বিতির নামায পড়তে পড়তে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে গেলে করণীয় কি? কাপড়ে সাদা স্রাব লেগে থাকা অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 4659
Questioner: Tauhida Tina
Question Asked: 31 Aug 2026, 04:43 AM
Reviewed & Published: 31 Aug 2026, 05:21 AM
Views: 21
Tokens: 2,232
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১.বেতর নামাজ পড়তে পড়তে ৩ রাকাতে গিয়ে ফজর ওয়াক্ত হয়ে গেলে।এই নামাজ কি পুনরায় কাযা আদায় করতে হবে?

২.সেলোয়ারে সাদা স্রাব লেগে থাকা অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা।

Answer

উত্তর


১. বেতর নামাজ পড়তে পড়তে ৩ রাকাতে গিয়ে ফজর ওয়াক্ত হয়ে গেলে করণীয়

উত্তর: যদি কেউ বেতরের নামাজ শুরু করার পর (অর্থাৎ তাশাহহুদের পর) তৃতীয় রাকাতে গিয়ে ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যায়, তাহলে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে পুনরায় (কাযা হিসেবে) বেতরের নামাজ আদায় করতে হবে না। বরং ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেলে বেতরের নামাজ আর আদায় করা যায় না, কারণ বেতরের সময় হলো এশার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত।

তবে যদি ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার আগেই তৃতীয় রাকাতের সিজদা সম্পন্ন করে ফেলে, তাহলে নামাজ সহীহ হয়ে যাবে এবং তা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যদি ফজরের ওয়াক্ত ঢুকে যাওয়ার পরও নামাজ চলতে থাকে, তাহলে সেই নামাজ বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় আদায় করার প্রয়োজন নেই (কারণ বেতরের সময় শেষ হয়ে গেছে)। তবে যদি সে ভুলে ফজরের পর বেতর পড়ে ফেলে, তাহলে তা আদায় হবে না এবং কাযা ওয়াজিব হবে না (কারণ বেতর ওয়াজিব, কিন্তু ফজরের পর তার কাযা নেই)।

দলিল:

  • বেতরের নামাজের সময় হলো এশার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত। ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলে বেতরের সময় শেষ হয়ে যায়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১০৮; রদ্দুল মুহতার, ২/৪৮০)
  • যদি কেউ ফজরের ওয়াক্তের পর বেতর পড়ে, তবে তা আদায় হবে না, এবং কাযা করতেও হবে না। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/২৮০)

সারকথা: আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত অবস্থায় (৩ রাকাতে গিয়ে ফজর হয়ে গেলে) নামাজ বাতিল হয়ে যাবে, কিন্তু পুনরায় কাযা আদায় করতে হবে না। কারণ বেতরের সময় শেষ হয়ে গেছে। তবে ফজরের নামাজ যথাসময়ে আদায় করবেন।


২. সেলোয়ারের সাথে সাদা স্রাব লেগে থাকা অবস্থায় কুরআন পড়া

উত্তর: সেলোয়ারের সাথে সাদা স্রাব (যা সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে "রুতুবাতুল ফারজ" বা ভেজা ভাব হিসেবে পরিচিত) লেগে থাকা অবস্থায় কুরআন পড়া জায়েজ আছে, তবে শর্ত হলো সেই স্রাব যদি পবিত্র হয় (অর্থাৎ এটি যদি মযী বা বীর্য না হয়, বরং সাধারণ ভেজা ভাব বা সাদা স্রাব যা পবিত্র হিসেবে গণ্য)।

তবে যদি সেই স্রাব নাপাক (যেমন: মযী, বীর্য, বা মাসিকের রক্ত) হয়, তাহলে তা শরীর বা কাপড়ে লেগে থাকা অবস্থায় কুরআন পড়া জায়েজ নয়। কারণ কুরআন পড়ার জন্য পবিত্রতা (শরীর ও কাপড় পবিত্র থাকা) শর্ত।

বিস্তারিত:

  • ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, মেয়েদের যে সাদা স্রাব সাধারণত নির্গত হয় (যাকে "রুতুবাতুল ফারজ" বলা হয়), তা পবিত্র বলে গণ্য। তাই এটি কাপড়ে লেগে থাকলে নামাজ বা কুরআন পড়া জায়েজ। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪০)
  • তবে যদি স্রাবটি নাপাক হয় (যেমন: মাসিকের রক্ত, মযী, বা বীর্য), তাহলে তা কাপড়ে লেগে থাকা অবস্থায় কুরআন পড়া হারাম। (সূরা ওয়াকিয়া: ৭৯; তাফসিরে মা'রিফুল কুরআন, ৮/২৩৪)

সারকথা: সেলোয়ারে সাদা স্রাব লেগে থাকা অবস্থায় কুরআন পড়া জায়েজ আছে, যদি স্রাবটি পবিত্র হয় (যা সাধারণত হয়ে থাকে)। তবে যদি নাপাক স্রাব হয়, তাহলে তা পরিষ্কার করে তারপর কুরআন পড়বেন।


আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.