গীবতকারীকে উপদেশ প্রদান করা
Family Life · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার ঘরে অতিথি এসে গীবত (পরনিন্দা) করলে করণীয় সম্পর্কে ইসলামী নির্দেশনা নিচে দেওয়া হলো:
গীবতের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব: গীবত অর্থ এমন কিছু বলা যা শুনলে আপনার ভাই/বোন অপছন্দ করবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা কি জানো গীবত কী? তা হলো তোমার ভাইয়ের এমন বিষয় আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করে।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৯)
করণীয়: ১. নিষেধ করা: যদি কেউ আপনার সামনে গীবত করে, তাহলে তাকে ভদ্রভাবে নিষেধ করা আপনার দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা এমন সম্প্রদায়ের সাথে বসো না যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিদ্রূপ করে, যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনা করে।" (সূরা আন-নিসা: ১৪০)
২. প্রতিবাদ করা: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সম্মান রক্ষা করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।" (আবু দাউদ: ৪৮৮৪)
৩. স্থান ত্যাগ করা: যদি উপদেশ দেওয়ার পরও সে গীবত বন্ধ না করে, তাহলে সেখান থেকে উঠে যাওয়া বা তাকে চলে যেতে বলা উচিত। ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "গীবতকারীর গীবত শোনা হারাম। যদি কেউ গীবত করে, তাহলে শ্রোতার কর্তব্য হলো নিষেধ করা। নিষেধ করেও না শুনলে স্থান ত্যাগ করা।" (আল-আযকার)
হানাফি ফিকহের নির্দেশনা: ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতারে উল্লেখ করেছেন: "গীবত শোনা হারাম। যদি কেউ গীবত করে, তাহলে শ্রোতার জন্য কর্তব্য হলো তাকে নিষেধ করা। যদি নিষেধ না মানে, তাহলে সেখান থেকে চলে যাওয়া।" (রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৯)
আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:
- আপনি তাকে সরাসরি বলতে পারেন: "ভাই/আপু, অনুগ্রহ করে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন না। এটা গীবত, যা ইসলামে হারাম।"
- যদি সে না শোনে, তাহলে তাকে বলুন: "আমরা এ ধরনের আলোচনা শুনতে চাই না। আপনি যদি এ বিষয়ে কথা বলতে চান, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের বাড়িতে না আসলে ভালো হয়।"
- যদি সে হাদীয়া নিয়ে এসে থাকে, তাহলে হাদীয়া গ্রহণ করা যেতে পারে, কিন্তু গীবতের মজলিসে অংশ নেওয়া যাবে না।
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
- গীবতকারীকে নিষেধ করা আপনার জন্য ওয়াজিব (আবশ্যক)।
- যদি আপনি নিষেধ না করেন এবং গীবত শুনতে থাকেন, তাহলে আপনিও গুনাহের অংশীদার হবেন।
- হাদীসে আছে: "যে ব্যক্তি গীবত শুনল এবং প্রতিবাদ করল না, সে যেন গীবতকারীর সাথে শরিক হলো।" (মুসনাদে আহমাদ)
সতর্কতা:
- নিষেধ করার সময় ভদ্র ও নম্র ভাষা ব্যবহার করুন।
- মনে রাখবেন, গীবতকারীকে অপমান করা বা তিরস্কার করা উচিত নয়; বরং তাকে সঠিক পথ দেখানোই উদ্দেশ্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে গীবত থেকে হেফাজত করুন এবং সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন। আমিন।
রেফারেন্স:
- সূরা আন-নিসা: ১৪০
- সহীহ মুসলিম: ২৫৮৯
- আবু দাউদ: ৪৮৮৪
- রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৯
- আল-আযকার (ইমাম নববী)