নিজের জন্য বদদোয়া করার পর কীভাবে আল্লাহর মাফ পাওয়া যায়?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রিয় বোন, প্রথমেই জেনে রাখুন, নিজের জন্য বদদোয়া করা সম্পূর্ণ হারাম ও গুনাহের কাজ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য এবং উম্মতের জন্য বদদোয়া করতে নিষেধ করেছেন। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, নিজেদের সন্তানদের বিরুদ্ধে, নিজেদের সম্পদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না। কারণ এমন হতে পারে যে, আল্লাহর কাছে এমন একটি সময়ে তা পৌঁছে যাবে, যখন আল্লাহ তা কবুল করার জন্য প্রস্তুত থাকবেন, আর তা কবুল হয়ে যাবে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩০০৯)
আপনি যা করেছেন, তা শয়তানের প্ররোচনায় এবং মানসিক চাপের কারণে হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের উপর অত্যন্ত দয়ালু। তিনি জানেন, আপনি আসলে চাপে পড়ে এমন কথা বলেছেন, অন্তর থেকে নয়। তাই নিরাশ হবেন না।
কীভাবে আল্লাহর মাফ পাওয়া যাবে:
১. তওবা ও ইস্তিগফার করুন:
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
তাই আন্তরিকভাবে তওবা করুন এবং বেশি বেশি "আস্তাগফিরুল্লাহ" পড়ুন। আল্লাহ তায়ালা তওবা কবুলকারী।
২. ভালো ধারণা পোষণ করুন:
আল্লাহ তায়ালা বলেন (কুদসি হাদিসে):
"আমি আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী তার সাথে আচরণ করি।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৪০৫)
আপনি যদি মনে করেন আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন না, তবে এটি আল্লাহ সম্পর্কে খারাপ ধারণা। বরং মনে করুন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন এবং আপনার অবস্থা ভালো করবেন।
৩. ভালো দোয়া দিয়ে বদদোয়ার প্রতিকার করুন:
যেহেতু আপনি নিজের জন্য খারাপ দোয়া করেছেন, তাই এখন নিজের জন্য ভালো দোয়া করুন। যেমন:
"اللهم إني أسألك العفو والعافية في الدنيا والآخرة"
(উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াহ ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ)
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি।"
৪. মানসিক চাপ কমানোর উপায়:
সংসারের চাপ ও দায়িত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"আল্লাহ কারো উপর এমন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না, যা তার ক্ষমতার বাইরে।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)
আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করুন। সন্তান না থাকা নিয়ে চিন্তা করবেন না। সন্তান আল্লাহর দান, তিনি যখন চাইবেন দেবেন। আপনার কাজ হলো ধৈর্য ধরা এবং আল্লাহর উপর ভরসা করা।
৫. নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শান্তি লাভ করুন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"আমার চোখের শীতলতা নামাজের মধ্যে রাখা হয়েছে।" (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৩৯৪০)
নিয়মিত নামাজ পড়ুন এবং কুরআন তিলাওয়াত করুন। এতে আপনার মন শান্তি পাবে।
মনে রাখবেন:
আপনি যে বদদোয়া করেছেন, তা কবুল হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। বরং আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার প্রতি দয়ালু। আপনি তওবা করলে তিনি অবশ্যই ক্ষমা করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদের ভালোবাসেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২২২)
আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনার সংসারে বরকত দিন এবং আপনাকে ধৈর্য ও শান্তি দান করুন। আমিন।
রেফারেন্স:
- সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩০০৯
- সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৪০৫
- সূরা আয-যুমার: ৫৩
- সূরা আল-বাকারা: ২৮৬
- সূরা আল-বাকারা: ২২২
- সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৩৯৪০