এতে কি আমার গুনাহ হবে

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5072
Questioner: Ferdous Mahmud
Question Asked: 07 Sep 2026, 01:52 AM
Reviewed & Published: 07 Sep 2026, 02:32 AM
Views: 32
Tokens: 6,879
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমার হাতের মোবাইল টি বিক্রি করতে চাচ্ছি, কারণ ফোন এর ডিসপ্লে তে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তো এলাকার একটি মেকানিক কে ডিসপ্লে পরিবর্তন করানোর জন্যে দেখালে তিনি ফোন খুলেন কিন্তু তারও দেয়া ডিসপ্লে ভালো না হওয়ায় তিনি আমার ফোনে লাগিয়ে দেন এবং একটি নেট কানেকশন এর তার ছিঁড়ে ফেলে যা আমি জানতাম না। পরের দিন ভালো একটা মার্কেট এ গিয়ে ফোন দেখালে তারা প্রথমেই দেখায় যে তার ছিঁড়ে ফেলেছে তাই আমি আমার ফোনের মডেল এর অরিজিনাল তার ই তাদের দিয়ে লাগিয়ে নেই। এবং পরে ডিসপ্লে এর কথা বলার সময় তারা ডিসপ্লে চেক করে দেখে আসল সমস্যা আমার প্রসেসর বা সিপিইউ তে, তাই তারা আমাকে বলে রিবোলিং করতে, আমিও রাজী হয়ে যাই এবং তারা সেটা করে মোবাইল ঠিক করে ফেলে। কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে ফোন টা কি টিকবে কি না, তাই আমি এই ফোন বিক্রি করে দিয়ে আরো টাকা অ্যাড করে নতুন একটি ফোন কিনতে চাই।

কিন্তু আমার মাথায় কিছু কথা আসছে, আমি যদি বিক্রয়ের সময় ক্রেতা কে বলি ফোন এ কোনো কাজ নেই, আপনি যত ইচ্ছা চালিয়ে দেখে সন্তুষ্ট হলে নিবেন, কারণ আমার ফোন ফুল আগের মতই রয়েছে সিপিইউ এর প্রবলেম সলভ করার কারণে। তো আমি সেধে যদি সিপিইউ ঠিক করেছি এই কথা না বলে এর বিপরীতে যদি বলি এই অবস্থা তে আছে, চালিয়ে ভালো লাগলে নিবেন, আর নেয়ার পর যদি কিছু হয় তখন ফেরত বা কোনো কথা শুনবো না।

তো হুজুর সিপিইউ এর কাজ করেছি এটা না বলে বিক্রি করলে আমার গুনাহ হবে? কারণ এই মোবাইল আদৌ নষ্ট হবে কিনা বা হলে কবে হবে না হবে এটা কারোর জানার কথা না।

তো আমি করবো যদি একটু বলে দিতেন, খুবই অপকৃত হতাম

Answer

আপনার প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: আমি আমার মোবাইল ফোন বিক্রি করতে চাই। ফোনের CPU-তে সমস্যা ছিল যা রিবোলিং করে ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু ফোনটি কতদিন টিকবে তা নিশ্চিত নই। আমি যদি ক্রেতাকে না বলি যে CPU-তে কাজ করা হয়েছে, বরং বলি "ফোনটি চালিয়ে দেখুন, ভালো লাগলে নিন" - তাহলে কি আমার গুনাহ হবে?


সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, আপনার জন্য CPU-র কাজ করার বিষয়টি ক্রেতার কাছে প্রকাশ করা আবশ্যক (ওয়াজিব)। এটি না বললে আপনি ধোঁকা (গিশ) বা প্রতারণার অপরাধী হবেন এবং গুনাহ হবে। কারণ ইসলামে বিক্রয়ের সময় ক্রেতার কাছে পণ্যের ত্রুটি বা পূর্ববর্তী মেরামতের বিষয়টি গোপন করা হারাম।


বিস্তারিত উত্তর ও দলীল

১. ইসলামে ধোঁকা ও প্রতারণা নিষিদ্ধ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا "যে ব্যক্তি আমাদেরকে ধোঁকা দিল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০১; আবু দাউদ, হাদীস: ৩৪৫২; তিরমিযী, হাদীস: ১৩১৫)

আরেকটি হাদীসে এসেছে:

الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا، فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا، وَإِنْ كَذَبَا وَكَتَمَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا "দুইজন ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পৃথক না হয় ততক্ষণ তাদের ইখতিয়ার আছে। যদি তারা সত্য বলে এবং (ত্রুটি) প্রকাশ করে, তবে তাদের বিক্রয়ে বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং (ত্রুটি) গোপন করে, তবে তাদের বিক্রয়ের বরকত মুছে ফেলা হয়।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ২০৭৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৫৩২)

২. ত্রুটি প্রকাশ করা ওয়াজিব

হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (শামী)-এ উল্লেখ আছে:

وَيَجِبُ عَلَى الْبَائِعِ بَيَانُ الْعَيْبِ الَّذِي يَعْلَمُهُ "বিক্রেতার উপর তার জানা ত্রুটি প্রকাশ করা ওয়াজিব।" (রদ্দুল মুহতার, ৫তম খণ্ড, ৫৮ পৃষ্ঠা)

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী)-তেও বলা হয়েছে:

إِذَا كَانَ بِالْمَبِيعِ عَيْبٌ يَعْلَمُهُ الْبَائِعُ يَنْبَغِي أَنْ يُبَيِّنَهُ لِلْمُشْتَرِي "যদি বিক্রেয় পণ্যে এমন ত্রুটি থাকে যা বিক্রেতা জানে, তবে তার উচিত তা ক্রেতাকে জানিয়ে দেওয়া।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৩য় খণ্ড, ৫৮ পৃষ্ঠা)

৩. আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা

আপনার ফোনের CPU-তে সমস্যা ছিল এবং রিবোলিং করে তা ঠিক করা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা ক্রেতার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। কারণ:

  • রিবোলিং করা CPU-র ফোন সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং আবারও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • এটি ফোনের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে।
  • ক্রেতা যদি জানত যে CPU-তে কাজ করা হয়েছে, সে হয়তো ফোনটি কিনত না বা কম দামে কিনত।

সুতরাং, এই তথ্যটি গোপন করে ফোন বিক্রি করা স্পষ্ট ধোঁকা এবং গুনাহের কাজ

৪. "চালিয়ে দেখুন" বললে কি দায়িত্ব থেকে মুক্তি মিলবে?

না। আপনি যদি শুধু বলেন "চালিয়ে দেখুন, ভালো লাগলে নিন" কিন্তু CPU-র কাজ করার বিষয়টি না বলেন, তবে এটি ধোঁকা হিসেবে গণ্য হবে। কারণ ক্রেতা সাধারণত ফোন চালিয়ে দেখে বোঝার সুযোগ পায় না যে CPU-তে রিবোলিং করা হয়েছে। এই সমস্যা কিছুদিন পর প্রকাশ পেতে পারে।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেছেন:

وَلَوْ قَالَ: لَا أَعْلَمُ بِهِ عَيْبًا وَهُوَ يَعْلَمُ كَانَ غَاشًّا "যদি বিক্রেতা বলে 'আমি কোনো ত্রুটি জানি না' অথচ সে জানে, তবে সে ধোঁকাবাজ।" (রদ্দুল মুহতার, ৫ম খণ্ড, ৫৮ পৃষ্ঠা)

৫. সঠিক পদ্ধতি

আপনার উচিত ক্রেতাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া যে:

  • ফোনের CPU-তে সমস্যা ছিল এবং রিবোলিং করে ঠিক করা হয়েছে।
  • ফোনটি বর্তমানে ঠিক আছে, তবে রিবোলিং করা ফোন কতদিন টিকবে তা নিশ্চিত নয়।
  • এরপর ক্রেতা যদি সন্তুষ্ট হয়ে ফোন কেনে, তবে আপনার কোনো দোষ নেই।

যদি আপনি এই তথ্য প্রকাশ করেন এবং ক্রেতা সন্তুষ্ট চিত্তে ফোন কেনে, তবে তা হালাল হবে এবং এতে বরকত থাকবে।


ফতোয়া

মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেছেন:

"বিক্রেতার জন্য তার জানা সমস্ত ত্রুটি ক্রেতাকে জানানো ফরজ। যদি কোনো ত্রুটি গোপন করে বিক্রি করে, তবে তা হারাম ও গুনাহের কাজ। ক্রেতা জানার পরেও যদি কেনে, তবে তা জায়েয।" (ফিকহুল বুয়ু', ১ম খণ্ড, ১০২ পৃষ্ঠা)

মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) বলেছেন:

"পণ্য বিক্রির সময় বিক্রেতা যদি পণ্যের কোনো দোষ জানে, তাহলে তার জন্য তা প্রকাশ করা জরুরি। দোষ গোপন করে বিক্রি করা জায়েয নেই এবং এতে বিক্রি যদিও সম্পন্ন হবে, কিন্তু বিক্রেতা গুনাহগার হবে।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৩য় খণ্ড, ২৩৫ পৃষ্ঠা)


উপসংহার

আপনার জন্য ওয়াজিব হচ্ছে ক্রেতাকে CPU-র রিবোলিং করার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া। এটি না জানিয়ে ফোন বিক্রি করলে আপনি গুনাহগার হবেন এবং আপনার বিক্রয় থেকে বরকত উঠে যাবে। বরং সত্য বলুন, ক্রেতা সন্তুষ্ট হয়ে কিনলে তা আপনার জন্য বরকতময় হবে।


দোয়া

اللهم ارزقنا الكسب الحلال وبارك لنا فيه

"হে আল্লাহ! আমাদের হালাল রিজিক দান করুন এবং তাতে বরকত দিন।"



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.