বাচ্চার পেশাব থেকে বালিশ পাক করার নিয়ম জানতে চাই?
Taharah Purity · Hanafi
Question No:
5189
Questioner:
Sazzad Al Haque
Question Asked:
09 Sep 2026, 04:27 PM
Reviewed & Published:
09 Sep 2026, 10:31 PM
Views:
12
Tokens:
3,250
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকার সময় নাপাকি যদি বালিশ বা তোষকে বা কম্বলে লাগে তাহলে তা থেকে পাক হবার উপায় কি?
ফ্লোরে যদি বাচ্চার পেশাব লাগে তাহলে তা পাক কিভাবে করব?
বাচ্চার পেশাব থেকে বালিশ, তোষক পাক করার উপায় কি?
ফ্লোরে যদি বাচ্চার পেশাব লাগে তাহলে তা পাক কিভাবে করব?
বাচ্চার পেশাব থেকে বালিশ, তোষক পাক করার উপায় কি?
Answer
নাপাকি দূর করার বিধান
প্রশ্নের উত্তর
১. বালিশ, তোষক বা কম্বলে যৌন নাপাকি (বীর্য) লাগলে পবিত্র করার পদ্ধতি:
বীর্য একটি দৃশ্যমান নাপাকি। এটি বালিশ বা তোষকের মতো ভারী বস্তুতে লাগলে তা দুইভাবে পবিত্র করা যায়:
- নাপাকি শুকিয়ে গেলে (ঘষে পরিষ্কার করা): যদি বীর্য শুকিয়ে যায়, তবে ওই স্থানটি হাত বা অন্য কিছু দিয়ে ভালো করে ঘষে বীর্যের মূল অংশ (আছার) দূর করে ফেললে বস্তুটি পবিত্র হয়ে যাবে। এরপর ওই কাপড়ে নামায পড়া জায়েয হবে। একে ফিকহের পরিভাষায় 'ফারক' বলা হয়।
- নাপাকি ভেজা থাকলে (ধৌত করা): বীর্য যদি ভেজা থাকে, তবে ওই নির্দিষ্ট স্থানটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। যেহেতু তোষক বা বালিশ নিংড়ানো (চিপা) সম্ভব নয়, তাই নিয়ম হলো—নাপাক স্থানটি ধোয়ার পর একটি শুকনো পরিষ্কার কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে পানি চুষে নিতে হবে। এভাবে তিনবার পানি দিয়ে ধোয়া এবং প্রতিবার শুকনো কাপড় দিয়ে পানি চুষে নেওয়ার পর তোষক বা বালিশটি পবিত্র হয়ে যাবে।
- ভলিউম ও পৃষ্ঠা সূত্র:
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ৮৮-৮৯ (শুকনো বীর্য দূর করার পদ্ধতি)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১২৬ ও ১৩৭ (ভারী বস্তু পবিত্র করার নিয়ম)।
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা ৫১ (শুকনো বীর্য খুঁচিয়ে ফেলার মাধ্যমে পবিত্র হওয়ার বিবরণ)।
২. ফ্লোরে বা মেঝেতে শিশুর পেশাব লাগলে পবিত্র করার পদ্ধতি:
ফ্লোর বা মেঝে দুই পদ্ধতিতে পবিত্র করা যায়:
- শুকিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে: ফ্লোর যদি মাটি, ইট, সিমেন্ট বা টাইলসের হয় এবং তাতে পেশাব লাগার পর তা রোদে বা বাতাসে এমনভাবে শুকিয়ে যায় যে, নাপাকির কোনো চিহ্ন (রং বা দুর্গন্ধ) অবশিষ্ট না থাকে, তবে ওই স্থানটি নামাযের জন্য পবিত্র হয়ে যাবে। তবে এ স্থানে তায়াম্মুম করা জায়েয হবে না।
- ধৌত করার মাধ্যমে: যদি সাথে সাথে পবিত্র করতে চান, তবে নাপাক স্থানে পানি ঢেলে তা মুছে ফেলতে হবে। এভাবে তিনবার ধুয়ে মুছে ফেললে মেঝে পবিত্র হয়ে যাবে। আধুনিক টাইলসের মেঝের ক্ষেত্রে ভেজা নেকড়া দিয়ে তিনবার ভালো করে মুছে প্রতিবার নেকড়া ধুয়ে নিলেও তা পবিত্র হবে।
- ভলিউম ও পৃষ্ঠা সূত্র:
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১২৯ (জমিন বা মেঝে শুকিয়ে পবিত্র হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৩৩ (মেঝের নাপাকি ধোয়ার পদ্ধতি)।
৩. বালিশ বা তোষক থেকে শিশুর পেশাব পবিত্র করার পদ্ধতি:
শিশুর পেশাব অদৃশ্যমান নাপাকি (শুকিয়ে গেলে দেখা যায় না)। তোষক বা বালিশের মতো নিংড়ানো অসম্ভব এমন বস্তু থেকে পেশাব পবিত্র করার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
- ধৌত করা ও শোষণ: পেশাব লাগা স্থানটিতে পানি ঢালতে হবে এবং পানি দেওয়ার পর একটি শুকনো কাপড় বা তোল্লা দিয়ে চেপে চেপে সবটুকু পানি শুষে নিতে হবে। যখন পানি চোষা শেষ হবে, তখন দ্বিতীয়বার আবার পানি দিয়ে একই পদ্ধতিতে চুষে নিতে হবে । এভাবে তিনবার ধোয়া এবং তিনবার পানি চুষে নেওয়ার পর যখন এমন অবস্থা হবে যে আর পানি বের হচ্ছে না, তখন তোষক বা বালিশটি পবিত্র বলে গণ্য হবে।
- প্রবাহমান পানির ব্যবহার: যদি সম্ভব হয় তোষক বা বালিশের একপাশ থেকে অনবরত পানি ঢালা হয় এবং অন্য পাশ দিয়ে তা নির্গত হয় (যেমন- শাওয়ার বা পাইপের মাধ্যমে), তবে যতক্ষণ পর্যন্ত নাপাকি দূর হওয়ার প্রবল ধারণা না হবে ততক্ষণ পানি ঢাললে তা পবিত্র হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে নিংড়ানো বা শোষণের প্রয়োজন নেই [২০৯]।
- ভলিউম ও পৃষ্ঠা সূত্র:
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১২৬ (তোষক ও চাটায়ের মতো বস্তু পবিত্র করার নিয়ম) [৫০৯]।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ৮৭ (প্রবাহমান পানির মাধ্যমে চিপা ছাড়াই পবিত্র হওয়ার বিধান) [২০৯]।
আল্লাহই ভালো জানেন।