সাধারণ গোসলের সময় কিভাবে গোসল করলে আর ওযু করতে হবে না?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 4952
Questioner: Blue
Question Asked: 04 Sep 2026, 03:43 PM
Reviewed & Published: 04 Sep 2026, 03:59 PM
Views: 13
Tokens: 4,182
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
১. গোসলের সময় কিভাবে গোসল করলে আর ওযু করতে হবে না? আমি সাধারণ গোসলের কথা বলছিলাম, ফরজ গোসল নয়। এক্ষেত্রে কি ফরজ গোসলের মতো কুলি করা, গড়গড়া করা, নাকে পানি দেয়া, কানে পানি দেয়া ইত্যাদি করতে হবে যাতে আলাদা ভাবে আবার অজু করতে না হয়? নাকি না করলেও চলবে। আর করলেও কি কি করতে হবে আর কতবার করে, মানে একবার নাকি তিনবার।
২. রোজাদার অবস্থায় কি গড়গড়া করতে হবে ওজু করার সময়? এক্ষেত্রে পানি গিলে ফেলার সম্ভাবনা থাকে।

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্ন দুটির জন্য ধন্যবাদ। নিচে হানাফি মাযহাবের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।


১. সাধারণ গোসলের মাধ্যমে ওযু সম্পন্ন করার শরয়ী নিয়ম:

  • শরয়ী ফয়সালা: সাধারণ (নন-ফরয) গোসলের সময় যদি পুরো শরীর এমনভাবে ধৌত করা হয় যার মধ্যে ওযুর অঙ্গগুলোও ধুয়ে যায়, তবে আলাদাভাবে আর নতুন করে ওযু করতে হবে না [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ৩৫-৩৬; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪]। ওই গোসলের মাধ্যমেই ওযু সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং তা দিয়ে নামায আদায় করা সম্পূর্ণরূপে জায়েয ও সহীহ [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ৩৫; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪]।
  • কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার বিধান (কতবার করতে হবে):
    • যেহেতু এটি ফরয গোসল নয়, সাধারণ গোসল; তাই গোসলের সময় কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া গোসলের জন্য ফরয নয়, বরং ওযুর অংশ হিসেবে সুন্নাত [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ২৬; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮]।
    • সাধারণ গোসলের পানিতে যদি আপনার মুখমণ্ডল ও ওযুর ফরয অঙ্গগুলো ধুয়ে যায়, তবেই ওযু হয়ে যাবে। তবে ওযুর পূর্ণ সওয়াব ও সুন্নাত আদায় করার জন্য গোসলের শুরুতে ওযুর নিয়তে ৩ বার (তিনবার) কুলি করা এবং ৩ বার নাকে পানি দেওয়া সুন্নাত [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ২৬; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮]।
  • গড়গড়া ও কানে পানি দেওয়া:
    • সাধারণ গোসলে আলাদা করে কানে পানি প্রবেশ করানো বা মুখের ভেতর গড়গড়া (গলার ভেতর পর্যন্ত পানি নেওয়া) করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ওযুর সময় কান মাসেহ করা এবং মুখ স্বাভাবিক ধোওয়াই যথেষ্ট [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ২৬; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪]।

২. রোযাদার অবস্থায় গড়গড়া করার হুকুম:

  • শরয়ী ফয়সালা: রোযাদার অবস্থায় ওযু বা গোসলের সময় গড়গড়া করা (গলার গভীর পর্যন্ত পানি নেওয়া) এবং নাকে গভীরভাবে পানি টানা মাকরূহে তাহরীমী বা কঠোরভাবে মাকরূহ [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ২৬; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৯]।
  • কারণ ও ঝুঁকি: রোযা অবস্থায় গড়গড়া করলে পানি কণ্ঠনালীর নিচে নেমে পেটে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। যদি অসাবধানতাবশত সামান্য পানিও পেটে চলে যায়, তবে রোযা ভেঙে যাবে এবং পরবর্তীতে তার জন্য কেবল ১টি কাযা রোযা রাখা ওয়াজিব হবে [দরসুল ফিকহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৯, ২৩১; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ২৬]।
  • করণীয়: রোযা অবস্থায় ওযুর সময় গড়গড়া না করে মুখের ভেতরের অংশে সাধারণ কুলি করবেন এবং নাকে আলতোভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার করবেন [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ২৬]।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. নূরুল ঈযাহ:

  • পৃষ্ঠা ২৪: (ওযুর ফরযসমূহ পরিচ্ছেদ)।
  • পৃষ্ঠা ২৬: (ওযুর সুন্নাতসমূহ পরিচ্ছেদ — কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার বিবরণ)।
  • পৃষ্ঠা ৩৫-৩৬: (গোসলের ফরয ও সুন্নাতসমূহ অধ্যায়)।

২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা ৪৪-৪৫: (তাহারাত অধ্যায় — ওযু ও গোসলের ফরযের বিবরণ)।
  • পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯: (ওযুর সুন্নাতসমূহ ও রোযাদারের গড়গড়া করার মাকরূহ ওয়াক্তের বিবরণ)।

৩. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা ২২৯: (রোযা ভেঙে যাওয়ার সাধারণ মূলনীতি আলোচনা)।
  • পৃষ্ঠা ২৩১: (পাকস্থলী ও কণ্ঠনালীতে প্রবিষ্ট বস্তুর মাধ্যমে রোযা ভঙ্গের বিবরণ)।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.