প্রস্রাবের ফোঁটা সংক্রান্ত
Taharah Purity · Hanafi
Question
আর পানি ব্যবহার অত্যাবশ্যক না হলে শুধু টিস্যু দ্বারা সেইক্ষেত্রে পবিত্র হওয়া যাবে, বিষয়টা কি এমনই?
জাঝাকাল্লাহু খাইরান।
Answer
প্রস্রাবের পর ফোঁটা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
উত্তর:
১. প্রস্রাব চুইয়ে আসার পর 'ইস্তিবরা' বা পবিত্রতা নিশ্চিত করার বিধান
প্রস্রাবের পর অবশিষ্টাংশ বের হয়ে আসার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়াকে শরীয়তের পরিভাষায় 'ইস্তিবরা' বলা হয়। পুরুষদের জন্য ইস্তিবরা করা অপরিহার্য (ওয়াজিব), যাতে প্রস্রাবের ফোঁটা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার ব্যাপারে অন্তর আশ্বস্ত হয় । যতক্ষণ পর্যন্ত প্রস্রাব আসা পুরোপুরি বন্ধ না হবে, ততক্ষণ ওযু করা জায়েয হবে না । এজন্য প্রয়োজনে পায়চারি করা, সজোরে গলা পরিষ্কার করা বা অন্য কোনো অভ্যস্ত পন্থায় ফোঁটা বের করে দিতে হবে ।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর: নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ২০ (ইস্তিনজার বর্ণনা পরিচ্ছেদ)।
২. কতটুকু পরিমাণ নাপাকি ছড়ালে পানি ব্যবহার অত্যাবশ্যক (ফরয)?
প্রস্রাবের নালি দিয়ে যে সামান্য প্রস্রাব চুইয়ে আসে, তা যদি লজ্জাস্থানের ছিদ্র বা বের হওয়ার মুখের চারপাশেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং বেশি ছড়িয়ে না পড়ে, তবে কেবল টিস্যু বা ঢিলা ব্যবহার করা সুন্নত; এক্ষেত্রে পানি ব্যবহার করা ফরয বা বাধ্যতামূলক নয় ।
তবে পানি ব্যবহার করা কখন অত্যাবশ্যক (ফরয) হবে, তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপ শরীয়তে রয়েছে:
-
দিরহামের পরিমাণের কম হলে: যদি নির্গত নাপাকি (প্রস্রাব) বের হওয়ার পথ অতিক্রম করে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তার পরিমাণ এক দিরহামের (হাতের তালুর গভীর অংশ বা প্রায় একটি পাঁচ টাকার কয়েনের সমান) কম হয়, তবে নাপাক স্থানটি পানি দ্বারা ধৌত করা ওয়াজিব।
-
দিরহামের পরিমাণের বেশি হলে: যদি নাপাকি ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ এক দিরহামের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেই স্থানটি পানি দিয়ে ধৌত করা ফরয। এমতাবস্থায় কেবল টিস্যু বা ঢিলা দ্বারা মুছলে পবিত্রতা অর্জন হবে না এবং ঐ অবস্থায় নামায পড়লে নামায হবে না।
-
কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ২০ (ইস্তিনজার বর্ণনা পরিচ্ছেদ)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা ১০৬-১০৭ (নাপাকি হতে পবিত্রকরণ পরিচ্ছেদ)।
৩. শুধু টিস্যু বা ঢিলা দ্বারা পবিত্র হওয়ার বিধান
হ্যাঁ, আপনার ধারণা সঠিক। যদি প্রস্রাবের ফোঁটা লজ্জাস্থানের ছিদ্রের মুখেই আটকে থাকে অথবা ছড়িয়ে পড়লেও তা এক দিরহামের পরিমাণের চেয়ে কম হয়, তবে শুধু টিস্যু বা ঢিলা দ্বারা মুছে ফেললে আপনি শরীয়তের দৃষ্টিতে পবিত্র হয়ে যাবেন এবং আপনার নামায সহীহ হবে।
তবে উত্তম পদ্ধতি হলো: শরীয়তের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথমে ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহার করে নাপাকি শুকিয়ে নেওয়া এবং এরপর পানি ব্যবহার করে স্থানটি ধৌত করা সবচেয়ে উত্তম ও কাম্য। এটিই অধিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ২০ [৪২০]।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা ১০৭।
সারসংক্ষেপ ও পালনীয় সিদ্ধান্ত: ১. প্রস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগে ওযু করবেন না। ২. যদি প্রস্রাব সামান্য চুইয়ে আসে এবং তা এক দিরহামের চেয়ে বেশি না ছড়ায়, তবে শুধু টিস্যু দিয়ে মুছলেও নামায হবে। ৩. কিন্তু নাপাকি যদি এক দিরহামের বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তবে পানি দিয়ে ধোয়া ফরয। ৪. অধিক পরিচ্ছন্নতা ও সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণের জন্য টিস্যুর পাশাপাশি পানি ব্যবহার করা সর্বদা উত্তম। আল্লাহই ভালো জানেন।