চশমার ব্যবসায় অধিক লাভ করার বিধান

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5170
Questioner: Rakib Al Hasan
Question Asked: 09 Sep 2026, 05:53 AM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 07:15 AM
Views: 13
Tokens: 3,246
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি যেটা প্রশ্ন করতে চাচ্ছি চশমার ব্যবসা নিয়ে । একটি চশমা কেনা পাইকেরি ৫০ টাকা কিন্তু বিক্রি করা হয় ২৫০ টাকা কোন কোন সময় বিক্রি হয় ৫০০ টাকা। আবার ২৫০ টাকা কেনা হলে বিক্রি করা হয় ১০০০ হাজার টাকা । এই ব্যবসা হালাল কি না।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যবসা-বাণিজ্য বৈধ এবং উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়িক লেনদেনে কিছু শর্ত রয়েছে, যা অবশ্যই পালনীয়। মুনাফা অর্জন করা বৈধ, কিন্তু এর কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা শরিয়তে নির্ধারিত নেই। মুনাফা কত হবে তা নির্ভর করে বাজারের চাহিদা, পণ্যের মান এবং ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক সম্মতির উপর।

মূলনীতি: ইসলামি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে যে, ব্যবসায় মুনাফার হার নির্ধারিত নয়। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সম্মতিতে যেকোনো মূল্যে লেনদেন করা জায়েয, যতক্ষণ না তাতে প্রতারণা, ধোঁকাবাজি বা সুদের (রিবা) সম্পর্ক থাকে।

তবে হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ পণ্ডিতগণ (যেমন: ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, সাধারণত ৩৩.৩৩% (এক-তৃতীয়াংশ) এর বেশি মুনাফা নেওয়া মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হতে পারে, যদি তা মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের মাধ্যমে হয়। কিন্তু এটি কোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং একটি নৈতিক উপদেশ।

আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ:

১. ৫০ টাকায় কেনা চশমা ২৫০ টাকায় বিক্রি: এতে মুনাফার হার ৪০০%। এটি অনেক বেশি মুনাফা। ২. ৫০ টাকায় কেনা চশমা ৫০০ টাকায় বিক্রি: এতে মুনাফার হার ৯০০%। এটি আরও বেশি। ৩. ২৫০ টাকায় কেনা চশমা ১০০০ টাকায় বিক্রি: এতে মুনাফার হার ৩০০%।

শরিয়তের বিধান:

যদি চশমাগুলোর প্রকৃত মান (যেমন: কাচের মান, ফ্রেমের মান, ব্র্যান্ড) অনুযায়ী ক্রেতার কাছে পণ্যটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়, কোনো প্রকার প্রতারণা বা ধোঁকাবাজি না থাকে, এবং ক্রেতা স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে এই মূল্যে কেনে, তাহলে এই ব্যবসা মূলত হালাল। কারণ শরিয়তে মুনাফার কোনো নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেওয়া হয়নি।

তবে, যেহেতু মুনাফার হার অত্যন্ত বেশি (৩০০% থেকে ৯০০%), তাই এটি (অপছন্দনীয়) হতে পারে। বিশেষ করে যদি এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হয় এবং ক্রেতারা বাধ্য হয়ে কিনতে বাধ্য হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এবং পরবর্তী ফুকাহায়ে কেরামের নীতি ছিল উদারতা ও সহানুভূতির সাথে ব্যবসা করা।

রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) -এ উল্লেখ আছে: "মুনাফা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই, তবে উত্তম হলো মধ্যম পথ অবলম্বন করা। অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়া মাকরুহ, বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যে।"

ফতোয়ায়ে শামি -তে আরও এসেছে: "ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সম্মতিতে যে কোনো মূল্যে লেনদেন জায়েয, তবে মুসলিমদের জন্য উত্তম হলো অল্প মুনাফায় সন্তুষ্ট থাকা।"

আল-হিদায়া -তে বর্ণিত: "বিক্রেতার জন্য মুনাফা নেওয়া জায়েয, তবে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।"

আপনার জন্য পরামর্শ:

১. সততা বজায় রাখুন: চশমার প্রকৃত মান ও মানসম্পন্নতা ক্রেতার কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করুন। কোনো প্রকার মিথ্যা দাবি বা ধোঁকাবাজি করবেন না। ২. মধ্যম মুনাফা নিন: যদিও ৩০০-৯০০% মুনাফা হারাম নয়, তবুও উত্তম হলো ১০০% থেকে ২০০% এর মধ্যে মুনাফা রাখা। এতে ক্রেতারা সন্তুষ্ট থাকবে এবং আপনার ব্যবসাও টিকবে। ৩. বাজারদর বিবেচনা করুন: যদি বাজারে এই ধরনের চশমা সাধারণত ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়, তাহলে আপনি ৫০০-১০০০ টাকায় বিক্রি করলে তা ক্রেতার প্রতি জুলুম হবে এবং এটি মাকরুহ হবে। ৪. ক্রেতার সম্মতি: নিশ্চিত করুন যে ক্রেতা পণ্যের মান জেনে-বুঝে এবং স্বেচ্ছায় এই দামে কিনছে।

সারসংক্ষেপ: আপনার বর্ণিত ব্যবসা মূলত হালাল, তবে মুনাফার হার অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি ** (অপছন্দনীয়) হতে পারে। উত্তম হলো মুনাফার হার কমানো এবং ব্যবসায় উদারতা অবলম্বন করা, যাতে আপনি আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ করতে পারেন।

দলিলভিত্তিক তথ্যসূত্র:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ৪র্থ খণ্ড, কিতাবুল বয়ু'
  • ফতোয়ায়ে শামি, ৪র্থ খণ্ড
  • আল-হিদায়া, কিতাবুল বয়ু'
  • ফতোয়ায়ে উসমানি, ২য় খণ্ড
  • বেহেশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভী রহ.)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.