হালাল-হারামে মাসালা

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5175
Questioner: Almas Sheikh
Question Asked: 09 Sep 2026, 09:42 AM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 11:47 AM
Views: 18
Tokens: 5,702
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি হানাফি মাজহাব অনুসরণ করি। গিনিপিগ (Guinea pig) পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করে বংশবৃদ্ধি করানো এবং পরে জীবিত অবস্থায় অন্যের কাছে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা কি শরিয়তসম্মত? গিনিপিগ খাওয়ার হুকুম ও ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুম জানতে চাই। এ ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ হালাল হবে কি? কুরআন-হাদিস ও নির্ভরযোগ্য হানাফি ফিকহের কিতাবের রেফারেন্সসহ জানালে উপকৃত হব

Answer

গিনিপিগ পালন, প্রজনন, বিক্রয় এবং খাওয়ার হুকুম — হানাফি ফিকহের আলোকে

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনি জানতে চেয়েছেন: ১. গিনিপিগ পোষা প্রাণী হিসেবে পালন ও বংশবৃদ্ধি করানো এবং বিক্রি করা শরিয়তসম্মত কিনা ২. গিনিপিগ খাওয়ার হুকুম ৩. গিনিপিগের ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুম ৪. এ ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ হালাল হবে কিনা


১. গিনিপিগ খাওয়ার হুকুম

শরিয়তের পরিভাষায় গিনিপিগ মূলত 'হাশারাতুল আরয' (মাটির ক্ষুদ্র প্রাণী বা ইঁদুরজাতীয় প্রাণী) এর অন্তর্ভুক্ত। হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফয়সালা অনুযায়ী, গিনিপিগ খাওয়া বা ভক্ষণ করা নাজায়েয ও হারাম। হানাফী ফিকহের মূলনীতি হলো—ইঁদুর, সাপ, বিচ্ছু বা এ জাতীয় ক্ষুদ্র প্রাণী (হাশারাত) ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ। ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৬শ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩)-তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ জাতীয় প্রাণী খাওয়া জায়েয নেই।

২. গিনিপিগ পালন ও ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুম:

জীবিত অবস্থায় গিনিপিগ পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা এবং এর ক্রয়-বিক্রয় করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয।

  • শরয়ী কারণ: হানাফী ফিকহের একটি প্রসিদ্ধ মূলনীতি হলো—শুকর ব্যতীত অন্য সকল প্রাণীর ক্রয়-বিক্রয় মৌলিকভাবে বৈধ, যদি তাতে কোনো না কোনো উপকারিতা (যেমন—সৌন্দর্য বা শখের খোরাক হওয়া) বিদ্যমান থাকে।
  • গিনিপিগ যেহেতু শৌখিন প্রাণী হিসেবে সমাদৃত এবং এটি সৌন্দর্যবর্ধক পোষা প্রাণী হিসেবে মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্য, তাই এটি একটি 'মুতাক্বাউয়্যাম' মাল বা বিনিময়যোগ্য সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে।
  • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৬শ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭)-তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, শুকর ব্যতীত অন্য সকল চতুষ্পদ প্রাণীর ব্যবসা বা কেনাবেচা জায়েয।
  • একইভাবে ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৬শ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২)-তে উল্লেখ আছে যে, যে প্রাণীর দ্বারা কোনো না কোনো ফায়দা বা উপকার পাওয়া যায়, তার ব্যবসা করা বৈধ।

৩. এই ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থের বৈধতা:

যেহেতু গিনিপিগের ব্যবসা শরিয়তসম্মত এবং এর কেনাবেচা বৈধ, সেহেতু গিনিপিগ পালন করে বংশবৃদ্ধি করার মাধ্যমে তা বিক্রি করে অর্জিত অর্থ বা মুনাফা আপনার জন্য সম্পূর্ণ হালাল ও বৈধ হবে। এটি উপার্জনের একটি বৈধ মাধ্যম হিসেবে গণ্য হবে।

৪. লালন-পালনের শর্তাবলি:

গিনিপিগ পালন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে:

  • প্রাণীটির যেন কোনো কষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা ওয়াজিব। এদের নিয়মিত খাবার ও বাসস্থানের সুব্যবস্থা করতে হবে।
  • বিনা প্রয়োজনে এদেরকে হত্যা করা বা এদের ওপর নিষ্ঠুরতা করা গুনাহের কাজ ।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর: ১. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৬শ খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ২৭: (শুকর ব্যতীত সকল প্রাণীর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়ার বিবরণ)।
  • পৃষ্ঠা: ৩৩: (ইঁদুর বা হাশারাতুল আরয জাতীয় প্রাণীর ভক্ষণ নিষিদ্ধ হওয়ার মাসআলা)।
  • পৃষ্ঠা: ৩১-৩২: (উপকারিতা আছে এমন প্রাণীর ব্যবসা ও বিক্রির বৈধতা)।
  • পৃষ্ঠা: ৩৪: (প্রাণীর ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থের হুকুম)। ২. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
  • পৃষ্ঠা: ৩৭৫-৩৭৬: (ক্ষতিকর বা ক্ষুদ্র প্রাণী সংক্রান্ত সাধারণ নির্দেশনা)।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.