স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঠাট্টায় ব্যভিচারের কথা বলা কি জায়েয?

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 4971
Questioner: Amatullah US
Question Asked: 04 Sep 2026, 11:05 PM
Reviewed & Published: 04 Sep 2026, 11:44 PM
Views: 21
Tokens: 3,795
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বেভিচারি নিয়ে আলোচনায় ওয়াইফ বলেছে এখন এটা অহরহ হচ্ছে তখন সামি বউকে দুসটুমি বা য়ারকি করে বলেসে তুমিও ছিলে?
ওয়াইফ বলেছে না আলহামদুলিল্লাহ,, সামি বলেসে আমিই প্রথম,,
আসলে সে অপবাদ আরপ করেনি


তাহলে কি এ ধরনের কথায় গুনাহ হবে? তারা দু'জনেই অপবাদ আরপ করেনি আলহামদুলিল্লাহ,, আসলে সামি বউকে কখনই সন্দেহ করে না আলহামদুলিল্লাহ,, ক্লপ্নাতেও না আলহামদুলিল্লাহ,, স্রেফ ইয়ারকি সিল,, কারন সে ওয়াইফ কে অনেক অনেক ভালবাসে

Answer

উত্তরের সূচনা

প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আপনি জানতে চেয়েছেন যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঠাট্টা-তামাশা বা ইয়ারকির মাধ্যমে এমন কথা বলা (যেমন: "তুমিও কি ছিলে?") যা ব্যভিচারের ইঙ্গিত বহন করে, কিন্তু উভয়েই জানেন যে এটি সত্য নয় এবং কেউই কারো উপর সত্যিকারের অপবাদ আরোপ করেনি — এতে কি গুনাহ হবে?


মূল উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তর: যদি এটি স্রেফ ঠাট্টা-তামাশা হয় এবং উভয়েই জানে যে এটি মিথ্যা, এবং কেউই কারো চরিত্রে সত্যিকারের অপবাদ আরোপের নিয়ত না রাখে, তবে ইনশাআল্লাহ তা গুনাহের পর্যায়ে পড়বে না। তবে এ ধরনের কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এতে ভুল বোঝাবুঝি ও শয়তানের প্ররোচনার আশঙ্কা থাকে।


বিস্তারিত বিশ্লেষণ

১. অপবাদ (কাযফ) এর শর্তাবলী

ইসলামী আইনে অপবাদ (কাযফ) বলতে বুঝায় কারো প্রতি ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করা। এর জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে:

  • অভিযোগকারী সত্যিকার অর্থে অভিযোগ আরোপের নিয়ত রাখে
  • অভিযোগটি এমনভাবে করা হয় যা দ্বারা ব্যক্তির চরিত্র হরণের চেষ্টা হয়
  • অভিযোগটি মিথ্যা জেনেও করা হয় এবং তা প্রমাণের কোনো ইচ্ছা থাকে

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেছেন যে, কাযফের শাস্তি প্রযোজ্য হয় তখনই যখন কেউ সত্যিকার অর্থে কারো উপর ব্যভিচারের অভিযোগ আনয়ন করে এবং তা প্রমাণে অক্ষম হয়। (রদ্দুল মুহতার, ৪/৫৮)

২. ঠাট্টা-তামাশার বিধান

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, স্বামী স্ত্রীকে ভালোবাসেন, তাকে সন্দেহ করেন না, এমনকি কল্পনাতেও আনেন না। এটি ছিল স্রেফ ইয়ারকি বা ঠাট্টা। স্ত্রীও তা বুঝতে পেরে উত্তর দিয়েছেন। কেউই কারো উপর সত্যিকারের অপবাদ আরোপ করেনি।

কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন:

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا

"আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)

এছাড়া হাদীসে এসেছে:

إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে উদিত খেয়াল-খুশির জন্য ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭)

৩. তবে সতর্কতা প্রয়োজন

যদিও এটি গুনাহের পর্যায়ে পড়বে না, তবুও মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) এর নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, এ ধরনের কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ:

  • এতে শয়তান ধীরে ধীরে সন্দেহ তৈরি করতে পারে
  • ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে
  • ইসলামী আদব হলো গুরুতর বিষয়ে ঠাট্টা না করা

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ بِالْحَدِيثِ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ فَيَكْذِبُ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ

"ধ্বংস তার জন্য যে লোকদের হাসানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে। ধ্বংস তার জন্য, ধ্বংস তার জন্য।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯০)

তবে এখানে লক্ষণীয় যে, উক্ত হাদীসটি স্রেফ মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে কাউকে হাসানোর জন্য সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলা হয়। আপনার ক্ষেত্রে এটি কোনো মিথ্যা অভিযোগ ছিল না, বরং একটি প্রশ্নবোধক ইয়ারকি ছিল যা উভয়েই বুঝতে পেরেছে।

৪. ফাতাওয়া উসমানী'র নির্দেশনা

মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) ফাতাওয়া উসমানী-তে উল্লেখ করেছেন যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ঠাট্টা-তামাশা জায়েয, তবে তা এমন বিষয়ে হওয়া উচিত নয় যা দ্বারা কারো সম্মানহানি হয় বা যা ইসলামী আদবের পরিপন্থী। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৬)


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  1. স্বামী স্ত্রীকে সত্যিকার অর্থে সন্দেহ করেন না
  2. কেউই কারো উপর সত্যিকারের অপবাদ আরোপ করেনি
  3. এটি ছিল স্রেফ ভালোবাসা প্রকাশের একটি উপায় বা ইয়ারকি
  4. উভয়েই বুঝতে পেরেছে যে এটি সত্য নয়

তাই ইনশাআল্লাহ এতে গুনাহ হবে না। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কথার পরিবর্তে ভালোবাসা প্রকাশের আরও উত্তম ও নিরাপদ পন্থা অবলম্বন করা উচিত।


অতিরিক্ত পরামর্শ

  • স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য ইসলামী আদবসম্মত উপায় ব্যবহার করুন
  • গুরুতর বিষয় নিয়ে ঠাট্টা না করাই উত্তম
  • শয়তান যেন এ সুযোগে সন্দেহ তৈরি করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকুন
  • বেশি বেশি দরূদ শরীফ পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে হিফাজত প্রার্থনা করুন

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.