পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য মিথ্যা অযুহাত দিলে, এখন করণীয় কি?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 495
Questioner: Maisha Anjum Saba
Question Asked: 21 May 2026, 06:16 PM
Reviewed & Published: 21 May 2026, 06:23 PM
Views: 31
Tokens: 2,086
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
আমি গতবছর একবার পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য মিথ্যা অযুহাত দিয়েছিলাম, এখন আমি যদি আল্লাহর কাছে তওবা করি, তাহলে কি আমার মাফ হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই: ইসলামে তওবা ( repentance) একটি মহান ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর শীঘ্রই তওবা করে; এরাই তারা যাদের তওবা আল্লাহ কবুল করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।" (সূরা আন-নিসা: ১৭)

আপনি যদি সত্যিই আন্তরিকভাবে তওবা করেন, তাহলে আল্লাহর রহমত অপরিসীম। তবে তওবা কবুল হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে:

১. তওবার শর্তসমূহ

  • অনুতপ্ত হওয়া: যে কাজটি করেছেন তার জন্য মন থেকে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হতে হবে।
  • পাপ কাজ পরিত্যাগ করা: ভবিষ্যতে এই মিথ্যা বা অন্য কোনো পাপ কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।
  • পুনরায় না করার প্রতিজ্ঞা: আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করতে হবে যে, আর কখনো এই কাজ করবেন না।
  • ক্ষতিপূরণ (যদি প্রযোজ্য হয়): যেহেতু আপনি পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য মিথ্যা অজুহাত দিয়েছেন, তাই আপনাকে ঈমানের দৃষ্টিকোণ থেকে তওবা করলেই হবে। তবে যদি কারো অধিকার ক্ষুণ্ন হয়ে থাকে (যেমন: শিক্ষকের কাছে মিথ্যা বলেছেন), তাহলে তার কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়া উত্তম। কিন্তু সাধারণ মিথ্যার জন্য তওবা করলেই আল্লাহর রহমত যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।

২. হানাফি ফিকহের নির্দেশনা

হানাফি মাযহাবের ইমামগণ (ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ) এবং পরবর্তী ফকিহগণ (যেমন: ইবনে আবেদীন, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী, মুফতি মুহাম্মাদ শফি) স্পষ্ট বলেছেন: যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন।

"আল্লাহ তাআলা তওবা কবুল করেন, তবে তিনি তওবার পরও পাপীর উপর রাগান্বিত হন না বরং তাকে ক্ষমা করে দেন।" (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৪৬)

৩. মিথ্যার তওবা বিশেষভাবে

মিথ্যা বলা কবিরা গুনাহ। তবে যদি আপনি এখন আল্লাহর কাছে ফিরে আসেন এবং ভবিষ্যতে সত্য বলার প্রতিজ্ঞা করেন, ইনশাআল্লাহ আপনার তওবা কবুল হবে। নবীজি ﷺ বলেছেন:

"যে ব্যক্তি তওবা করে, সে যেন কোনো পাপ করেনি।" (ইবনে মাজা: ৪২৪০)

৪. প্রয়োজনীয় দোয়া

তওবা করার সময় এই দোয়াটি পড়া উত্তম:

"اللَّهُمَّ إِنِّي أَتُوبُ إِلَيْكَ مِنْ كُلِّ مَا كَرِهْتَ، وَأَسْتَغْفِرُكَ مِنْ كُلِّ مَا نَهَيْتَ عَنْهُ، فَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ"
উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মা ইন্নি আতুবু ইলাইকা মিন কুল্লি মা কারিহতা, ওয়া আসতাগফিরুকা মিন কুল্লি মা নাহাইতা আনহু, ফাতুব ‘আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত তাওয়্যাবুর রাহীম।"
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে তাওবা করছি সব কাজ থেকে যা আপনি অপছন্দ করেন এবং ক্ষমা চাচ্ছি সব কাজ থেকে যা আপনি নিষেধ করেছেন। সুতরাং আপনি আমার তাওবা গ্রহণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।"

৫. মনে রাখবেন

  • আপনার এই তওবা যদি আন্তরিক হয়, তাহলে আল্লাহ আপনার গুনাহ মাফ করবেন।
  • ভবিষ্যতে মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন।
  • যদি কারো হক নষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিবেন বা সেটি সংশোধন করে নিবেন।

উপসংহার: আপনি যদি আন্তরিকভাবে তওবা করেন এবং ভবিষ্যতে আর মিথ্যা না বলার প্রতিজ্ঞা করেন, তাহলে আল্লাহ আপনার তওবা কবুল করবেন। আল্লাহর রহমত অপরিসীম, তিনি ক্ষমাশীল।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.