গীবতের মাফ চাওয়ার নিয়ম

Family Life · Hanafi

Question No: 5092
Questioner: Nusaiba Afrin
Question Asked: 07 Sep 2026, 12:25 PM
Reviewed & Published: 07 Sep 2026, 12:36 PM
Views: 12
Tokens: 3,219
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কারোর নামে গীবত করলে কিভাবে মাফ চাইতে হবে? সব ঘটনা খুলে বলে কি মাফ চাইতে হবে যে আপনার নামে এই এই বলেছি মাফ করে দেবেন নাকি শুধু এভাবে বলি যে আপনার অগোচরে আপনার পিছনে কথা দ্বারা যদি কিছু বলে থাকি মাফ করে দেবেন। তাছাড়া যদি সব কিছু বলেই মাফ চাইতে হয় তো তাহলে যে এসে গীবত শুরু করেছিল তার সাথে তো ঝামেলা শুরু হয়ে যেতে পারে যার নামে গীবত করা হয়েছে সেই ব্যক্তির সাথে। গীবতের মাফ চাওয়ার সিস্টেম টা যদি বলতেন ভালো হতো।

Answer

গীবতের মাফ চাওয়ার নিয়ম

প্রশ্নের উত্তর:

গীবত (পরনিন্দা) করা একটি গুরুতর গুনাহ। কেউ কারো নামে গীবত করলে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ইসলামী বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে।

গীবতের মাফ চাওয়ার ইসলামী বিধান

১. সাধারণ নিয়ম:

যাকে নিয়ে গীবত করা হয়েছে, তার কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং সে যা জানতে পেরেছে তা স্বীকার করা জরুরি। তবে সমস্ত বিবরণ খুলে বলা আবশ্যক নয়

২. ইমাম গাযযালী (রহ.)-এর বক্তব্য:

ইমাম গাযযালী (রহ.) তাঁর "ইহইয়া উলুমিদ্দীন" গ্রন্থে বলেছেন:

  • যদি গীবতের বিষয়টি ইতিমধ্যে জেনে থাকে, তবে তাকে বলা যাবে যে, "আমি আপনার সম্পর্কে এমন কিছু বলেছিলাম (যা আপনি জানেন), আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"
  • যদি না জেনে থাকে, তবে সম্পূর্ণ বিবরণ না বলে সাধারণভাবে বলা উত্তম যে, "আমি আপনার সম্পর্কে কিছু কথা বলেছিলাম, যা শুনে আপনি কষ্ট পেতে পারেন। আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি।" বা এভাবেও বলা যেতে পারে যে, আপনার অগোচরে আপনার পিছনে কথা দ্বারা যদি কিছু বলে থাকি মাফ করে দেবেন।

৩. ইমাম নববী (রহ.)-এর মত:

ইমাম নববী (রহ.) "আল-আযকার" গ্রন্থে বলেছেন:

  • গীবতের মাফ চাওয়ার সময় সমস্ত ঘটনা খুলে বলা জরুরি নয়। বরং সাধারণভাবে বলা যেতে পারে যে, "আমি আপনার হক নষ্ট করেছি, অনুগ্রহ করে মাফ করে দিন।"
  • তবে যদি মাফ চাওয়ার সময় নতুন করে গীবতের পুনরাবৃত্তি ঘটে (অর্থাৎ আগের গীবতের বিবরণ বলতে গিয়ে আবার সেই ব্যক্তির দোষ বর্ণনা করা হয়), তবে তা আরও বড় গুনাহ হবে।

৪. হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি:

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:

  • গীবতের কাফফারা হলো তওবা করা এবং যাকে নিয়ে গীবত করা হয়েছে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
  • তবে ক্ষমা প্রার্থনার সময় এমনভাবে বলা উচিত নয় যাতে করে আরও কষ্ট পায় বা নতুন ঝামেলা সৃষ্টি হয়

বাস্তব সমাধান:

আপনার প্রশ্নে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন—যে সব ঘটনা খুলে বললে ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে—তা সম্পূর্ণ সঙ্গত। ইসলাম এ বিষয়ে সহজ সমাধান দিয়েছে:

যা করণীয়:

১. সাধারণভাবে ক্ষমা চাওয়া:

"আমি আপনার অগোচরে আপনার সম্পর্কে কিছু কথা বলেছি, যা শুনে আপনি কষ্ট পেতে পারেন। আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং আপনার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।"

২. যদি জানতে পারে এবং জিজ্ঞেস করে: তখন শুধু এতটুকু বলা যথেষ্ট:

"আমি আপনার সম্পর্কে এমন কিছু বলেছিলাম যা উচিত ছিল না। আল্লাহর কাছে তওবা করছি, আপনি মাফ করে দিন।"

৩. বিস্তারিত বিবরণ না দেওয়াই উত্তম: কারণ বিস্তারিত বললে:

  • আরও কষ্ট পেতে পারে
  • নতুন ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে
  • আবার গীবতের পুনরাবৃত্তি হতে পারে

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

আপনি সাধারণভাবে ক্ষমা চাইতে পারেন এই বলে:

"আমি আপনার অগোচরে আপনার সম্পর্কে কিছু কথা বলেছি, যা বলা আমার জন্য উচিত হয়নি। আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং আপনার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনি মাফ করে দিন।" বা এভাবেও বলা যেতে পারে যে, আপনার অগোচরে আপনার পিছনে কথা দ্বারা যদি কিছু বলে থাকি মাফ করে দেবেন।

সমস্ত ঘটনা খুলে বলা জরুরি নয়, বিশেষত যদি তাতে ঝামেলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। আল্লাহ তওবা কবুলকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.