সাহরি না খেলে রোজা হবে কি?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
আমার ভাইয়ের অসুস্থতার জন্য আম্মু রোজা মান্নত করেছে।
রাতে রোজা রাখবে এই নিয়ত করলেও সাহরি করে নাই।
এখনও কিছু খায় নি রোজাটা রেখে দিলে হবে কী?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। আপনি লিখেছেন "আমার ভাইয়ের অসুস্থতার জন্য আম্মু রোজা মান্নত করেছে" — অর্থাৎ আপনার আম্মু নিজে রোজা রাখার মান্নত করেছেন। আর এখন প্রশ্ন হলো, তিনি রাতে রোজা রাখার নিয়ত করেছেন কিন্তু সাহরি খাননি। এখন তিনি যদি কিছু না খেয়ে রোজা রাখেন, তাহলে তার রোজা হবে কি না।
উত্তর: হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ তার রোজা হয়ে যাবে। রোজা রাখার জন্য সাহরি খাওয়া ওয়াজিব বা শর্ত নয়, বরং এটি একটি মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) আমল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে।" (সহিহ বুখারী: ১৯২৩)।
তবে, রোজার শুদ্ধ হওয়ার মূল শর্ত হলো সুবহে সাদিকের (ভোরের) আগ পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং সুবহে সাদিকের সময় নিয়ত করা। যেহেতু আপনার আম্মু রাতে (অর্থাৎ সুবহে সাদিকের আগে) রোজা রাখার নিয়ত করেছেন, তাই তার নিয়ত শুদ্ধ হয়েছে। সাহরি না খাওয়ার কারণে রোজা ভঙ্গ হবে না, বরং রোজা সহীহ (শুদ্ধ) হবে।
হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে:
- রদ্দুল মুহতার (আল-হাসকাফী/ইবনে আবিদীন) -এ উল্লেখ আছে, রোজার নিয়তের সময় হলো রাত থেকে শুরু করে দ্বিপ্রহরের (যাওয়ালের) আগ পর্যন্ত। তবে রাতে নিয়ত করা উত্তম। (রদ্দুল মুহতার, ২:৩৭৭-৩৭৮)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) -তেও বলা হয়েছে, নফল বা মান্নতের রোজার জন্য রাতে নিয়ত করা শর্ত নয়; বরং দিনের প্রথম ভাগে (যাওয়ালের আগে) নিয়ত করলেও রোজা সহীহ হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১:১৯৬)
- বেহিশতি জেওর -এ মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) লিখেছেন, "রোজার জন্য সাহরি খাওয়া জরুরি নয়। যদি কেউ সাহরি না খেয়ে রোজা রাখে, তবুও তার রোজা হয়ে যাবে।" (বাহিশতি জেওর, রোজার মাসায়িল)
মাসআলা: যেহেতু আপনার আম্মু মান্নতের রোজা রাখছেন, তাই এটি তার উপর ওয়াজিব হয়েছে। তিনি যদি এখন (সুবহে সাদিকের পর) কিছু না খেয়ে থাকেন এবং রোজা রাখার নিয়ত করে থাকেন, তাহলে তার রোজা আদায় হয়ে যাবে। তবে যদি তিনি মনে করেন যে, সাহরি না খাওয়ার কারণে রোজা ভঙ্গ হয়ে গেছে এবং তিনি কিছু খেয়ে ফেলেন, তাহলে সেটি গুনাহের কাজ হবে এবং তার মান্নত পূর্ণ হবে না।
উপসংহার: আপনার আম্মু যদি এখন পর্যন্ত (সুবহে সাদিকের পর) কিছু না খেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি রোজা রেখে দিন। তার রোজা সহীহ হবে। সাহরি না খাওয়ার কারণে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ভবিষ্যতে সাহরি খাওয়ার চেষ্টা করবেন, কারণ এতে বরকত রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আপনার ভাইকে সুস্থতা দান করুন এবং আপনার আম্মুর মান্নত কবুল করুন। (আমিন)