অপরিচিত পুরুষদের কাছে দৃশ্যমান হবে। ইসলামী পর্দার মূল উদ্দেশ্য হলো দৃষ্টি অবনত রাখা এবং শরীরের সৌন্দর্য গোপন করা। কাচের রুমে তা সম্পূর্ণরূপে রক্ষিত হয় না।

২. শর্তাবলী (যা মানতে হবে): যদি ভাইভা দেওয়া একান্ত জরুরি হয় এবং বিকল্প না থাকে, তাহলে নিম্নোক্ত শর্তগুলো মানতে হবে:

  • চেহারা হাত পা সহ সম্পূর্ণ শরীর পর্দা করতে হবে
  • সৌন্দর্য প্রদর্শন (সাজসজ্জা) করা যাবে না এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না।
  • কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখতে হবে, নরম বা আকর্ষণীয় করে কথা বলা যাবে না। (সূরা আহযাব: ৩২)
  • প্রয়োজনীয় কথার বাইরে কোনো কথাবার্তা বা হাসি-তামাশা করা যাবে না।
  • ফিতনার আশঙ্কা থাকলে (যেমন: ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা খারাপ উদ্দেশ্যে তাকায় বা অশ্লীল আচরণ করে) তাহলে সেখানে যাওয়া হারাম হবে।

৩. কাচের রুমের বিধান:

  • কাচের রুমে ভাইভা দেওয়া নিজেই হারাম নয়, তবে এটি পর্দার দুর্বলতা সৃষ্টি করে। কারণ, বাইরের লোকজন (যারা ভাইভা বোর্ডের সদস্য নন) আপনাকে দেখতে পাবেন। এটি ইসলামী পর্দার আদর্শ লঙ্ঘন।
  • যদি রুমটি এমন হয় যে, বাইরের লোকজন ভিতরে দেখতে পায় না (যেমন: একমুখী কাচ বা মিরর গ্লাস, যেখানে আপনি বাইরে দেখতে পাবেন কিন্তু বাইরের লোকজন আপনাকে দেখতে পাবে না), তাহলে সেটি পর্দার জন্য অধিক নিরাপদ এবং জায়েজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৪. আপনার করণীয় (জরুরি পরামর্শ):

  • আগামীকাল ১২:৪০ মিনিটে ভাইভা। আপনি যদি মনে করেন যে, কাচের রুমে বসে ভাইভা দেওয়ার সময় বাইরের অপরিচিত পুরুষরা আপনাকে দেখতে পাবে এবং আপনার পর্দা লঙ্ঘিত হবে, তাহলে যাওয়ার আগে ভাইভা বোর্ডকে অনুরোধ করুন যেন তারা রুমের দরজা বন্ধ করে দেয় অথবা পর্দার ব্যবস্থা করে (যেমন: জানালায় পর্দা টানিয়ে দেওয়া)।
  • যদি কোনোভাবেই পর্দার ব্যবস্থা না হয় এবং ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এই ভাইভা দেওয়া মাকরূহে তাহরিমি (ঘৃণিত) বা হারামের কাছাকাছি হবে। কারণ, পর্দা রক্ষা করা ফরজ এবং চাকরি/ভাইভা একটি প্রয়োজনীয় কাজ (হাজত), কিন্তু পর্দা লঙ্ঘন করে তা করা জায়েজ নয়।
  • বিকল্প ব্যবস্থা: সম্ভব হলে অনলাইনে ভাইভা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন (ক্যামেরা বন্ধ রেখে অথবা ছবি ছাড়া) অথবা কোনো মাহরাম (আত্মীয়) পুরুষকে সাথে নিয়ে যান।

সারসংক্ষেপ:

  • কাচের রুমে ভাইভা দেওয়া শর্তসাপেক্ষে জায়েজ
  • যদি কাচের কারণে আপনার পর্দা ভঙ্গ হয় (অর্থাৎ বাইরের লোকজন আপনাকে দেখে) এবং ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তা হারাম/গুনাহ হবে।
  • আপনার জন্য পরামর্শ: ভাইভা বোর্ডকে পর্দার ব্যবস্থা করতে বলুন। যদি না মানে, তাহলে নিজের ইজ্জত ও দ্বীন রক্ষার্থে ভাইভা না দেওয়াই উত্তম। আল্লাহ তায়ালা উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করবেন।

দলিল (Hanafi Kitab):

  • সূরা আন-নূর (২৪:৩০-৩১): মুমিন পুরুষ ও নারীদের দৃষ্টি অবনত রাখার এবং পর্দা করার নির্দেশ।
  • সূরা আল-আহযাব (৩৩:৫৩): "আর যখন তোমরা তাদের (নবী-পত্নীদের) কাছে কিছু চাইবে, পর্দার আড়াল থেকে চাইবে।"
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি), খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩২৮: অপরিচিত নারীর দিকে তাকানো এবং ফিতনার আশঙ্কায় কথা বলা নিষিদ্ধ।
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪০৬: পর্দা ও ফিতনা সংক্রান্ত বিধান।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আপনার ভাইভার জন্য শুভকামনা রইল। দ্বীন ও পর্দা রক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নিবেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.