সফর,নারীর স্বলাত...

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 4615
Questioner: Nadiyah Alam
Question Asked: 29 Aug 2026, 06:41 PM
Reviewed & Published: 29 Aug 2026, 07:01 PM
Views: 33
Tokens: 3,704
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু 'আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ্।নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় সপ্তাহ দশদিনের মতো বা তার বেশিও হতে পারে (জানি না এখনও)
থাকা লাগবে।সফররত অবস্থায় কসরের স্বলাত আদায় করা লাগবে?
ফজর ও মাগরিব স্বাভাবিক নিয়্যাতে পড়তে হয়?
অন্য ওয়াক্তের স্বলাতে দুইরাকাত করে পড়া লাগবে? সেক্ষেত্রে নিয়্যাত কেমন হবে?
বাসে-ট্রেনে থাকাবস্থায় ওয়াক্ত হলে স্বলাত আদায়ের নিয়ম কী?
সেই স্বলাত কি ঘরে গিয়ে পুনরায় কাযা হিসেবে আদায় করতে হয়?
জাযাকুমুল্লাহু খইরন

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন: শরীয়তের দৃষ্টিতে "মুসাফির" (সফররত) কাকে বলে?


১. মুসাফিরের সংজ্ঞা ও সফরের দূরত্ব

হানাফি মাযহাব মতে, যে ব্যক্তি নিজ এলাকা (বাসস্থান) ছেড়ে ৭৮ কিলোমিটার (প্রায় ৪৮ মাইল) বা তার বেশি দূরত্বে সফর করার নিয়ত করে, সে শরীয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির বলে গণ্য হবে। তবে শর্ত হলো, সফরকাল ১৫ দিনের কম হতে হবে।

  • ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করলে সে মুকিম (স্থানীয়) হিসেবে গণ্য হবে এবং পূর্ণ নামাজ পড়বে।
  • ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে সে মুসাফির হিসেবে কসর (সংক্ষিপ্ত) নামাজ পড়বে।

আপনি যেহেতু জানেন না যে ঠিক কতদিন থাকতে হবে, তাই আপনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন। আর যদি পরে মনে হয় ১৫ দিন বা তার বেশি থাকতে হবে, এবং নিয়ত করেন, তাহলে সেদিন থেকে পূর্ণ নামাজ পড়তে হবে।


২. কসর নামাজের নিয়ম

মুসাফিরের জন্য ফরজ নামাজ চার রাকাতবিশিষ্ট (যোহর, আসর, এশা) দুই রাকাত করে পড়া ফরজ। এটি কসর নামাজ।

  • ফজর ও মাগরিবের নামাজ কসর হবে না – এগুলো পূর্ণ পড়তে হবে।
  • বিতর নামাজও পূর্ণ পড়তে হবে (কারণ এটি ওয়াজিব)।
  • সুন্নত ও নফল নামাজ সময় সুযোগ থাকলে মুসাফির অবস্থায় সুন্নত নফল পড়া উত্তম। তবে সুন্নত বা নফলে কোনে কসর নেই।

নিয়তের নিয়ম:
কসর নামাজের নিয়ত সাধারণ নামাজের মতোই হবে, তবে মনে মনে "কসর" বা "সংক্ষিপ্ত" করার নিয়ত করা জরুরি নয়। শুধু "ফরজ নামাজ আদায় করছি" এই নিয়তই যথেষ্ট। যেমন:

"নিয়ত করলাম দুই রাকাত ফরজ যোহর নামাজ কিবলামুখী হয়ে, আল্লাহু আকবার।"


৩. বাসে-ট্রেনে নামাজ পড়ার নিয়ম

যদি বাস বা ট্রেনে থাকা অবস্থায় নামাজের সময় হয় এবং গাড়ি থামানো সম্ভব না হয়, তাহলে:

  • গাড়িতে বসেই নামাজ পড়া যাবে, তবে কিবলামুখী হয়ে।
  • গাড়ির দিক পরিবর্তন হলে নামাজের মধ্যে কিবলার দিকে মুখ ফেরানো যাবে।
  • সিজদা করার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সিজদা করবেন, তবে মাটিতে সিজদা করা সম্ভব না হলে ইশারা (ইঙ্গিত) দিয়ে সিজদা করবেন।
  • বসে নামাজ পড়লে রুকু ও সিজদা ইশারায় করবেন। যদি ‍কিবলামুখী হয়ে বা দাড়িয়ে কিংবা নিয়ম অনুযায়ী রুকু সিজদা করে নামায পড়া সম্ভব না হয়, তাহলে যেভাবে সম্ভব নামায পড়া হবে এবং পরবর্তীতে গাড়ী থেকে নেমে নামাযকে পূনরায় আদায় করতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

  • যদি গাড়ি থামানো সম্ভব হয় এবং নিরাপদ স্থান পাওয়া যায়, তাহলে গাড়ী থেকে নেমে নামাজ পড়া উত্তম।
  • যদি সময় সংকীর্ণ হয় এবং গাড়ি না থামে, তাহলে উপরের নিয়মে নামাজ পড়ে নেবেন।

৪. পুনরায় কাযা করার প্রয়োজন নেই

মুসাফির অবস্থায় কসর নামাজ পড়লে তা সঠিক ও যথেষ্ট। ঘরে ফিরে এসে সেই নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না। তবে যদি কোনো কারণে নামাজ ছুটে যায় বা ভুলভাবে পড়া হয়, তাহলে কাযা করতে হবে।


৫. গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

  • মুসাফির অবস্থায় ইমামের পিছনে নামাজ পড়লে (যদি ইমাম মুকিম হন) তাহলে মুসাফিরকে পূর্ণ ৪ রাকাত পড়তে হবে।
  • মুসাফির অবস্থায় জুমার নামাজ পড়লে তা যথেষ্ট হবে এবং যোহরের পরিবর্তে জুমা গণ্য হবে।
  • নফল নামাজ মুসাফির অবস্থায় পড়া যায়, তবে চার রাকাতের সুন্নত দুই রাকাত পড়া উত্তম।

৬. আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর

১. সফর অবস্থায় কসর নামাজ পড়া লাগবে?
– হ্যাঁ, যদি সফরের দূরত্ব ৭৮ কিমি বা তার বেশি হয় এবং ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত থাকে।

২. ফজর ও মাগরিব কি পূর্ণ পড়তে হবে?
– হ্যাঁ, ফজর ও মাগরিব কসর হয় না, পূর্ণ পড়তে হবে।

৩. অন্য ওয়াক্তের নামাজ কি দুই রাকাত করে পড়তে হবে?
– হ্যাঁ, যোহর, আসর ও এশা দুই রাকাত করে পড়তে হবে। নিয়ত সাধারণ নামাজের মতোই হবে।

৪. বাসে-ট্রেনে নামাজের নিয়ম কী?
– কিবলামুখী হয়ে বসে ইশারায় রুকু-সিজদা করে নামাজ পড়বেন।

৫. ঘরে ফিরে পুনরায় কাযা করতে হবে?
– না, কসর নামাজ সঠিকভাবে পড়লে পুনরায় পড়তে হবে না।


দলিল:

  • কুরআন: "আর যখন তোমরা পৃথিবীতে সফর কর, তখন তোমাদের উপর নামাজ কসর করার কোনো দোষ নেই..." (সূরা আন-নিসা: ১০১)
  • হাদিস: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, "রাসূলুল্লাহ (সা.) সফর অবস্থায় নামাজ কসর করতেন।" (বুখারি ও মুসলিম)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া উসমানি প্রভৃতি হানাফি কিতাবে উল্লেখ আছে।

আল্লাহ তাআলা আপনার সফরকে সহজ করুন এবং নামাজ কবুল করুন।

জাযাকুমুল্লাহু খইরন


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.