বিয়ের আগে শর্তযুক্ত তালাক বললে কি বিয়ের পর শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হবে ?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আলাদা আলাদা দিনে একাধিক বার উচরন করেছেন 2 বছর ধরে মুখে উচরন করেছেন ai কাছে একাধিক বার উচরন করেছেন তার মাথা এখন খারাপ হয়ে যাচ্ছে আদেও কটা হয়েছে বিয়ে করতে পারবে কি আলাহ ভালো যানে রাতে ঘুম হছে না 2 বছর ধরে ছেলেটি এখন সূদূ অন্য মাজহাবে ফতোয়া বা অন্য মাজহাবে চলে যাবে ভাবছে এত কঠিন একটি মত হানাফি মাজহাবে ছেলেটি বুকে যে একটা ভালবাসা বলে জিনিস ছিলো সেটি আর নেই ছেলেটি মুখে হাসি নেই এখন মনে হচ্ছে সূদূ ai কাছে আলচনা করেছেন ওইগূল দিয়ে ফেলেছে 2 টো মুফতি কাছে ভুল বয়ান দিয়ে ছিলো এবার এতদিন সব কিছু সব গলিয়ে ঘ হয়ে যাচ্ছে দিন থেকে সরে যাচ্ছে
Answer
বিয়ের আগে তালাকের শর্ত দেওয়া ও তার পরিণতি
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: একজন যুবক বিয়ের আগে বলেছে যে, বিয়ের পর স্ত্রী তার মায়ের সাথে ঝগড়া করলে তালাক হয়ে যাবে। সে ২ বছর ধরে আলাদা আলাদা দিনে একাধিকবার মুখে এই উক্তি করেছে। এখন সে বিবাহ করতে চায় কিনা এবং তার এই উক্তির শরয়ী বিধান কী?
উত্তর
আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন। আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আমি বিস্তারিতভাবে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।
১. বিয়ের আগে তালাকের শর্ত দেওয়ার বিধান
ইসলামী ফিকহের পরিভাষায়, বিয়ের পূর্বে কেউ যদি বলে, "বিয়ের পর আমার স্ত্রী যদি আমার মায়ের সাথে ঝগড়া করে, তবে সে তালাক" — এটি একটি শর্তযুক্ত তালাক (তালাক মু'আল্লাক) হিসেবে গণ্য হবে।
হানাফি মাযহাবের নিয়ম অনুযায়ী:
- বিয়ের পূর্বে উচ্চারিত শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর যদি সেই শর্ত পূরণ হয় (অর্থাৎ স্ত্রী মায়ের সাথে ঝগড়া করে), তাহলে তালাক পতিত হবে।
- তবে শর্ত পূরণের পূর্বে বিয়ে করলে এবং শর্ত পূরণ না হলে তালাক পতিত হবে না।
২. হানাফি মাযহাবের দলিল
কুরআন: الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ (সূরা বাকারা: ২২৯) - তালাক দুইবার (এরপর হয় ভালোভাবে রাখা অথবা সৌজন্যের সাথে বিদায় দেওয়া)।
হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তিনটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে করলেও তা কার্যকর হয় এবং ঠাট্টা করলেও তা কার্যকর হয়: বিয়ে, তালাক এবং রুজ'আত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া)।" (আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
রাদ্দুল মুহতার (ফতোয়ায় আলমগীরী): শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ হলেই তালাক পতিত হয়। (রাদ্দুল মুহতার, ৩/২৬৪)
৩. আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য?
আপনি উল্লেখ করেছেন:
- বিয়ের আগে এই শর্ত বলা হয়েছে
- ২ বছর ধরে আলাদা আলাদা দিনে একাধিকবার মুখে উচ্চারণ করেছেন
- এখনও বিয়ে হয়নি
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: যেহেতু এখনও বিয়ে হয়নি, তাই এখনও তালাক পতিত হয়নি। তালাক পতিত হওয়ার জন্য শর্ত পূরণ হওয়া প্রয়োজন (অর্থাৎ বিয়ে হওয়া এবং স্ত্রীর মায়ের সাথে ঝগড়া করা)।
৪. একাধিকবার উচ্চারণের প্রভাব
আপনি ২ বছর ধরে একাধিকবার এই কথা উচ্চারণ করেছেন। প্রতিটি উচ্চারণ আলাদা আলাদা শর্ত হিসেবে গণ্য হবে। তবে যেহেতু বিয়ে এখনও হয়নি, তাই এখন পর্যন্ত কোনো তালাক পতিত হয়নি।
বিয়ের পর: যদি বিয়ে করেন এবং স্ত্রী মায়ের সাথে ঝগড়া করে, তাহলে প্রথম উচ্চারণ অনুযায়ী একটি তালাক পতিত হবে। দ্বিতীয়বার ঝগড়া করলে দ্বিতীয় উচ্চারণ অনুযায়ী আরেকটি তালাক পতিত হবে। এভাবে তিনটি তালাক পূর্ণ হলে স্ত্রী আর বৈধ থাকবে না।
৫. বিয়ে করতে পারবে কি?
হ্যাঁ, বিয়ে করতে পারবেন। যেহেতু এখনও বিয়ে হয়নি এবং শর্ত পূরণ হয়নি, তাই কোনো তালাক পতিত হয়নি। আপনি বিয়ে করতে পারেন।
তবে সতর্কতা: বিয়ের পর যদি স্ত্রী মায়ের সাথে ঝগড়া করে, তাহলে তালাক পতিত হবে। তাই এই শর্ত থেকে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই, কারণ এটি একটি শর্তযুক্ত তালাক।
৬. মানসিক চাপ ও সংশয়
আপনি উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়ে চিন্তা করে আপনার ঘুম হচ্ছে না, মন খারাপ থাকছে, এবং আপনি অন্য মাযহাবে যাওয়ার কথা ভাবছেন। এটি শয়তানের প্ররোচনা। ইসলামে তালাক একটি গুরুতর বিষয়, তবে আল্লাহ তাআলা সহজতা দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا (সূরা বাকারা: ২৮৬) - আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।
৭. অন্যান্য মাযহাবের মতামত
- হাম্বলি মাযহাব: বিয়ের পূর্বে শর্তযুক্ত তালাক বললে, বিয়ের পর শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হবে (একই মত)।
- শাফিঈ মাযহাব: অনুরূপ মত।
- মালিকি মাযহাব: কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন মত রয়েছে।
সব মাযহাবেই তালাক একটি গুরুতর বিষয়। অন্য মাযহাবে গিয়ে সহজ সমাধান খোঁজা সঠিক নয়, বরং নিজের মাযহাব অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
৮. করণীয়
১. তওবা করুন: আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তালাকের কথা বলা একটি গুরুতর বিষয়, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল। ২. বিয়ে করুন: আপনি বিয়ে করতে পারবেন। তবে বিয়ের পর স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করুন। ৩. স্ত্রীকে বিষয়টি জানান: বিয়ের আগে স্ত্রীপক্ষকে এই শর্ত সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া উত্তম, যাতে ভবিষ্যতে সমস্যা না হয়। ৪. পারিবারিক সৌহার্দ্য বজায় রাখুন: স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করুন। ৫. মানসিক চাপ কমান: এই বিষয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে আল্লাহর উপর ভরসা করুন।
সূত্র:
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ৩/২৬৪
- ফতোয়ায় আলমগীরী, ১/৩৭৩
- ফতোয়ায় উসমানী, ২/৫৪৩
- ইমদাদুল ফতোয়া, ২/১৮৫
- বেহেশতী জেওর, ৫/২৪