নাবালক অবস্থায় বিবাহ হলে বালেগাহ হওয়ার পর বিবাহ ছিন্ন করার কি কোন সুযোগ আছে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4829
Questioner: Olia Parvin
Question Asked: 02 Sep 2026, 05:55 PM
Reviewed & Published: 02 Sep 2026, 07:11 PM
Views: 31
Tokens: 4,851
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইসলামিক মতে ১৪ বছর বয়সে আমার একজনের সাথে বিয়ে হয়.. ২০১৫ সালে.. তখন আমি নাবালিকা ছিলাম.. ছয়মাস থাকার পর সে প্রবাসী হয়ে যায়.. এরপর ২০১৮ সালে আমি তার সাথে আর থাকব না এটা বলে সেপারেশন হয়ে যাই.. মানে আমি সাবালিকা হওয়ার পরে তাকে আর মেনে নেইনি। এখন সে আমার তালাক দেয়নি মুখে এ পর্যন্ত, আর দিবেও না। সেক্ষেত্রে এই বিয়ে থেকে আমি কিভাবে মুক্তি পাবো? আর উল্লেখ্য আমি অন্য একজন কে বিয়ে করি ২০২৪ সালে, ২৩ বছর বয়সে.. তার সাথেই বর্তমানে আছি। আর একটা কথা হল আইনিভাবে সেই বিয়েটা হয়নি, যেটা ২০১৫ সালে হয়েছিলো
শুধু ইসলামী ভাবে হয়েছে। আইনী ভাবে আমি কুমারী ছিলাম ২৪ সাল পর্যন্ত
শুধু ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে জানতে চাই।
শরীয়তসম্মত ভাবেই হয়েছিলো
সেটা পরবর্তীতে কোনো তালাকের মাধ্যমে শেষ হয়নি, আমি সেপারেট হয়ে যাওয়ার পরে তার সাথে আর যোগাযোগ করিনি। আর সে আমাকে অনেক ডিস্টার্ব করেছে.. আমার জীবন কঠিন করার চেষ্টা করেছে।

Answer

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: আপনি ২০১৫ সালে (১৪ বছর বয়সে) একজন ব্যক্তির সাথে শরীয়তসম্মতভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৬ মাস পর তিনি বিদেশে চলে যান। ২০১৮ সালে (সাবালিকা হওয়ার পর) আপনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং আর তাকে স্বামী হিসেবে মেনে নেননি। তিনি আপনাকে তালাক দেননি এবং দিতেও রাজি নন। এরপর ২০২৪ সালে আপনি (২৩ বছর বয়সে) অন্য একজনের সাথে বিবাহ করেন এবং তার সাথেই বর্তমানে আছেন। এখন জানতে চান, শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রথম বিবাহ থেকে কীভাবে মুক্তি পাবেন?


শরীয়তের বিধান ও সমাধান:

১. প্রথম বিবাহের বৈধতা: যেহেতু বিবাহটি শরীয়তসম্মতভাবে (ইজাব-কবুলের মাধ্যমে) সম্পন্ন হয়েছিল, তাই ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তা বৈধ এবং আইনী জটিলতা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর নিকট তা গণ্য হবে। তবে, বালেগ (সাবালিকা) হওয়ার পর আপনি যদি সেই বিবাহে সম্মত না থাকেন এবং তাকে স্বামী হিসেবে মেনে না নেন, তাহলে হানাফি মাযহাবের নীতিমালা অনুযায়ী আপনার জন্য "খিয়ারুল বুলুগ" (বালেগ হওয়ার পর বিবাহ ভঙ্গের অধিকার) প্রযোজ্য হবে।

২. খিয়ারুল বুলুগ (Option of Puberty): হানাফি ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ আল-হিদায়াহ এবং রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে, যদি কোনো নাবালিকা (অপ্রাপ্তবয়স্ক) মেয়ের বিবাহ তার অভিভাবক কর্তৃক সম্পন্ন হয়, তবে সে বালেগ হওয়ার পর সেই বিবাহে সম্মত না থাকলে সে বিবাহ ভঙ্গের (ফাসখ) অধিকার রাখে।

  • ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ)-এর মতে, বালেগ হওয়ার পর স্ত্রী যদি সাথে সাথে (বিলম্ব না করে) বিবাহ ভঙ্গের ইচ্ছা প্রকাশ করে, তাহলে বিবাহটি ভেঙে যায় (ফাসখ হয়ে যায়)।
  • ইমাম মুহাম্মদ (রহঃ)-এর মতে, এই অধিকার প্রমাণের জন্য আদালত বা কাজীর রায় প্রয়োজন।

আপনার ক্ষেত্রে: যেহেতু আপনি ২০১৮ সালে (সাবালিকা হওয়ার পর) তাকে মেনে না নিয়ে পৃথক হয়ে গিয়েছিলেন এবং তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তাই ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মতে, আপনার প্রথম বিবাহটি তখনই (২০১৮ সালে) ভেঙে গিয়েছিল। এই অবস্থায় আপনার জন্য ২০২৪ সালে দ্বিতীয় বিবাহ করা বৈধ ছিল।

৩. বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয়: যেহেতু প্রথম স্বামী আপনাকে অনেক ডিস্টার্ব করেছে.. আপনার জীবন কঠিন করার চেষ্টা করেছে,আপনাকে ডিস্টার্ব করছেন, তাই যদি সে এখন আর আপনার স্বামী নন,তদুপরি আপনার জন্য উত্তম পথ হলো:

  • ফাসখ (বিবাহ বিচ্ছেদ) এর আবেদন: আপনি স্থানীয় ইসলামিক আদালত, কাজী বা দেশের স্বীকৃত ইসলামিক বিচারকের নিকট গিয়ে প্রথম বিবাহটি ভেঙে দেওয়ার (ফাসখ) জন্য আবেদন করুন। যেহেতু আপনি ২০১৮ সালে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তিনি ৭ বছর ধরে আপনাকে তালাক দেননি, তাই আদালত আপনার পক্ষে ফাসখের রায় দিতে বাধ্য।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.