উমরাহ করার সময় ওযু ছুটে গেলে কি করণীয়?

Hajj and Umrah · Hanafi

Question No: 4782
Questioner: Nusrat Jahan
Question Asked: 01 Sep 2026, 10:17 PM
Reviewed & Published: 01 Sep 2026, 10:48 PM
Views: 20
Tokens: 2,365
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

উমরাহ করার সময় ওযু ছুটে গেলে কি করণীয়? তাছাড়া উমরাহ এর সময় কি কি ফিকহ জানা থাকা উচিত?

Answer

উমরাহ করার সময় ওযু ছুটে গেলে কি করণীয়?

ওযু ছুটে গেলে করণীয়

উমরাহর বিভিন্ন ধাপে ওযু ছুটে গেলে কী করণীয়, তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো:

১. তাওয়াফের সময় ওযু ছুটে গেলে:

যু ছাড়া তাওয়াফ করা জায়েয নয়: বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা নামাযের মতোই পবিত্রতা আবশ্যক করে, কেবল তাওয়াফের মধ্যে কথা বলার অনুমতি রয়েছে । হানাফী ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, ওযু ছাড়া কোনো প্রকার তাওয়াফ করা জায়েয নয়। তাওয়াফের মাঝে ওযু ভাঙলে করণীয়: তাওয়াফ করা অবস্থায় যদি আপনার ওযু ভেঙে যায়, তবে সাথে সাথে তাওয়াফ বন্ধ করে ওযু করতে চলে যেতে হবে। ওযু ছাড়া তাওয়াফ সম্পন্ন করার জরিমানা: ওযু ছাড়া তাওয়াফ সম্পন্ন করলে ক্ষেত্র বা ধরন অনুযায়ী 'দম' (পশু জবেহ) অথবা 'সাদকা' (ফিতরা) দেওয়া ওয়াজিব হবে ।

২. সাঈ (সাফা-মারওয়ায় দৌড়ানো) এর সময় ওযু ছুটে গেলে:

সাঈর জন্য ওযু ফরজ নয়। তাই সাঈর সময় ওযু ছুটে গেলে সাঈ বাতিল হবে না। তবে উত্তম হলো ওযু করে নেওয়া। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৩৮; রদ্দুল মুহতার, ২/৪৯১)

৩. ইহরাম বাঁধার সময় ওযু ছুটে গেলে:

ইহরাম বাঁধার পূর্বে ওযু করা সুন্নত। ইহরাম বাঁধার পর ওযু ছুটে গেলে ইহরামের কোনো ক্ষতি হয় না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৩৮)

৪. মিকাত অতিক্রমের সময়:

মিকাত অতিক্রমের সময় ওযু থাকা জরুরি নয়, তবে উত্তম হলো ওযু অবস্থায় থাকা।


উমরাহ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ফিকহী মাসআলাসমূহ

উমরাহ পালনের পূর্বে নিম্নলিখিত ফিকহী বিষয়গুলো জানা থাকা জরুরি:

১. উমরাহর ফরজ (Farz):

  • ইহরাম বাঁধা — উমরাহর জন্য ইহরাম বাঁধা ফরজ।
  • তাওয়াফ — ৭ চক্কর তাওয়াফ করা ফরজ।

২. উমরাহর ওয়াজিব (Wajib):

  • সাঈ — সাফা ও মারওয়ায় ৭ বার সাঈ করা ওয়াজিব।
  • হালক বা তাকসির — মাথার চুল সম্পূর্ণ মুণ্ডানো (হালক) বা ছোট করা (তাকসির) ওয়াজিব।
  • তরতীব — উক্ত কাজগুলো ক্রমানুসারে করা ওয়াজিব।
  • মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা — মিকাতের পূর্বে ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব নয়, তবে মিকাত অতিক্রমের পূর্বে ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব।

৩. ইহরামের নিষেধসমূহ (Muharramat):

  • সেলাই করা কাপড় পরা (পুরুষদের জন্য)
  • মাথা ঢাকা (পুরুষদের জন্য)
  • সুগন্ধি ব্যবহার করা
  • চুল-নখ কাটা
  • শিকার করা
  • স্ত্রী সহবাস ও বীর্যপাত
  • ঝগড়া-বিবাদ করা

৪. তাওয়াফের শর্তসমূহ:

  • পবিত্রতা — হাদস (ওযু-গোসল) ও খাবাস (নাপাকি) উভয় প্রকার পবিত্রতা থাকা।
  • সতর ঢাকা — পুরুষদের জন্য নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা।
  • কাবা ঘরকে বাম দিকে রেখে তাওয়াফ করা
  • হজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করা
  • তাওয়াফ ৭ চক্কর পূর্ণ করা

৫. সাঈর শর্তসমূহ:

  • তাওয়াফের পর সাঈ করা।
  • সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় শেষ করা।
  • ৭ বার পূর্ণ করা।
  • সাঈর জন্য ওযু শর্ত নয়, তবে উত্তম।

৬. উমরাহ ভঙ্গের কারণ:

  • ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে উমরাহ ভঙ্গ হয়ে যায় এবং দম (কুরবানি) ওয়াজিব হয়।
  • ইহরামের কোনো নিষেধ কাজ করলে দম বা সদকা ওয়াজিব হতে পারে।

৭. মহিলাদের বিশেষ মাসআলা:

  • মহিলাদের জন্য পর্দাসহ ইহরাম বাঁধা।
  • মহিলারা মুখমণ্ডল খোলা রাখবে, তবে পুরুষের সামনে নিকাব ব্যবহার করতে পারবে (চোখের নিচের অংশ ঢাকা যাবে না)। হজ্ব ক্যাপ পরিধান করবে।
  • হায়েজ/নিফাস অবস্থায় তাওয়াফ করা যাবে না — অপেক্ষা করতে হবে।
  • মহিলাদের জন্য হালক নয়, বরং চুলের অগ্রভাগ সামান্য কাটাই যথেষ্ট।

৮. উমরাহর ফজিলত:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "এক উমরাহ থেকে পরবর্তী উমরাহ পর্যন্ত (মাঝের গুনাহসমূহ) কাফফারা হয়ে যায়।" (সহীহ বুখারী: ১৭৭৩)


গুরুত্বপূর্ণ নোট

উমরাহ পালনের পূর্বে একজন আলেম বা মুফতির নিকট থেকে সম্পূর্ণ মাসআলাসমূহ জেনে নেওয়া অত্যন্ত উত্তম। কারণ উমরাহতে অসংখ্য ছোট-বড় মাসআলা রয়েছে যা না জানলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে তাওয়াফের সময় ওযু ছুটে গেলে সাথে সাথে ওযু করে পুনরায় তাওয়াফ শুরু করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সহীহ-শুদ্ধভাবে উমরাহ ও হজ পালনের তাওফিক দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.