যদি ওযুর পর কুলি করি মুখ বা গলার কফ দূর করার জন্য, তাহলে কি ওযুতে কোন সমস্যা হবে?

Taharah Purity · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4957
Questioner: Rafizur Rahman Rafi
Question Asked: 04 Sep 2026, 04:44 PM
Reviewed & Published: 04 Sep 2026, 04:47 PM
Views: 36
Tokens: 2,834
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ওযু করার পর মাঝের মাঝেই কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার পর মুখ বা গলার মধ্যে সামান্য কফ চলে আসে। এই কারণে যদি ওযুর পর কুলি করি মুখ বা গলার কফ দূর করার জন্য, তাহলে কি ওযুতে কোন সমস্যা হবে?
বা এই কারণে যদি ওযু শেষ হওয়ার আগেই যদি কুলি করি মুখ বা গলার কফ দূর করার জন্য, তাহলে কি ওযুতে সমস্যা হবে

Answer

ওযু নিয়ে সংশয় - কুলি করা ও কফ দূর করার বিধান

উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ। আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি মূলনীতি স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি:

মূলনীতি: ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ নির্দিষ্ট। কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, মুখ বা গলা থেকে কফ দূর করা—এগুলোর কোনটিই ওযু ভঙ্গের কারণ নয়। ওযু শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কারণে ভঙ্গ হয় (যেমন: পেশাব-পায়খানা, বায়ু নির্গমন, গভীর ঘুম ইত্যাদি)।


১. ওযুর পর কুলি করা

ওযু সম্পন্ন করার পর যদি আপনি কুলি করেন (মুখ বা গলার কফ দূর করার জন্য), তাহলে আপনার ওযুতে কোনো সমস্যা হবে না। ওযু ভঙ্গ হবে না। কারণ:

  • কুলি করা ওযু ভঙ্গের কারণ নয়।
  • ওযু সম্পন্ন হওয়ার পর পবিত্রতা বজায় থাকে যতক্ষণ না ওযু ভঙ্গের কোনো কারণ ঘটে।
  • কুলি করা ও গার্গল করা ওযু ভঙ্গের অন্তর্ভুক্ত নয়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ হলো: পেশাব-পায়খানা, বায়ু নির্গমন, প্রবল নিদ্রা, এবং অন্যান্য সুস্পষ্ট কারণ। কুলি করা বা নাকে পানি দেওয়া এসবের অন্তর্ভুক্ত নয়।"


২. ওযুর মধ্যে (শেষ হওয়ার আগে) কুলি করা

ওযু করার সময় যদি কুলি করার পর মুখ বা গলায় কফ জমে এবং আপনি সেটি দূর করার জন্য পুনরায় কুলি করেন, তাহলেও ওযুতে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ:

  • ওযুর মধ্যে কুলি করা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত (মুখ ধোয়ার অংশ হিসেবে)।
  • প্রয়োজনে বারবার কুলি করা জায়েয।
  • এটি ওযুকে নষ্ট করে না বা ওযুর ক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না।

শাইখ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তি ওযুর মধ্যে বা পরে কুলি করে, তাহলে তার ওযু সহীহ থাকবে। কারণ কুলি করা ওযু ভঙ্গের কারণ নয়।"


৩. কফ গিলে ফেলা বা বের করে ফেলা

  • কফ গিলে ফেলা: ওযু ভঙ্গ করে না। তবে রোযা অবস্থায় কফ গিলে ফেলা সম্পর্কে আলেমদের মতভেদ আছে—সতর্কতার জন্য কফ বের করে ফেলা উত্তম।
  • কফ বের করে ফেলা: ওযু ভঙ্গ করে না। এটি মুখ বা গলা পরিষ্কার করার অংশ।

৪. গুরুত্বপূর্ণ নোট

ওযুতে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে:

  1. ওযুর ক্রম (তারতীব): মুখ ধোয়া → নাকে পানি দেওয়া → মুখমণ্ডল ধোয়া → হাত → মাথা মাসেহ → পা ধোয়া।
  2. মুখ ও গলার কফ দূর করার জন্য কুলি করা ওযুর ক্রমকে নষ্ট করে না, কারণ এটি মুখ ধোয়ার অংশ হিসেবেই গণ্য।
  3. ওযু ভঙ্গের কারণ: শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কারণে ওযু ভঙ্গ হয়। কুলি করা, কফ দূর করা, গার্গল করা—এগুলোর কোনোটিই ওযু ভঙ্গের কারণ নয়।

৫. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

| অবস্থা | ওযুর উপর প্রভাব | |--------|----------------| | ওযুর পর কুলি করা (কফ দূর করতে) | ওযু সহীহ থাকবে | | ওযুর মধ্যে কুলি করা (কফ দূর করতে) | ওযু সহীহ থাকবে | | কফ গিলে ফেলা | ওযু ভঙ্গ হবে না | | কফ বের করে ফেলা | ওযু ভঙ্গ হবে না |


দলিল

১. কুরআন: আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াতে চাও, তখন তোমরা নিজেদের মুখমণ্ডল ও হাতসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর..." (সূরা আল-মায়িদাহ: ৬)। এই আয়াতে ওযুর ফরজসমূহ উল্লেখ আছে, কুলি করা ও কফ দূর করা এর মধ্যে পড়ে না।

২. হাদিস: আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি ওযু করে এবং তা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে, তখন তার শরীর থেকে পাপসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের নিচ থেকেও।" (সহীহ মুসলিম: ২৪৫)

৩. ইজমা: ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ নিয়ে আলেমদের মধ্যে ঐকমত্য আছে। কুলি করা বা কফ দূর করা ওযু ভঙ্গের কারণ নয়।


উপসংহার: আপনার ওযুতে কোনো সমস্যা হবে না, ইনশাআল্লাহ। আপনি নিশ্চিন্তে ওযুর পর বা ওযুর মধ্যে কুলি করে মুখ ও গলার কফ দূর করতে পারেন। ওযু সহীহ থাকবে।


والله أعلم بالصواب (আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.