মাজার পূজারী ব্যক্তির জন্য কি মাগফিরাত ও জান্নাতের দোয়া করা যাবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4784
Questioner: Aera Ahmed
Question Asked: 01 Sep 2026, 10:42 PM
Reviewed & Published: 01 Sep 2026, 10:50 PM
Views: 14
Tokens: 2,445
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

যদি কোনো ব্যক্তি মাজার পূজারী হয় এবং শিরক করে মারা যায়, ওই ব্যক্তির ক্ষমা, মাগফিরাত ও জান্নাতের দোয়া করা যাবে?

Answer

মাজার পূজারী ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত ও জান্নাতের দোয়া করা প্রসঙ্গে

উত্তর

যে ব্যক্তি মাজার পূজারী (কবরপূজক) এবং শিরকে লিপ্ত থেকে মৃত্যুবরণ করেছে, তার জন্য মাগফিরাত ও জান্নাতের দোয়া করা জায়েয নয়। বরং এরূপ ব্যক্তির জন্য দোয়া করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

দলিল-প্রমাণ

কুরআনুল কারিম থেকে দলিল:

আল্লাহ তাআলা বলেন:

مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ

"নবী এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা আত্মীয় হয়, যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী।" (সূরা আত-তাওবাহ: ১১৩)

হাদিস থেকে দলিল:

হযরত আবু তালহা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন:

"আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, যতক্ষণ না আমাকে নিষেধ করা হয়।" তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন: "নবী এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে..." (সূরা আত-তাওবাহ: ১১৩) (সহিহ বুখারী: ১৩৬৩, সহিহ মুসলিম: ২৪)

হানাফি ফিকহের আলোকে:

১. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) -এর মতে, যে ব্যক্তি শিরক বা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তার জন্য ইস্তিগফার ও মাগফিরাতের দোয়া করা জায়েয নয়। কারণ, শিরক এমন একটি মহাপাপ যা ক্ষমার অযোগ্য যদি তাওবা না করে মৃত্যু হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না; এবং এর নিম্নস্তরের পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা আন-নিসা: ৪৮)

২. রদ্দুল মুহতার (শামী) -এ উল্লেখ আছে:

"মুশরিক ও কাফিরের জন্য দোয়া করা, ইস্তিগফার করা এবং তাদের জন্য জান্নাত কামনা করা জায়েয নয়। কারণ, আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য ক্ষমা ও জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেননি।"

৩. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) -তে বলা হয়েছে:

"যে ব্যক্তি কুফরী বা শিরক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার জানাযার নামায পড়া, তার জন্য দোয়া করা এবং ইস্তিগফার করা জায়েয নয়।"

৪. ইমদাদুল ফাতাওয়া -তে মুফতি রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহ.) বলেছেন:

"মুশরিক ও কাফিরের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা জায়েয নয়। বরং এটা কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশের পরিপন্থী।"

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

১. শিরকের সংজ্ঞা: মাজার পূজা করা, কবরে মৃত ব্যক্তির কাছে প্রার্থনা করা, তাদের নিকট চাওয়া ইত্যাদি শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তবে যদি কোনো ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত বা ভুল বুঝে এরূপ করে থাকে এবং প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকেই একমাত্র ইলাহ মনে করে, তাহলে তার ব্যাপারটি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা হবে।

২. জীবিত অবস্থায় দাওয়াত: যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি মাজার পূজায় লিপ্ত থাকে, তাহলে তাকে জীবিত অবস্থায় দাওয়াত দেওয়া এবং শিরক থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা আমাদের দায়িত্ব।

৩. মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া: যদি কোনো ব্যক্তি মুসলিম ছিল কিন্তু কিছু ভুল বিশ্বাস বা আমল ছিল, তাহলে তার জন্য দোয়া করা যাবে। কিন্তু স্পষ্ট শিরকে লিপ্ত থেকে মৃত্যুবরণকারীর জন্য দোয়া করা যাবে না।

সারসংক্ষেপ:

যে ব্যক্তি মাজার পূজারী (কবরপূজক) এবং শিরকে লিপ্ত থেকে মৃত্যুবরণ করেছে, তার জন্য মাগফিরাত ও জান্নাতের দোয়া করা জায়েয নয়। বরং এরূপ ব্যক্তির জন্য দোয়া করা কুরআন ও হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে শিরক থেকে হিফাজত করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.