হায়েজ অবস্থায় হেফাজতের আমল করা যাবে কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5150
Questioner: Anamika islam0317
Question Asked: 08 Sep 2026, 07:43 PM
Reviewed & Published: 08 Sep 2026, 08:01 PM
Views: 15
Tokens: 1,848
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Hayej obosthay ki Hefazot er amol kora jay? Sekhane 3 kul 3 bar kore ache

Answer

উত্তর:
হায়েয বা ঋতুস্রাব অবস্থায় শরীরিক ও আধ্যাত্মিক সুরক্ষার জন্য 'হেফাজতের আমল' বা রুকইয়া করা শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জায়েয।

১. আমল করার মূলনীতি ও শর্ত:

  • নিয়ত বা উদ্দেশ্য: হায়েয অবস্থায় সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ হলেও, দোয়া (প্রার্থনা), যিকির কিংবা আরোগ্য বা সুরক্ষার (হেফাজতের) নিয়তে কুরআনের নির্দিষ্ট আয়াত পাঠ করা সম্পূর্ণরূপে বৈধ। হানাফী ফিকহের মূলনীতি হলো—পবিত্র কুরআনের যে সকল আয়াত দোয়ার অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো আমল বা হেফাজতের নিয়তে পাঠ করলে কোনো গুনাহ হয় না।
  • কুরআন স্পর্শ করা: হেফাজতের আমল করার সময় সরাসরি পবিত্র কুরআন বা মুসহাফ খালি হাতে স্পর্শ করা যাবে না। তবে মোবাইল ফোনের স্ক্রিন দেখে কিংবা মুখস্থ আয়াতগুলো পাঠ করে নিজের শরীরে দম বা ফুঁ দেওয়া যাবে।

২. হেফাজতের জন্য যে সকল সূরা ও আয়াত পড়া যাবে:

হানাফী ফিকহ এবং জুমহুর ওলামায়ে কেরামের মতে, হেফাজতের উদ্দেশ্যে নিচের আমলগুলো করা যাবে:

  • সূরা ফাতিহা: এটি শেফা ও দোয়ার নিয়তে পাঠ করা যাবে ।
  • আয়াতুল কুরসী: শয়নকালিন কিংবা সকাল-সন্ধ্যার হেফাজতের আমল হিসেবে এটি পাঠ করা জায়েয।
  • শেষ তিন কুল: সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস—যেহেতু এগুলো সুরক্ষার জন্য পঠিত হয়, তাই হেফাজতের নিয়তে এগুলো পাঠ করা যাবে।
  • অন্যান্য দোয়া: কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত সকল মা’ছূর দোয়া (যেমন: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা... ইত্যাদি) পাঠ করাতে কোনো বাধা নেই।

৩. রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁক গ্রহণ করা:

  • ঋতুবতী নারী নিজে নিজের ওপর যেমন হেফাজতের আমল বা রুকইয়া করতে পারবেন, তেমনি অন্য কেউ তাকে রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁক করে দিতে পারবে। এতে ওযু বা পবিত্রতা থাকা শর্ত নয়।

দলিল (কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর):

১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১১৯ (ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের খাস রক্তসমূহের বিবরণ — হায়েয-নেফাসের আহকাম)। এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, দোয়ার নিয়তে কুরআনের আয়াত পাঠ করা জায়েয। ২. নূরুল ঈযাহ (বাংলা অনুবাদ সহ): পৃষ্ঠা ৪৭ (হায়েয ও নেফাসের সময় নিষিদ্ধ কাজসমূহ অধ্যায়)। এখানে তিলাওয়াতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দোয়া ও যিকিরের অবকাশের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.