রাগের মাথায় ছেড়ে দাও বললে তালাক হয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4917
Questioner: Waziha Shahriar
Question Asked: 03 Sep 2026, 09:23 PM
Reviewed & Published: 03 Sep 2026, 09:25 PM
Views: 32
Tokens: 3,774
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم و رحمة اللّٰه و بركاته.
(একজন বোনের হয়ে প্রশ্ন করছি)

স্বামী স্ত্রীর ঝগড়াঝাটি তে যদি স্ত্রীর উলটাপালটা ব্যবহারের জন্য স্বামী এটা ভাবে যে স্ত্রী তার কাছে খুশি নাই সন্তুষ্ট না। এটা ভেবে বলে যদি স্বামী বলে "ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও।" অথবা বলে "আমাকে একা ছেড়ে দাও, আমার সাথে থাকা লাগবেনা।" অথবা, "কাগজ পাঠায় দিব ছেড়ে দিও" ইত্যাদি এধরণের কথা বলার দ্বারা কি তালাক্ব পতিত হয়ে যাবে? যদি রাগের মাথায় বলে থাকে। একই সময়ে ৩ বার বলেনি বরং ১ বার করে আলাদা আলাদা সময়ে বলেছে এমন যদি মন থেকে নাও চায় তাও কি তালাক্ব পতিত হবে?

তালাক যদি হয়ে যায় এক্ষেত্রে কী করণীয়?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, স্বামী স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও", "আমাকে একা ছেড়ে দাও, আমার সাথে থাকা লাগবেনা", "কাগজ পাঠায় দিব ছেড়ে দিও" ইত্যাদি। এই ধরনের বাক্য দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার বিধান নিম্নরূপ:

প্রথম অবস্থা: "ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও" বা "আমাকে একা ছেড়ে দাও" এই বাক্যগুলো তালাকের জন্য স্পষ্ট (সরীহ) শব্দ নয়, বরং এগুলো কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দের অন্তর্ভুক্ত। কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত (ইচ্ছা) শর্ত।

  • যদি স্বামী এই কথা বলার সময় তালাক দেওয়ার নিয়ত করে থাকে, তাহলে একটি তালাকে বায়িন (অপারিবর্তনীয় তালাক) পতিত হবে।
  • আর যদি নিয়ত না করে থাকে, অর্থাৎ শুধু রাগের মাথায় বা ভয় দেখানোর জন্য বলে থাকে, তাহলে তালাক পতিত হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৩)

দ্বিতীয় অবস্থা: "কাগজ পাঠায় দিব ছেড়ে দিও" এই বাক্যটিও কিনায়া। এখানেও উপরোক্ত নিয়ম প্রযোজ্য। নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হবে না।

তৃতীয় অবস্থা: আলাদা আলাদা সময়ে ১ বার করে বলা প্রশ্নে উল্লেখ আছে যে, স্বামী একই মজলিসে ৩ বার বলেনি, বরং আলাদা আলাদা সময়ে ১ বার করে বলেছে। যদি প্রতিবার বলার সময় তার তালাক দেওয়ার নিয়ত না থাকে, তাহলে কোনো তালাকই পতিত হবে না। আর যদি কোনো একবার নিয়ত করে থাকে, তাহলে সেদিন একটি তালাকে বায়িন পতিত হবে।

রাগের অবস্থায় তালাকের বিধান: ইসলামী আইনে রাগের অবস্থায় তালাক দিলে সাধারণত তালাক পতিত হয়ে যায়, যদি রাগ এমন চরম পর্যায়ে না পৌঁছে যে, মানুষ তার কথা ও কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞান হয়ে যায়। তবে প্রশ্নে বর্ণিত বাক্যগুলো যেহেতু কিনায়া, তাই নিয়তের উপরই তালাক নির্ভর করছে। নিয়ত না থাকলে রাগের মাথায় বললেও তালাক পতিত হবে না।

তালাক পতিত হয়ে গেলে করণীয়: যদি কোনো কারণে তালাকে বায়িন পতিত হয়ে যায় (১ম বা ২য় তালাক), তাহলে: ১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সাথে সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। ২. পুনরায় একসাথে থাকতে চাইলে নতুন মোহরানাসহ নতুন বিবাহ করতে হবে। ৩. স্ত্রীকে ইদ্দত (তিন হায়েয বা তিন মাস) পালন করতে হবে। ইদ্দতের মধ্যে নতুন বিবাহ করা যাবে না। ৪. যদি এটি ৩য় তালাক হয়, তাহলে স্ত্রী হালাল না হওয়া পর্যন্ত (অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ ও তারপর বিচ্ছেদ) পূর্বের স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বৈধ হবে না।

উপসংহার ও পরামর্শ: প্রশ্নে বর্ণিত বাক্যগুলো দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত। যেহেতু স্বামী মন থেকে চায়নি এবং শুধু রাগের মাথায় বলেছে, তাই সম্ভবত তার নিয়ত ছিল না। সেক্ষেত্রে তালাক পতিত হয়নি বলে ধারণা করা যেতে পারে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং পারিবারিক জীবনের সাথে জড়িত। তাই স্থানীয় কোনো বিশ্বস্ত মুফতির কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলুন এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করুন।

আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.