মামির অল্প পরিমাণ দুধ পান করলে কি মামাতো বোনকে বিয়ে করা যাবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4832
Questioner: Md. Bukhari
Question Asked: 02 Sep 2026, 07:23 PM
Reviewed & Published: 02 Sep 2026, 07:37 PM
Views: 29
Tokens: 4,457
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমার মামির দুধ পান করেছি কয়েক ঢোক, বেশি বা কম হতে পারে। তবে জানিনা কতটুকু পান করেছি,একাধিক হাদিসে পেয়েছি,অল্প পানে দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে না। তবে কি আমি আমার মামাতো বোন কে বিয়ে করতে পারবো?

অল্প পানে দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত হয়,হানাফি এবং মালিকি কি কি দলিল দেই তার বিবরণ জানতে চাই

Answer

দুধপান সম্পর্কিত মাসআলার উত্তর

১. মামাতো বোন যার মায়ের দুধ পান করেছেন, তাকে বিয়ে করার শরয়ী হুকুম:

  • শরয়ী ফয়সালা: আপনার জন্য আপনার উক্ত মামাতো বোনকে বিবাহ করা সম্পূর্ণ হারাম এবং নাজায়েয
  • কারণ বিশ্লেষণ: আপনি যেহেতু শৈশবে (দুধপানের শরয়ী বয়সসীমার মধ্যে) আপনার মামির বুকের দুধ পান করেছেন, তাই হানাফী ফিকহের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আপনার মামি আপনার দুধ-মা (رضاعی ماں) হয়ে গেছেন । আর আপনার দুধ-মায়ের গর্ভজাত কন্যাসন্তান (আপনার মামাতো বোন) আপনার দুধ-বোন (رضاعی بہن) সাব্যস্ত হয়েছেন।
  • শরী'আতের অকাট্য বিধান অনুযায়ী, বংশগত আপন বোনের মতো দুধ-বোনকেও বিবাহ করা চিরতরে হারাম ও নিষিদ্ধ
  • দুধের পরিমাণের হুকুম: আপনি কয়েক ঢোক পান করেছেন এবং সঠিক পরিমাণ জানেন না। হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ও ফতোয়াযোগ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুধের পরিমাণ কম বা বেশি হওয়াতে কোনো পার্থক্য নেই । সামান্য পরিমাণ বা এক ফোঁটা দুধও যদি শিশুর কণ্ঠনালীর নিচে নেমে পেটে পৌঁছায়, তবেই দুধ সম্পর্ক (রাযা’আত) সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হয়ে যায় । সুতরাং, আপনার মামাতো বোনের সাথে আপনার বিবাহ কোনোভাবেই বৈধ নয়।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর: ১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড): 'দুধপান' অধ্যায়, পৃষ্ঠা: ২২০ , ২. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): 'দুধপানের সূত্রে মাহরাম' পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা: ১৪৭-১৪৮


২. অল্প পানেও দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে হানাফী ও মালিকী মাযহাবের অকাট্য দলীলসমূহ:

আপনি যে একাধিক হাদীসে অল্প পানে দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত না হওয়ার কথা পেয়েছেন (যেমন: "এক বা দুই চুষকিতে হারাম হয় না"), সেটি মূলত ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহ.)-এর মাযহাব। কিন্তু হানাফী ও মালিকী মাযহাবের ইমামগণ অকাট্য কুরআন, হাদীস ও সাহাবীগণের আছারের আলোকে ফয়সালা দিয়েছেন যে, সামান্য পরিমাণ পানেও দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত হয়ে যায়। তাঁদের মজবুত দলীলসমূহ নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

ক. পবিত্র কুরআনের ব্যাপকতা (عموم القرآن):

আল্লাহ তা'আলা সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে মাহরাম নারীদের বিবরণ দিতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন:

"وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ" "তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে... তোমাদের সে মায়েদেরকে যারা তোমাদের দুধ পান করিয়েছে এবং তোমাদের দুধ-বোনদেরকে..."

  • দলীল বিশ্লেষণ: এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা "দুধ পান করিয়েছে" (أرضعنكم) শব্দটিকে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা পরিমাণের সাথে সীমাবদ্ধ (Restricted) করেননি, বরং তা সাধারণভাবে (Mutlaq/নিঃশর্ত) উল্লেখ করেছেন। উসূলে ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, কুরআনের মুতলাক (সাধারণ) বিধানকে কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা (যেমন পাঁচবার) দিয়ে সীমাবদ্ধ করতে হলে সমপর্যায়ের অকাট্য দলীল প্রয়োজন। যেহেতু সামান্য পরিমাণ দুধ পানের দ্বারাও "দুধ পান করানো" বা "রাযা’আত" শব্দটির আভিধানিক ও শরয়ী অর্থ বাস্তবায়িত হয়, তাই এক ফোঁটা বা সামান্যতম পানেও হুরমত (হারাম হওয়া) সাব্যস্ত হবে।

খ. হাদীসে নববীর সাধারণ হুকুম (اطلاق الحديث):

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

"يحرم من الرضاعة ما يحرم من الولادة" (অন্য বর্ণনায় "يحرم من الرضاع ما يحرم من النسب") "জন্মগত সম্পর্কের কারণে যেসব আত্মীয় হারাম হয়, দুধপানের সম্পর্কের কারণেও তারা হারাম হয়ে যায়।"

  • দলীল বিশ্লেষণ: এই হাদীসেও "রাযা’আত" (দুধপান) শব্দটিকে সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা পরিমাণের শর্ত যুক্ত করা হয়নি। সুতরাং, অল্প হোক বা বেশি হোক—সব ধরণের দুধপানই এর অন্তর্ভুক্ত ।

গ. জমহুর সাহাবীগণের আছার বা ফয়সালা (সাহাবীদের ঐকমত্য):

সাহাবীগণের আমল ও ফয়সালা হানাফী ও মালিকী মাযহাবের অন্যতম প্রধান দলীল।

  • হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.)-কে যখন অল্প পরিমাণ দুধ পানের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি স্পষ্ট ফয়সালা দিয়েছিলেন:

    "قليله وكثيره يحرم" "দুধের পরিমাণ অল্প হোক বা বেশি হোক, তা (বিবাহ) হারাম করে দেয়।"

  • অনুরূপ ফয়সালা আমীরুল মু'মিনীন হযরত আলী (রাযি.) এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাযি.) থেকেও নির্ভরযোগ্য সনদে প্রমাণিত।

ঘ. ফিকহী কিয়াস ও যুক্তিসঙ্গত হিকমত (শরীরের অংশ হওয়া):

দুধ পানের মাধ্যমে বিবাহ হারাম হওয়ার মূল কারণ হলো— শিশুর দেহে দুধের সংমিশ্রণ ঘটা । সামান্য পরিমাণ বা এক ফোঁটা দুধও যদি কণ্ঠনালীর নিচে পেটে প্রবেশ করে, তবে তা শিশুর রক্ত ও মাংসের সাথে মিশে যায় । ঠিক যেমন সামান্য অপবিত্র বস্তুও পবিত্র বস্তুকে নাপাক করে দেয়, তেমনি সামান্য পরিমাণ দুধপানেও হুরমত (হারাম হওয়া) সাব্যস্ত হয় । সুতরাং, সামান্য ও বেশির মাঝে হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই ।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর: ১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড): 'দুধপান' অধ্যায়, পৃষ্ঠা: ২২০ ২. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৪৭-১৪৮


আল্লাহই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.