আউয়াল ওয়াক্ত বলতে কি?
Salah-Prayer · Hanafi
Question No:
4658
Questioner:
Antara
Question Asked:
31 Aug 2026, 04:41 AM
Reviewed & Published:
31 Aug 2026, 05:01 AM
Views:
14
Tokens:
5,298
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম।
ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আযান এর অপেক্ষা না করে আউয়াল ওয়াক্তে নামাজ পড়ে নিলে কি আল্লাহ খুশি হন?
আল্লাহ অনেক বেশি খুশি হন কোন কোন কাজে?
আমি তাওবা করি আল্লাহকে কথা দেই যে পাপ করবো না কিন্তু আবার সেই পাপ করি। আমি যদি আমার তওবা করি আল্লাহ কি আমার তওবা কবুল করবে?
আমার খালি মনে হয় এতবার ওয়াদা খেলাপ করেছি আল্লাহর কাছে আবার কোন মুখে তওবা করবো।আমি যদি আবার ওয়াদা খেলাপ করি।
সালাতুল দুহার নামাজ কয়টার দিকে পড়া উত্তম? সালাতুল দুহার নামাযে কি মনের আশা পূরণ হয়?
সুরা বাকারাহ আমি পরতে পারি না প্রথম ৮ আয়াত আর শেষের তিন আয়াত পড়তে পারি। আমি যদি বার বার এই আয়াতগুলোই দিবে কয়েকবার তিলওয়াত করি তবে আল্লাহ কি আমার জীবনে বারাকাহ দিবে? নাকি পুরোটা পড়লে বারাকাহ দিবে?
ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আযান এর অপেক্ষা না করে আউয়াল ওয়াক্তে নামাজ পড়ে নিলে কি আল্লাহ খুশি হন?
আল্লাহ অনেক বেশি খুশি হন কোন কোন কাজে?
আমি তাওবা করি আল্লাহকে কথা দেই যে পাপ করবো না কিন্তু আবার সেই পাপ করি। আমি যদি আমার তওবা করি আল্লাহ কি আমার তওবা কবুল করবে?
আমার খালি মনে হয় এতবার ওয়াদা খেলাপ করেছি আল্লাহর কাছে আবার কোন মুখে তওবা করবো।আমি যদি আবার ওয়াদা খেলাপ করি।
সালাতুল দুহার নামাজ কয়টার দিকে পড়া উত্তম? সালাতুল দুহার নামাযে কি মনের আশা পূরণ হয়?
সুরা বাকারাহ আমি পরতে পারি না প্রথম ৮ আয়াত আর শেষের তিন আয়াত পড়তে পারি। আমি যদি বার বার এই আয়াতগুলোই দিবে কয়েকবার তিলওয়াত করি তবে আল্লাহ কি আমার জীবনে বারাকাহ দিবে? নাকি পুরোটা পড়লে বারাকাহ দিবে?
Answer
উত্তর
১. ওয়াক্ত হওয়ার পর আযানের অপেক্ষা না করে নামায পড়ার বিধান:
- নামাযের জন্য ওয়াক্ত হওয়া শর্ত: নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য আযান হওয়া শর্ত নয়, বরং ওয়াক্ত (সময়) হওয়া শর্ত । যদি আপনি সুনিশ্চিত হন যে নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গেছে, তবে আযানের অপেক্ষা না করে নামায পড়ে নিলে আপনার নামায সম্পূর্ণ সহীহ হয়ে যাবে । তবে মুস্তাহাব ওয়াক্ত হল, আজানের পর।তাই আজানের পর নামায পড়া মুস্তাহাব। এদ্বারাও পরিপূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে।
- মহিলাদের জন্য উত্তম সময়: মহিলাদের জন্য মুস্তাহাব বা উত্তম হলো— মসজিদে যখন নামাযের ওয়াক্ত হয়,তথা আজানের পর।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা ৬৪ (নামাযের রুকন ও শর্তাবলী) [৬৯০]।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৪৯-৫০ [২৫৯] এবং পৃষ্ঠা ৬৮১ [৬৮১]।
২. আল্লাহ তা'আলা কোন কাজে সবচেয়ে বেশি খুশি হন?
- সঠিক সময়ে নামায: আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দার সময়মতো নামায আদায় করার কাজে অত্যন্ত খুশি হন।
- তওবা ও ইস্তিগফার: আল্লাহ তা'আলা তাঁর গোনাহগার বান্দার তওবা ও লজ্জিত হওয়াকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন । হাদীসে কুদসীতে এসেছে— "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা কোনো বান্দার তওবায় মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট ফিরে পাওয়া ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন"।
- জিকির ও দরূদ শরীফ: নিয়মিত দরূদ শরীফ পাঠ এবং আল্লাহর জিকির করা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম ।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৪র্থ খণ্ড): পৃষ্ঠা ৭৭ (তওবার মাসায়েল) [৫৯৮]।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ৪২৭ [৬৪২]।
৩. তওবা ভঙ্গ হওয়া এবং বারবার তওবা করার বিধান:
- নিরাশ হবেন না: তওবা করে পুনরায় গুনাহে লিপ্ত হওয়া শয়তানি চক্রান্ত। এতে নিরাশ হয়ে তওবা ছেড়ে দেওয়া যাবে না । আপনার মনে যে লজ্জা ও অনুশোচনা কাজ করছে, এটিই আপনার জীবন্ত ঈমানের বড় প্রমাণ।
- তওবা কবুল হবে কি? হ্যাঁ, আপনি যদি প্রতিটি তওবার সময় এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন যে— "আমি আর এই গুনাহ করবো না"—তবে আল্লাহ আপনার তওবা কবুল করবেন । প্রতিবার গুনাহ করার পর পুনরায় লজ্জিত হয়ে তওবা করা ওয়াজিব। আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত দয়াবান, তিনি তওবাকারীকে ভালোবাসেন।
- ওয়াসওয়াসা দূর করুন: শয়তান আপনার মনে এই ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে যে— "কোন মুখে তওবা করবো"—যাতে আপনি তওবা থেকে দূরে সরে যান। এই কুমন্ত্রণা উপেক্ষা করে প্রতিবারই নতুন করে তওবা করুন ।
- আমল: মনের অস্থিরতা কাটাতে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ বার দরূদ শরীফ এবং ৫০০ বার ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পাঠ করার চেষ্টা করুন।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৯৫-১৯৬ [১৯, ২০]।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৪১৮ (ওয়াসওয়াসার সমাধান) ।
৪. সালাতুত দুহা (চাশত)-এর সময় ও উপকারিতা:
- উত্তম সময়: সালাতুত দুহা বা চাশতের নামাযের সময় শুরু হয় সূর্য ভালোভাবে উঠার পর (ইশরাকের পর) থেকে নিয়ে দুপুরে সূর্য মাথার উপর আসার (যাওয়াল) আগ পর্যন্ত । তবে দিনের এক-চতুর্থাংশ অতিবাহিত হওয়ার পর (সকাল ১০টা-১১টার দিকে) পড়া সবচেয়ে উত্তম ।
- ফজিলত ও মনের আশা: এই নামাযের বিশেষ ফজিলত হলো— এটি মানুষের শরীরের প্রতিটি হাড়ের ও জোড়ের 'সাদকা' হিসেবে গণ্য হয় [৫৩৭]। যে ব্যক্তি নিয়মিত এই নামায আদায় করে আল্লাহ তার যাবতীয় নেক মাকসাদ বা আশা পূরণ করেন এবং তাকে রিজিকের স্বচ্ছলতা দান করেন ।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা ১১৪ [৭০২]।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২২শ খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৯৫ [৬৬৫]।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ৩৯১ [৫৩৭]।
৫. সূরা বাকারাহ-এর আংশিক তিলাওয়াত ও বারাকাহ:
- অবশ্যই বারাকাহ আসবে: সূরা বাকারাহ-এর প্রথম ৮ আয়াত এবং শেষ ৩ আয়াত (আমানার রাসূলু...) অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ । আপনি যেহেতু পুরোটা পড়তে পারছেন না, তাই যতটুকু পারেন তা বারবার তিলাওয়াত করলে আল্লাহ অবশ্যই আপনার জীবনে এবং ঘরে রহমত ও বারাকাহ দান করবেন [৬৪০]।
- চেষ্টা অব্যাহত রাখুন: যতটুকু পারেন তা শ্রদ্ধার সাথে তিলাওয়াত করুন এবং বাকি অংশটুকু শেখার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন । নিয়মিত 'আয়াতুল কুরসী' পাঠ করারও চেষ্টা করুন, যা ঘরে বরকত ও শয়তান থেকে সুরক্ষার জন্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা ৮৫ [৬৯৮]।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৯ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১০৮ [৬৪০]।
সারকথা: আপনি সুনিশ্চিত ওয়াক্ত হওয়ার পর আযানের আগে নামায পড়লেও আল্লাহ খুশি হবেন তবে আজানের পর পড়া মুস্তাহাব । তওবা বারবার ভেঙে গেলেও নিরাশ না হয়ে পুনরায় তওবা করুন । চাশতের নামায সকাল ১০টা-১১টার দিকে পড়ার চেষ্টা করুন । আর সূরা বাকারাহ-এর যতটুকু পারেন তা তিলাওয়াত করলে আপনি অবশ্যই আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ করবেন ।