একাধিক বার ওয়াদা ভঙ্গের ক্ষেত্রে করণীয়
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
ওয়াদা ভঙ্গের ক্ষেত্রে করণীয়
প্রশ্ন: আমি অনেক বেশি ওয়াদা ভঙ্গ করেছি এবং ছোট থেকেই এমন করে আসছি। কিছু মাস আগে হাতে কোরআন নিয়ে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে সেটাও ভঙ্গ করেছি এবং আবার কসম খেয়ে কোরআন হাতে নিয়ে এরপর আল্লাহর নামে কসম করে ভঙ্গ করেছি। এখন কী করব? বাঁচার উপায় কী?
উত্তর
আলহামদুলিল্লাহ, আপনি আপনার ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং সমাধান জানতে চেয়েছেন—এটাই আপনার সংশোধনের প্রথম ধাপ। আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের ভালোবাসেন।
১. কসম ভঙ্গের কাফফারা (শরীয়তের বিধান)
যেহেতু আপনি আল্লাহর নামে কসম খেয়ে তা ভঙ্গ করেছেন, তাই প্রতিটি কসম ভঙ্গের জন্য কাফফারা দিতে হবে। কাফফারা হলো:
কাফফারার বিধান (সূরা আল-মায়িদা: ৮৯):
- ১০ জন মিসকিনকে মধ্যবিত্ত মানের খাবার খাওয়ানো (দুই বেলা), অথবা
- ১০ জন মিসকিনকে দুটি পোশাক দান করা, অথবা
- একজন দাস/ক্রীতদাস মুক্ত করা
যদি এসব সামর্থ্য না থাকে, তাহলে পরপর ৩ দিন রোজা রাখতে হবে।
মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের শপথসমূহের অনর্থক কথার জন্য পাকড়াও করবেন না; কিন্তু তিনি তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন সেই শপথের জন্য যা তোমরা দৃঢ়ভাবে করে থাক। তার কাফফারা হলো—তোমাদের পরিবারকে যে খাবার দাও, তার মধ্যম ধরণের খাবার দশজন মিসকিনকে খাওয়ানো, অথবা তাদেরকে বস্ত্র দান করা, অথবা একজন দাস মুক্ত করা। আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন রোজা রাখবে। এটা তোমাদের শপথের কাফফারা, যদি তোমরা শপথ কর। আর তোমরা তোমাদের শপথসমূহ রক্ষা কর।" (সূরা আল-মায়িদা: ৮৯)
২. কোরআন হাতে কসমের বিশেষ বিধান
কোরআন হাতে কসম করলে বা কোরআনের উপর হাত রেখে কসম করলে তা আল্লাহর নামে কসম হিসেবেই গণ্য হবে কি না? তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। পরবর্তী হানাফি ফকিহ গণ কসম হবে বলে গণ্য করেছেণ। কারণ কোরআন আল্লাহর কালাম। তাই এর ভঙ্গেও উপরোক্ত কাফফারাই দিতে হবে।
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)রদ্দুল মুহতার -এ উল্লেখ করেছেন যে, কোরআন শরীফের উপর হাত রেখে কসম করলে তা আল্লাহর নামে কসমের অন্তর্ভুক্ত। (রদ্দুল মুহতার, ৩/৭১৪)
৩. তওবার শর্ত
কাফফারা আদায়ের পাশাপাশি আন্তরিক তওবা করতে হবে। তওবার শর্ত হলো:
- কৃত গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া
- সাথে সাথে গুনাহ ছেড়ে দেওয়া
- ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়াই হলো তওবা।" (ইবনে মাজাহ: ৪২৫২)
৪. আপনার করণীয়
১. গণনা করুন: আপনি যতবার কসম ভঙ্গ করেছেন, প্রতিটির জন্য আলাদা কাফফারা দিতে হবে। যদি সংখ্যা জানা না থাকে, তাহলে অনুমান করে সংখ্যা নির্ধারণ করুন এবং সেই অনুযায়ী কাফফারা আদায় করুন।
২. কাফফারা আদায় করুন: প্রতিটি কসম ভঙ্গের জন্য ১০ জন মিসকিনকে খাওয়ান বা পোশাক দিন, অথবা ৩ দিন রোজা রাখুন (যদি সামর্থ্য না থাকে)।
৩. তওবা করুন: আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
৪. ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন: ওয়াদা করার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন। ওয়াদা ভঙ্গের অভ্যাস ত্যাগ করুন।
৫. গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ
- ওয়াদা করার আগে ভাবুন: কোনো ওয়াদা করার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন যে, আপনি তা পালন করতে পারবেন কি না।
- "ইনশাআল্লাহ" বলুন: ভবিষ্যতের কোনো কাজের ওয়াদা করলে "ইনশাআল্লাহ" বলা সুন্নত এবং এটি ওয়াদা ভঙ্গের অজুহাত হিসেবে গণ্য হয়।
- আল্লাহর নামে অহেতুক কসম না করা: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে মিথ্যা বলে, সে এমন এক ঘরে প্রবেশ করবে যেখানে জাহান্নামের আগুন থাকবে।" (আবু দাউদ: ৩২৪৩)
আল্লাহ তাআলা আপনার তওবা কবুল করুন এবং আপনাকে ওয়াদা পালনের তাওফিক দান করুন। আমীন।