গীবতকারীকে উপদেশ প্রদান করা

Family Life · Hanafi

Question No: 5089
Questioner: Nusaiba Afrin
Question Asked: 07 Sep 2026, 12:05 PM
Reviewed & Published: 07 Sep 2026, 12:16 PM
Views: 24
Tokens: 3,014
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম আমাদের গ্রামের হয়তো একটু দূর থেকে কোনো মানুষ এসেছে আমাদের বাড়িতে কিছু হাদীয়া নিয়ে। এখন সে এসে যদি আমাদের সামনে তার বাড়ির নানা সমস্যার কথা বলতে থাকে এবং তার বাড়ির সদস্য দের নিয়ে গীবত করতে থাকে আমাদের কি করনীয়? আমরা কি তার মুখের উপর বলে দেবো যে এগুলো করো না? নাকি বাড়ি থেকে চলে যেতে বলবো? মানে সে বাড়িতে আসা টা মেটার না কিন্তু যে গোনাহর কাজ টা নিজে করে এবং আমাদের জড়িয়ে ফেলে এটা থেকে কিভাবে রেহাই পাবো?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার ঘরে অতিথি এসে গীবত (পরনিন্দা) করলে করণীয় সম্পর্কে ইসলামী নির্দেশনা নিচে দেওয়া হলো:

গীবতের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব: গীবত অর্থ এমন কিছু বলা যা শুনলে আপনার ভাই/বোন অপছন্দ করবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা কি জানো গীবত কী? তা হলো তোমার ভাইয়ের এমন বিষয় আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করে।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৯)

করণীয়: ১. নিষেধ করা: যদি কেউ আপনার সামনে গীবত করে, তাহলে তাকে ভদ্রভাবে নিষেধ করা আপনার দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা এমন সম্প্রদায়ের সাথে বসো না যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিদ্রূপ করে, যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনা করে।" (সূরা আন-নিসা: ১৪০)

২. প্রতিবাদ করা: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সম্মান রক্ষা করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।" (আবু দাউদ: ৪৮৮৪)

৩. স্থান ত্যাগ করা: যদি উপদেশ দেওয়ার পরও সে গীবত বন্ধ না করে, তাহলে সেখান থেকে উঠে যাওয়া বা তাকে চলে যেতে বলা উচিত। ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "গীবতকারীর গীবত শোনা হারাম। যদি কেউ গীবত করে, তাহলে শ্রোতার কর্তব্য হলো নিষেধ করা। নিষেধ করেও না শুনলে স্থান ত্যাগ করা।" (আল-আযকার)

হানাফি ফিকহের নির্দেশনা: ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতারে উল্লেখ করেছেন: "গীবত শোনা হারাম। যদি কেউ গীবত করে, তাহলে শ্রোতার জন্য কর্তব্য হলো তাকে নিষেধ করা। যদি নিষেধ না মানে, তাহলে সেখান থেকে চলে যাওয়া।" (রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৯)

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:

  • আপনি তাকে সরাসরি বলতে পারেন: "ভাই/আপু, অনুগ্রহ করে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন না। এটা গীবত, যা ইসলামে হারাম।"
  • যদি সে না শোনে, তাহলে তাকে বলুন: "আমরা এ ধরনের আলোচনা শুনতে চাই না। আপনি যদি এ বিষয়ে কথা বলতে চান, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের বাড়িতে না আসলে ভালো হয়।"
  • যদি সে হাদীয়া নিয়ে এসে থাকে, তাহলে হাদীয়া গ্রহণ করা যেতে পারে, কিন্তু গীবতের মজলিসে অংশ নেওয়া যাবে না।

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  • গীবতকারীকে নিষেধ করা আপনার জন্য ওয়াজিব (আবশ্যক)।
  • যদি আপনি নিষেধ না করেন এবং গীবত শুনতে থাকেন, তাহলে আপনিও গুনাহের অংশীদার হবেন।
  • হাদীসে আছে: "যে ব্যক্তি গীবত শুনল এবং প্রতিবাদ করল না, সে যেন গীবতকারীর সাথে শরিক হলো।" (মুসনাদে আহমাদ)

সতর্কতা:

  • নিষেধ করার সময় ভদ্র ও নম্র ভাষা ব্যবহার করুন।
  • মনে রাখবেন, গীবতকারীকে অপমান করা বা তিরস্কার করা উচিত নয়; বরং তাকে সঠিক পথ দেখানোই উদ্দেশ্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে গীবত থেকে হেফাজত করুন এবং সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন। আমিন।

রেফারেন্স:

  • সূরা আন-নিসা: ১৪০
  • সহীহ মুসলিম: ২৫৮৯
  • আবু দাউদ: ৪৮৮৪
  • রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৯
  • আল-আযকার (ইমাম নববী)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.