নাম বিষয়ক

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5123
Questioner: 1021 Faria Tasnim
Question Asked: 08 Sep 2026, 12:11 AM
Reviewed & Published: 08 Sep 2026, 01:37 AM
Views: 14
Tokens: 2,268
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কারো নাম আজিমুজ্জামান এবং আজিমুজ্জামান রাখা হলে তাদেরকে আব্দুল আলিম এভাবে না বলে আজিমুজ্জামান এভাবে ডাকা যাবে?

Answer

নাম বিষয়ক — আজিমুজ্জামান নামে ডাকার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

কারো নাম যদি "আজিমুজ্জামান" রাখা হয়, তাহলে তাকে "আব্দুল আলিম" বলে না ডেকে সরাসরি "আজিমুজ্জামান" বলে ডাকা যাবে কি না — এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।

উত্তরের মূল কথা

হ্যাঁ, "আজিমুজ্জামান" নামে ডাকা যাবে। তবে কিছু শর্ত ও সতর্কতা রয়েছে।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ

১. নামের অর্থ ও তাৎপর্য

"আজিমুজ্জামান" শব্দটি দুটি অংশে বিভক্ত:

  • আজিম (عظیم) — অর্থ: মহান, শ্রেষ্ঠ
  • জামান (زمان) — অর্থ: সময়, যুগ, কাল

সুতরাং "আজিমুজ্জামান" এর অর্থ দাঁড়ায় "যুগের শ্রেষ্ঠ" বা "সময়ের মহান ব্যক্তি"।

২. নাম রাখার বিধান

ইসলামে নাম রাখার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত:

ক) আল্লাহর নামের সাথে "আব্দ" যুক্ত করা: যেমন আব্দুল্লাহ (আল্লাহর দাস), আব্দুর রহমান (দয়াময়ের দাস) — এ ধরনের নাম রাখা উত্তম।

খ) নবীদের নাম রাখা: যেমন মুহাম্মদ, ইব্রাহিম, মূসা ইত্যাদি।

গ) অর্থগত দিক থেকে ভালো নাম রাখা: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কিয়ামতের দিন তোমাদের নিজ নিজ নামে এবং তোমাদের পিতার নামে ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা উত্তম নাম রাখো।" (আবু দাউদ)

৩. "আজিমুজ্জামান" নামে ডাকার বিধান

"আজিমুজ্জামান" একটি যৌগিক নাম যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নয়, বরং এটি একটি উপাধি বা গুণবাচক নাম। এটি দ্বারা বোঝানো হয় "যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি"।

হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে:

  • নামটি শিরক বা কুফরির সাথে সম্পর্কিত নয়
  • এটি কোনো মিথ্যা দাবি বা মিথ্যা উপাধি নয় যদি ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বিদ্বান ও সম্মানিত হন
  • তবে সাধারণভাবে কাউকে এভাবে ডাকার ক্ষেত্রে বিনয় ও নম্রতার দিক থেকে বিবেচনা করা উচিত

৪. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)《রাদ্দুল মুহতার》গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এমন নাম বা উপাধি ব্যবহার করা উচিত নয় যা দ্বারা আল্লাহর বিশেষ গুণাবলীকে অন্য কারো প্রতি আরোপ করা হয়। যেমন "আজিম" (মহান) আল্লাহর একটি গুণ — তবে "আজিমুজ্জামান" বলতে সময়ের বা যুগের মহান ব্যক্তি বোঝানো হয়, যা আল্লাহর গুণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

৫. উত্তম পদ্ধতি

যদি কারো নাম "আজিমুজ্জামান" রাখা হয়, তবে তাকে ডাকার ক্ষেত্রে:

  • সরাসরি "আজিমুজ্জামান" বলে ডাকা যাবে — এতে কোনো দোষ নেই
  • তবে উত্তম হলো তাকে তার পিতার নামে বা অন্য কোনো পরিচিত নামে ডাকা
  • "আব্দুল আলিম" বলে ডাকা ভুল হবে যদি তার প্রকৃত নাম "আজিমুজ্জামান" হয়

৬. ফাতাওয়া উসমানি ও ইমদাদুল ফাতাওয়ার নির্দেশনা

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) এবং মুফতি রশিদ আহমদ লুধিয়ানভি (রহ.)-এর ফতোয়াসমূহে উল্লেখ আছে যে, ইসলামে নামের অর্থ ভালো হওয়া জরুরি। "আজিমুজ্জামান" নামের অর্থ "যুগের মহান" — যা একটি প্রশংসনীয় অর্থ বহন করে। তবে নাম হিসেবে "আব্দুল্লাহ", "আব্দুর রহমান", "মুহাম্মদ" ইত্যাদি অধিক উত্তম।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

"আজিমুজ্জামান" নামে ডাকা জায়েয (বৈধ) আছে। তবে শর্ত হলো: ১. নামের অর্থ যদি বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক না হয় ২. যদি এটি অহংকার বা গর্বের কারণ না হয় ৩. যদি এটি দ্বারা আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করার কোনো অর্থ না থাকে

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.