আপু আমি একটা ভার্সিটিতে পড়ি। তো এইখানে হলে বমি যেই রুমে থাকি সেই রুমে একজন হিন্দু রুমমেট আছে।ও
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
**উত্তর **
বিষয়: হিন্দু রুমমেটের মূর্তি ও নামাজের স্থান সংক্রান্ত, এবং শয়তান থেকে হেফাজতের আমল।
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার উদ্বেগটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। আপনি একজন মুসলিম ছাত্রী হিসেবে হলের রুমে নামাজ পড়েন এবং সেখানে একজন হিন্দু রুমমেটের মূর্তি থাকার কারণে ফেরেশতা না আসার বিষয়ে চিন্তিত। পাশাপাশি, আপনি সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (আমানার রাসূলু) পাঠের মাধ্যমে শয়তান থেকে হেফাজতের যে আমল করেন, তা ফলপ্রসূ হবে কিনা—সেটিও জানতে চেয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। নিম্নে কুরআন, হাদিস এবং হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো:
১. মূর্তি থাকা অবস্থায় নামাজ পড়া ও ফেরেশতার আগমন:
- মূর্তি থাকা অবস্থায় নামাজের হুকুম: আপনার রুমে যদি এমন কোনো মূর্তি (ছবি বা ভাস্কর্য) থাকে যা সামনে বা পাশে না রেখে নামাজ পড়লে আপনার দৃষ্টিতে না আসে, তাহলে আপনার নামাজ আদায় করা সঠিক ও বৈধ হবে। নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য মূর্তি থেকে দূরে থাকা বা চোখ বন্ধ করে পড়া জরুরি নয়। তবে, নামাজের স্থান পবিত্র (পাক) হওয়া জরুরি। মূর্তিটি যদি এমন জায়গায় থাকে যা আপনার সিজদার স্থান বা কিবলার দিকে না হয়, তাহলে নামাজে কোনো সমস্যা হবে না। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৬৫৪)
- ফেরেশতার আগমন: হ্যাঁ, হাদিসে এসেছে, যে ঘরে মূর্তি বা কুকুর থাকে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২২৫)।
- আপনার করণীয়: যেহেতু আপনি ম্যামকে অভিযোগ করে মূর্তিটিকে আপনার নামাজের স্থান থেকে সরিয়ে নিয়েছেন (অন্তত দৃষ্টির বাইরে), এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। তবে, মূর্তিটি রুমে থাকার কারণে ফেরেশতা না আসার বিষয়টি থেকে বাঁচতে আপনি চেষ্টা করতে পারেন:
- রুমমেটের সাথে আলোচনা: সম্ভব হলে রুমমেটকে বোঝান যে, এটি আপনার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। তাকে বলুন, মূর্তিটি অন্তত একটি বন্ধ কাপড় বা বাক্সের ভিতরে রাখতে, অথবা রুমের এমন একটি কোণে রাখতে যা আপনার দৃষ্টি ও ব্যবহারের জায়গা থেকে সম্পূর্ণ আড়ালে থাকে।
- নামাজের স্থান নির্ধারণ: আপনার নামাজ পড়ার জন্য রুমের একটি নির্দিষ্ট কোণ নির্ধারণ করুন এবং সেখানে একটি পরিষ্কার কাপড় বা জায়নামাজ বিছিয়ে রাখুন। মূর্তিটি যেন আপনার নামাজের স্থান থেকে দূরে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
- অন্যত্র নামাজ পড়া: যদি সম্ভব হয়, তাহলে হলের মসজিদে বা নামাজের জন্য নির্ধারিত কোনো কমন রুমে গিয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। এটি উত্তম।
- আপনার করণীয়: যেহেতু আপনি ম্যামকে অভিযোগ করে মূর্তিটিকে আপনার নামাজের স্থান থেকে সরিয়ে নিয়েছেন (অন্তত দৃষ্টির বাইরে), এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। তবে, মূর্তিটি রুমে থাকার কারণে ফেরেশতা না আসার বিষয়টি থেকে বাঁচতে আপনি চেষ্টা করতে পারেন:
২. সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের আমল ও শয়তান থেকে হেফাজত:
আপনি যে আমলটি করছেন (সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ) তা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
"যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০০৯)
অন্য হাদিসে এসেছে, এই আয়াত দুটি পাঠ করলে শয়তান সেই ঘর থেকে দূরে থাকে। (সুনানে দারিমি, হাদিস: ৩৪২৭)
আপনার প্রশ্নের উত্তর: আপনি যদি এই আয়াতগুলো পাঠ করেন, তাহলে আপনি অবশ্যই শয়তান থেকে হেফাজত পাবেন। মূর্তি থাকার কারণে ফেরেশতা না আসলেও, শয়তান থেকে বাঁচার জন্য এই আমলটি আপনার জন্য যথেষ্ট। কারণ, শয়তান তাড়ানোর জন্য এই আয়াতের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। মূর্তির কারণে ফেরেশতা না আসা এবং শয়তান থেকে হেফাজত পাওয়া—এই দুটি বিষয় আলাদা। আপনার আমলের কারণে শয়তান আপনার কাছ থেকে দূরে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
৩. অতিরিক্ত কিছু আমল ও সতর্কতা:
- সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের পাশাপাশি আপনি "আয়াতুল কুরসি" (সূরা বাকারা, ২:২৫৫) পাঠ করতে পারেন। ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিয়োজিত হয় এবং শয়তান সকাল পর্যন্ত কাছে আসতে পারে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১)
- সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস (মুআওয়িজাত) পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দেওয়া এবং ঘুমানোর আগে পড়া শয়তান ও ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য খুবই কার্যকরী। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৭)
- সর্বদা অজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন এবং ঘুমানোর আগে "বিসমিল্লাহ" বলে ঘুমান। শয়তান বিসমিল্লাহবিহীন ঘরে প্রবেশ করে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২০১৮)
সংক্ষিপ্ত উপসংহার:
১. আপনার নামাজ সঠিক ও বৈধ হবে, যদি মূর্তিটি আপনার নামাজের স্থান থেকে দূরে থাকে এবং আপনার দৃষ্টিতে না আসে। ২. মূর্তি থাকার কারণে ফেরেশতা না আসলেও, আপনি সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠের মাধ্যমে শয়তান থেকে হেফাজত পাবেন। এই আমলটি আপনার জন্য যথেষ্ট। ৩. রুমমেটের সাথে বোঝাপড়া করে মূর্তিটি সম্পূর্ণ আড়ালে রাখার চেষ্টা করুন এবং হলের নামাজের উপযুক্ত স্থানে নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। ৪. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা নিজেই আপনার রক্ষক হবেন।
আল্লাহ তায়ালা আপনাকে দ্বীনের উপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন এবং আপনার সকল প্রকার ভয়-ভীতি দূর করে দিন। (আমিন)